১. যদি কোনো মানুষ দুইশ বছর বেঁচে থাকে, কিন্তু এই চারটি বিষয় না জানে, তবে সে মুক্তি পাবে না।

ক. আল্লাহকে চেনা।

খ. নিজেকে চেনা।

গ. আল্লাহর হুকুম ও নিষেধকে চেনা।

ঘ. আল্লাহর শত্রু ও নিজের নফসের শত্রুকে চেনা।

২. মুমিনের দৃষ্টান্ত হলো এমন এক ব্যক্তি, যে একটি খেজুর গাছ রোপণ করেছে, কিন্তু ভয় করে যে এটি কাঁটা ফল দেবে! আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হলো এমন এক ব্যক্তি, যে কাঁটা রোপণ করেছে, কিন্তু আশা করে যে এটি মিষ্টি খেজুর ফল দেবে! কী দূরাশা!

৩. আমার কাছে অতিথির চেয়ে প্রিয় কিছু নেই; কারণ তার রিজিক আল্লাহর উপর, আর তার আতিথেয়তার সওয়াব আমার জন্য।

৪. তাওবার নিদর্শন হলো অতীতের পাপের জন্য কান্না, পুনরায় পাপে পতিত হওয়ার ভয়, খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করা এবং ভালো লোকদের সাহচর্য অবলম্বন করা।

৫. যে ব্যক্তি বিপদে পড়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে অভিযোগ করে, সে কখনো ইবাদতের মিষ্টতা অনুভব করবে না।১

৬. বুদ্ধিমান ব্যক্তি তিনটি ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করে না। প্রথমত তিনি পূর্বে করা পাপের জন্য ভয় করে। দ্বিতীয়ত তিনি জানেন না পরের মুহূর্তে তার ওপর কী নেমে আসবে। তৃতীয়ত তিনি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে ভয় পান, জানেন না কীভাবে তার সমাপ্তি হবে।”  সতর্ক থাক, যাতে তুমি দুনিয়ার কারণে ধ্বংস না হও এবং তুমি নিজের রিজিক নিয়ে চিন্তা করো না যে কেউ তা তোমার পরিবর্তে পাবে। মৃত্যুর সময় প্রস্তুত থাকো, মৃত্যুর পরে ফিরে আসার ব্যাপারে প্রশ্ন করো না। তাওয়াক্কুল মানে তোমার হৃদয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতিতে নিশ্চিন্ত হওয়া। মানুষের তাকওয়া তিনটি বিষয়ে প্রকাশ পায়— গ্রহণে (নিজের জন্য নেওয়া), বিরতিতে (অনিচ্ছাকৃত বা নিষিদ্ধ জিনিস থেকে বিরত থাকা) এবং কথায় (বক্তব্যে সতর্ক থাকা)।

৭. মানুষের মাঝে অধঃপতন ছয়টি কারণে প্রবেশ করেছে।

ক. পরকালের কাজে নিয়্যতের দুর্বলতা।

খ. তাদের দেহ তাদের কামনার বন্দি হয়ে গেছে।

গ. দীর্ঘ আশা তাদের মেয়াদ (মৃত্যুর সময়) সম্পর্কে চিন্তা করার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে।

ঘ. তারা নিজেদের ইচ্ছা অনুসরণ করেছে এবং তাদের রসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহকে পিছনে ফেলে দিয়েছে।

ঙ. তারা মানুষের সন্তুষ্টিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উপর অগ্রাধিকার দিয়েছে।

চ. তারা পূর্বপুরুষদের ত্রুটি ও ভুলকে নিজের ধর্ম ও গুণের সমরূপ মনে করেছে।

৮. যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে তার জ্ঞান যাচাই করতে চায়, সে যেন তাকিয়ে দেখে— আল্লাহ তাকে কীসের ওয়াদা দিয়েছেন এবং মানুষ তাকে কীসের ওয়াদা দিয়েছে; তার অন্তর কোনটির প্রতি বেশি আস্থাশীল?

৯. তুমি যা দাও এবং তোমাকে যা দেওয়া হয়, তার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করো। যদি যে তোমাকে দেয়, সে তোমার কাছে বেশি প্রিয় হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তুমি দুনিয়াকে ভালোবাসো। আর যদি তুমি যাকে দাও, সে তোমার কাছে বেশি প্রিয় হয়, তাহলে তুমি আখেরাতকে ভালোবাসো।

১০. ধনী মানুষের প্রতি সাবধান হও। কারণ যদি তুমি তাদের সঙ্গে হৃদয় মিলাও এবং তাদের প্রতি লোভী হও, তবে তুমি তাদেরকে আল্লাহর স্থলে প্রভু মেনে নিয়েছ।

১১. যদি তুমি শান্তিতে থাকতে চাও, তবে যা পাও তা গ্রহণ কর, যা পাও তা পরিধান কর, এবং আল্লাহ যা তোমার জন্য নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাক।

