আবু আমর ইবনে আলওয়ান একদিন একটা কাজে ‘আর-রাহবাহ’ বাজারে গেলেন। সেখানে একটা জানাজা দেখলেন। ভাবলেন, জানাজার নামাজ পড়ে দাফন পর্যন্ত থাকবেন। সওয়াব হবে।

জানাজার সাথে হাঁটছিলেন। এমন সময় হঠাৎ তাঁর চোখ পড়ল একজন বেপর্দা মহিলার ওপর। অনিচ্ছায়ই চোখ পড়েছিল। কিন্তু তারপর তিনি বারবার সেদিকে তাকাতে লাগলেন।

হঠাৎ তাঁর হুঁশ এলো। ‘এই আমি কী করছি!’ তিনি মনে মনে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়লেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন। মন খারাপ করে বাড়ি ফিরলেন।

বাড়িতে ঢুকতেই একজন বৃদ্ধা তাঁকে দেখে বললেন, “হে আমার কর্তা, কী হলো, আপনার চেহারা এমন কালো দেখাচ্ছে কেন?”

আবু আমর চমকে উঠলেন। আয়না নিয়ে নিজের দিকে তাকালেন। দেখলেন সত্যিই! তাঁর চেহারা কালো হয়ে গেছে!

তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। মনে মনে ভাবলেন, ‘এই বিপদ কোথা থেকে এলো?’ তারপর মনে পড়ল সেই বেপর্দা মহিলার দিকে বারবার তাকানোর কথা।

‘এটাই আমার গুনাহ!’ তিনি বুঝতে পারলেন।

এরপর আবু আমর একা একটা জায়গায় গিয়ে চল্লিশ দিন ধরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে লাগলেন। তওবা করতে লাগলেন। কিন্তু চেহারা আগের মতো হলো না।

চল্লিশ দিন পর তাঁর মন তাঁকে বলল— ‘তোমার পীর জুনাইদ বাগদাদি (রহ.) এঁর কাছে চলে যাও।’

তিনি রওনা হলেন বাগদাদের উদ্দেশ্যে। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছালেন পীরের হুজরার সামনে। দরজায় টোকা দিলেন।

ভেতর থেকে জুনাইদ (রহ.) এর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো— “এসো হে আবু আমর, তুমি ‘আর-রাহবাহ’তে গুনাহ করো, আর আমি বাগদাদে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি!”

আবু আমর শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলেন। পীর জুনাইদ জানেন! তিনি জানেন কোথায়, কখন, কী হয়েছে! আর তিনি এতদিন ধরে তাঁর জন্য দোয়া করে যাচ্ছেন!

আবু আমর কাঁদতে কাঁদতে ভেতরে ঢুকলেন। কদমে নুয়ে পড়লেন।