১. তাঁকে ওয়াফা তথা আনুগত্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন, “তা হলো মুখের কথায় ইখলাস এবং অন্তরের গোপন বিষয়াদিকে সত্য দ্বারা পরিপূর্ণ করা।”
২. তাসাউফ মানে হলো অন্তরের মধ্যে মিলন ও একে-অপরের প্রতি সহমর্মিতা।
৩. তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘মানুষ কখন সত্যিকারের মুরিদ হয়?’ তিনি বললেন, “যখন তার অবস্থা সমান থাকে— যাত্রা ও অবস্থানে, প্রকাশ্য ও গোপনে।”
৪. তোমরা তোমাদের মধ্যে নিচে অবস্থিত, আর আমি আমার মধ্যে উপরে অবস্থিত। এতে আল্লাহর কাছে মনোভাব ও অবস্থার পার্থক্য নির্দেশ করা হয়েছে।
৫. যে আল্লাহকে চিনতে পেরেছে, সবকিছুই তার কাছে নতি স্বীকার করে; কারণ সে তাতে আল্লাহর রাজত্বের প্রভাব স্বচক্ষে দেখেছে।
৬. তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘কী দ্বারা হাওয়া (নফসের কামনা) দমন করা যায়?’ তিনি বলেন, “স্বভাবের সাধনা এবং পর্দা উন্মোচন। অর্থাৎ, নফসকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং হৃদয়ের পর্দা সরিয়ে সত্যকে দেখা।”
৭. তোমার উদ্দেশ্য যেন তোমার সাথেই থাকে, তা যেন সামনেও না যায় এবং পিছনেও না আসে। অর্থাৎ, অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে বর্তমান মুহূর্ত এবং আল্লাহর সাথে তোমার যে অবস্থা, তাতে স্থির থাকো।
৮. আরেফিনদের জন্য চোখের পলকের সমপরিমাণ সময় আল্লাহ থেকে অন্যমনস্ক হওয়াও আল্লাহর সাথে শিরক করার শামিল।
৯. আল্লাহর সামনে দুঃখিত থাকার চেয়ে আল্লাহর প্রতি আনন্দিত থাকা উত্তম।
১০. হকের অনুসারীদের অন্তর মারিফাতের ডানা মেলে তাঁর দিকে উড়ে যায় এবং মহব্বতের মিত্রতার মাধ্যমে তাঁর দিকে সুসংবাদ লাভ করে।
১১. স্বাধীনতা হলো একমাত্র হৃদয়ের স্বাধীনতা, অন্য কিছু নয়।
১২. যে ব্যক্তি সৃষ্টিকর্তা থেকে সৃষ্টবস্তু দ্বারা আড়াল হয়েছে, সে তার মতো নয়, যে সৃষ্টবস্তু থেকে সৃষ্টিকর্তা দ্বারা আড়াল হয়েছে। আর যাকে তাঁর কুদসের (পবিত্রতার) আলো তাঁর আনন্দের দিকে আকর্ষণ করেছে, সে তার মতো নয়, যাকে তাঁর রহমতের আলো তাঁর ক্ষমার দিকে আকর্ষণ করেছে।১
১৩. তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘সর্বাধিক বিস্ময়কর জিনিস কী?’ তিনি উত্তর দিলেন, “একটি হৃদয়; যা তার রবকে চিনে, তারপরও তাঁর অবাধ্য হয়।”
১৪. নফসের সাথে নফসকে লড়াই করানো— অন্যের সাথে লড়াই করার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।”
১৫. তুমি নিজের ওপর নিরাপদ হতে পারো না; যদিও পানির ওপর দিয়ে হাঁটো। নিরাপদ হবে তখনই, যখন প্রতারণার ঘর (দুনিয়া) থেকে আশার ঘরে (আখিরাত) চলে যাবে।”
১৬. যখন দেখবে তোমার হৃদয় আল্লাহর সঙ্গে, তখন নিজের নফস থেকে সাবধান হও। আর যখন দেখবে তোমার হৃদয় নিজের নফসের দিকে, তখন আল্লাহ থেকে সাবধান হও।
১৭. যে আল্লাহকে চিনেছে, তার জন্য কোনো দুঃখ থাকে না।
১৮. মানুষ আপনাকে ভালোবাসে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য; আর আমি আপনাকে ভালোবাসি আপনার দেওয়া পরীক্ষা-বিপদের জন্য।
১৯. অন্ধ ব্যক্তি জাহরার সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারে না, সে শুধু তাকে স্পর্শ করে। তেমনি, জাহিল ব্যক্তি আল্লাহকে চিনতে পারে না, সে শুধু জিহ্বায় তাঁর নাম উচ্চারণ করে।২
২০. উচ্চ হিম্মতওয়ালা ব্যক্তি কোনোকিছুরই তোয়াক্কা করে না। আর যার ইরাদা (নির্দিষ্ট লক্ষ্য) আছে, সে অবশ্যই কোনো না কোনো কিছুর ব্যস্ততায় পড়ে থাকে।
২১. হিম্মত কেবল আল্লাহর জন্য; তাঁর ছাড়া অন্য কিছুকে লক্ষ্য বানানো হিম্মত নয়।
২২. কল্পনায় ভেবেছ, চিন্তায় ধরেছ, বুদ্ধিতে উপলব্ধি করেছ; সবই তোমাদের দিকে ফেরত যায়; এগুলো সৃষ্টি ও বানানো জিনিস—আল্লাহর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
২৩. যে বলে— আল্লাহকে অভ্যাস দিয়ে চেনা যায়, সে মূর্খ। যে বলে— আল্লাহকে আকস্মিকতা বা ঘটনাচক্রে পাওয়া যায়, সে নির্বোধ। আর যে বলে— আমি আল্লাহর খাতিরে একনিষ্ঠ; তার একনিষ্ঠতার মধ্যেও শিরকের বাসা থাকে।
২৪. যে বলে আল্লাহ এমন এক সত্য, যাকে আমরা বাহ্যিক বাস্তবতা দিয়ে বুঝি, সে আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ। যে বলে আমি ওই বাস্তবতা আঁকড়ে আল্লাহকে ধরেছি, সে তাঁর ‘আদি সত্তা’ সম্পর্কে অজ্ঞ, যতক্ষণ পর্যন্ত সে এ কথা না বলে: ‘আল্লাহকে আল্লাহর মাধ্যমেই জানা যায়।
২৫. রুহগুলো সূক্ষ্ম হয়ে যায়; সত্যের দংশনে যখন চেতন হয়, তখন সত্য ছাড়া আর কোনো উপাস্যকে দেখতেই পায় না। তারা নিশ্চিত হয়ে যায়— সৃষ্ট জিনিস সীমাবদ্ধ গুণাবলি দিয়ে কখনোই চিরন্তন সত্তাকে উপলব্ধি করতে পারে না। যখন ‘হক’ তাকে পরিশুদ্ধ করেন, তখন তিনিই তাকে নিজের দিকে পৌঁছে দেন; বান্দা নিজে গিয়ে পৌঁছায় না।
২৬. সৃষ্টিকুল জ্ঞানের মধ্যে হারিয়ে গেছে; জ্ঞান নামের ভেতর হারিয়েছে; আর নাম সত্তার ভেতর হারিয়ে গেছে।৩