১. যখন আল্লাহ কোনো বান্দার জন্য অমঙ্গল নির্ধারণ করেন, তখন তাঁর জন্য আমলের দরজা বন্ধ করে দেন আর বিতর্কের (বাগবিতণ্ডার) দরজা খুলে দেন।
২. যদি তুমি ঠিকভাবে পরহেযগারি করতে না জানো, তবে তুমি সুদ খাবে, নারীর দিকে চেয়ে দৃষ্টি নিচু করবে না, তলোয়ার তুলে রাখবে নিজের কাঁধে (অন্যদের প্রতি অত্যাচার করবে)। এমনকি এই আমাদের বৈঠকখানাও আমাদের জন্য ভয় করার বিষয়, কারণ এটি নেতৃত্বপ্রাপ্তের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ, আর অনুসারীর জন্য লাঞ্ছনার কারণ।
৩. ধার্মিক মানুষ অনেক, কিন্তু সত্যনিষ্ঠ মানুষ খুব অল্প।
৪. যে আল্লাহর সঙ্গে বিরোধ করে, আল্লাহ তাকে পরাজিত করেন; যে তাঁর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, আল্লাহ তাকে দমন করেন; যে তাঁকে ধোঁকা দিতে চায়, আল্লাহ তাকে প্রতিহত করেন; যে তাঁর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান; যে তাঁর জন্য বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে মর্যাদা দান করেন; আর যে ব্যক্তি নিজের কথায় এমন বিষয়ে জড়িয়ে যায় যা তার জন্য নয়, সে আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যাত।
৫. যে ব্যক্তি তার ইমামকে (ধর্মীয় নেতা বা শাসককে) অভিশাপ দেয়, সে তার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়।১
৬. মারুফ আল-কারখীকে এক ব্যক্তি বলল, ‘আমাকে পরামর্শ দিন।’ তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর উপর ভরসা করো। তিনি তোমার শিক্ষক, সঙ্গী এবং অভিযোগের স্থান হোন। মানুষ তোমাকে সাহায্য করতে পারবে না বা ক্ষতি করতে পারবে না।’
৭. সিররি সাকতি রহ. বলেছেন, আমি মারুফ আল-কারখিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখো, এমনকি যদি তা কোনো স্ত্রী মেষের দিকেও হয়।’
৮. বিশ্বস্ততার বাস্তবতা হলো উদাসীনতার ঘুম থেকে ভেতরের গোপন সত্তার জেগে ওঠা এবং বিপথগামী দোষ-ত্রুটির বাহুল্য থেকে চিন্তাকে মুক্ত করা। বদান্যতা হলো অসচ্ছলতার সময়ে নিজের প্রয়োজনীয় বিষয়টিকে অন্যের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া।
৯. আমল ছাড়া জান্নাত কামনা করা গুনাহগুলোর মধ্যে একটি গুনাহ। কারণ ছাড়া সুপারিশের (শাফায়াত) অপেক্ষা করা এক ধরনের প্রবঞ্চনা । আর যার আনুগত্য করা হয় না, তার কাছ থেকে রহমত আশা করা হলো অজ্ঞতা এবং নির্বুদ্ধিতা।
১০. আবুল ফাতহ আল-কাওয়াস আয্-যাহিদ বলেছেন, আমি আবু আমর আল-বুজুরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, মারুফ বলেছেন, ‘পবিত্র ব্যক্তিদের অন্তর তাকওয়া (আল্লাহভীতি) দ্বারা প্রসারিত হয় এবং পূণ্যের দ্বারা উজ্জ্বল হয়। আর পাপীদের অন্তর পাপাচারে অন্ধকার হয় এবং খারাপ নিয়তের কারণে অন্ধ হয়ে যায়।’
১১. যখন আল্লাহ কোনো বান্দার জন্য কল্যাণ চান, তখন তিনি তার জন্য কর্মের দরজা খুলে দেন, আর তার থেকে অবসাদ ও আলস্যের দরজা বন্ধ করে দেন।২
১২. দুনিয়া চারটি জিনিস— সম্পদ, কথা, ঘুম এবং খাদ্য। সম্পদ মানুষকে বিদ্রোহী করে, কথা মানুষকে ভুলিয়ে রাখে, ঘুম মানুষকে ভুলিয়ে দেয় এবং খাদ্য মানুষকে সিক্ত করে (পাপে অথবা চিন্তায় জড়িয়ে রাখে)।৩