১২. যে ব্যক্তি উচ্চতার (গর্ব, অহংকার) চারপাশে ঘোরে, সে কেবল আগুনের চারপাশে ঘোরে। যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির (শাহওয়াতের) আশেপাশে ঘোরাফেরা করে, সে যেন তার জান্নাতের স্তরগুলোকে দুনিয়াতে ভোগ করার জন্য ঘুরছে।২

১৩. তুমি মানুষের সাথে এমনভাবে মিশে থাকো, যেমনভাবে তুমি আগুনের সাথে থাকো। তার উপকার গ্রহণ করো, কিন্তু সাবধান, যেন সে তোমাকে পুড়িয়ে না দেয়।৩

১৪. মুহাম্মদ ইবনে শাকিক ইবনে ইবরাহিম আল-বালখি এবং হাতিম আল-আসম দুজনই বলেছেন, শাকিকের দুটি উপদেশ ছিল। যদি কোনো আরব ব্যক্তি তাঁর কাছে আসত, তখন তিনি তাকে আরবিতে উপদেশ দিতেন— ‘তুমি তোমার অন্তর, জিহ্বা ও ঠোঁট দ্বারা আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করো।’ ‘তোমার হাতে যা আছে তার চেয়ে আল্লাহর প্রতি বেশি আস্থাশীল হও।’ ‘আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট থাকো।’ আর যদি কোনো অনারব ব্যক্তি তাঁর কাছে আসত, তখন তিনি তাকে বলতেন, আমার থেকে তিনটি বৈশিষ্ট্য অর্জন করো। প্রথমত, সত্যকে সংরক্ষণ করা। আর সত্য ঐক্যবদ্ধতা ছাড়া হয় না। যখন মানুষ একত্রিত হয়ে বলে যে ‘এটি সত্য’, তখন সে যেন সৃষ্টিকুল থেকে নিরাশ হয়ে সওয়াবের আশায় সেই সত্য কাজ করে। দ্বিতীয়ত, মিথ্যা শুধু ঐক্যবদ্ধতা ছাড়া মিথ্যা হয় না। যখন তারা একত্রিত হয়ে বলে যে ‘এটি মিথ্যা’, তখন সে যেন সৃষ্টিকুল থেকে নিরাশ হয়ে মহান আল্লাহর ভয়ে এই মিথ্যাকে পরিহার করে। তৃতীয়ত, যদি তুমি কোনো জিনিস সম্পর্কে না জানো যে, এটি সত্য না মিথ্যা, তবে তোমার উচিত থেমে যাওয়া, যতক্ষণ না তুমি জানতে পারো যে, এটি সত্য নাকি মিথ্যা। কারণ তোমার জন্য কোনো কিছুতে প্রবেশ করা হারাম, যদি না তোমার কাছে সেই বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ ও জ্ঞান থাকে।

১৫. চারটি জিনিস বান্দার কাছ থেকে আখেরাতের বিষয়টিকে আড়াল করে রেখেছে।

ক. দারিদ্র্যের ভয় জাহান্নামের ভয়কে আড়াল করে দিয়েছে।

খ. মানুষ আমাকে কী বলবে— এই চিন্তাটি ‘আমি এটা করলে আমার রব আমাকে কী বলবেন’ এই চিন্তাটিকে আড়াল করে দিয়েছে।

গ. দুনিয়ার জীবনের ভালোবাসা আখেরাতের ভালোবাসাকে আড়াল করে দিয়েছে।

ঘ. দুনিয়ার জীবনের নিয়ামত, তার প্রতারণা, তার কামনা-বাসনা এবং তার বাহ্যিক সৌন্দর্য— যা তুমি দেখছ, তা আখেরাতের নিয়ামত এবং সেখানে তার জন্য যা প্রস্তুত করা হয়েছে তা থেকে আড়াল করে দিয়েছে

১৬. যখন স্থল ও জলভাগে বিপর্যয় (ফাসাদ) দেখা দেবে, তখন এই চারটি বিষয়ের চেয়ে অদ্ভুত আর কিছু হবে না।

ক. নিজেকে বাঁচানোর জন্য বিবাহ (তাযয়িজ লীল-গালাবাহ্): অর্থাৎ হারাম থেকে বাঁচার জন্য বিবাহ করা।

খ. প্রয়োজনে ঘর তৈরি করা (আল-বাইতু লিল-‘ইদ্দাহ্): অর্থাৎ প্রয়োজনীয় আশ্রয় হিসেবে ঘর নির্মাণ।

গ. সুন্নাহ অনুযায়ী মেহমানদারি (আদ্ব-দ্বিয়াফাহ্ বিস্-সুন্নাহ্): মেহমানদারি করা, লোক দেখানোর জন্য নয়।

ঘ. লোভ ও লোক দেখানো ছাড়া জিহাদ (আল-জিহাদু বিলা ত্বামা’ই ওয়া লা রিয়া’ই): একনিষ্ঠভাবে জিহাদ করা।