বাগদাদের সন্ধ্যা তখন ধীরে ধীরে গাঢ় হয়ে আসছে। শায়খ সাররি আস-সাকতির খানকায় জমে উঠেছে মজলিস। চারদিকে বসে আছেন তালেবে ইলম আর সত্যসন্ধানী মানুষেরা। আবু বকর আল-হারবীও সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ শায়খের মুখ থেকে বেরিয়ে এল এক অদ্ভুত কথা।

“একবার আমি ‘আলহামদুল্লিাহ’ বলেছিলাম। আর সেই প্রশংসার জন্যই আমি গত ত্রিশ বছর ধরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছি।”

উপস্থিত সবাই যেন পাথর হয়ে গেলেন। একজন তরুণ তালেবে ইলম সাহস করে জিজ্ঞেস করলেন, “হে শায়খ, কেন এমন?”

শায়খ সাররি আস-সাকতি গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন। তাঁর চোখে যেন ত্রিশ বছরের স্মৃতি ভেসে উঠল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “শোনো, এর পেছনে একটি ঘটনা আছে।”

মজলিসে নীরবতা নেমে এলো। সবাই কান পেতে রইলেন।

“অনেক বছর আগের কথা। আমার একটি দোকান ছিল, সেখানে কিছু পণ্য রাখা ছিল। একদিন বাজারে আগুন লাগল। চারদিকে হাহাকার। দোকানদাররা ছুটোছুটি করছেন— কেউ পণ্য বাঁচাতে, কেউ নিজের প্রাণ বাঁচাতে। আগুনের লেলিহান শিখা একের পর এক দোকান গ্রাস করছিল।

তখন এক ব্যক্তি এসে আমাকে বলল, “খুশির খবর নিন, আপনার দোকানটি আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে।”

আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, “আলহামদুলিল্লাহ।”

শায়খ একটু থামলেন। তারপর বললেন, “কিন্তু পরে চিন্তা করে দেখলাম, আমি তো শুধু নিজের দোকান বাঁচার কারণে আল্লাহর প্রশংসা করেছি, অন্যদের ক্ষতি নিয়ে মনোভাব প্রকাশ করিনি। চারপাশের কত দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, কত মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছে; অথচ আমি শুধু আমার স্বার্থে খুশি হলাম। এজন্যই আমি এটাকে একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছি।”

মজলিসে গভীর নীরবতা নেমে এলো। সবাই বুঝতে পারলেন— প্রকৃত আল্লাহওয়ালারা কত সূক্ষ্মভাবে নিজেদের হিসাব নেন।