রাত গভীর। তরুণ জুনাইদ বাগদাদের শায়খ সাররি আস-সাকতির খানকায়  এক কোণে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।

হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন কেউ তাঁকে ধীরে ধীরে নাড়া দিচ্ছে। চোখ খুলে দেখেন, শায়খ সাররি আস-সাকতি তাঁর পাশে বসে আছেন।

“হে জুনাইদ, জাগো। আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি।”

জুনাইদ উঠে বসলেন। শায়খ সাররি শুরু করলেন, “আমি যেন স্বপ্নে আল্লাহ তায়ালার সামনে উপস্থিত হয়েছিলাম। তিনি আমাকে বললেন— ‘হে সাররি, আমি যখন সৃষ্টিকে সৃষ্টি করলাম, তখন তারা সকলেই আমার ভালোবাসার দাবি করল। তারপর আমি দুনিয়া সৃষ্টি করলাম। তখন তাদের দশ ভাগের নয় ভাগই আমার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, আর মাত্র এক ভাগ আমার সাথে রইল।

এরপর আমি জান্নাত সৃষ্টি করলাম। তখন সেই এক-দশমাংশেরও দশ ভাগের নয় ভাগ জান্নাতের লোভে আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেল। কেবল এক-দশমাংশের এক ভাগ আমার সাথে রইল।

তারপর আমি তাদের ওপর এক কণা পরিমাণ বিপদ নাজিল করলাম। তাতেও সেই সামান্য দলটির নয় ভাগ আমাকে ছেড়ে পালিয়ে গেল।

অবশেষে যারা রইল, তাদের আমি জিজ্ঞেস করলাম— ‘তোমরা তো দুনিয়া চাওনি, জান্নাতও চাওনি, আবার জাহান্নাম থেকেও পালাতে চাওনি। তাহলে তোমরা আসলে কী চাও?’

তারা বলল— ‘আপনিই জানেন আমরা কী চাই।’

আমি বললাম— ‘আমি তোমাদের ওপর তোমাদের নিঃশ্বাসের সমান পরীক্ষা নাজিল করব। এমন পরীক্ষা, যা বিশাল পর্বতও সহ্য করতে পারবে না। তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে?’

তারা উত্তর দিল— ‘যদি আপনিই আমাদের পরীক্ষাকারী হন, তবে আপনার ইচ্ছামতো করুন।’

শায়খ সাররি থামলেন। তারপর আস্তে বললেন, “তখন আল্লাহ বললেন— এরাই আমার প্রকৃত বান্দা।”

জুনাইদ বাগদাদি নীরবে বসে রইলেন। বুঝতে পারলেন— প্রকৃত প্রেমিক তারাই, যারা কেবল আল্লাহকেই চায়, তাঁর দান নয়।