আবু আবদুল্লাহ আল-মুহামিলি বলেছেন, আমার বাবা আমাকে জানিয়েছেন, ‘আমার একজন ব্যবসায়ী বন্ধু ছিল, যে সুফিদের সম্পর্কে অনেক নিন্দা করত। এরপর আমি তাকে দেখলাম তাদের সাথে মিশতে এবং তাদের জন্য তার সম্পদ খরচ করতে।

আমি তাকে বললাম, ‘আপনি কি তাদের ঘৃণা করতেন না?’ সে বলল, ‘বিষয়টা এমন নয় যেমনটা আমি মনে করতাম।’ আমি তাকে বললাম, ‘কীভাবে?’ সে বলল, ‘একদিন আমি জুমার নামাজ পড়লাম, তখন দেখলাম বিশর আল-হাফি খুব দ্রুত মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে মনে বললাম, ‘আমি এই সংসারবিরাগী লোকটিকে দেখব!’ সে এক দিরহামের রুটি, তারপর একই মূল্যের কাবাব কিনল, এতে আমার রাগ আরও বেড়ে গেল। এরপর এক দিরহামের ফালুযাজ (এক ধরনের মিষ্টি খাবার) কিনল। আমি তার পিছু নিলাম। সে মরুভূমির দিকে বের হলো, আর আমি ভাবছিলাম, সে সবুজের সমারোহ ও পানির কাছে যেতে চায়! সে আসরের সময় পর্যন্ত একটানা হাঁটতে থাকল, আর আমি তার পিছনে ছিলাম।

সে একটি গ্রামের মসজিদে প্রবেশ করল, যেখানে একজন অসুস্থ লোক ছিল। সে তখন তাকে খাওয়াতে শুরু করল। আমি উঠে গিয়ে গ্রামটি ঘুরে দেখলাম এবং ফিরে এসে অসুস্থ লোকটিকে বললাম, ‘বিশর কোথায়?’ সে বলল, ‘তিনি বাগদাদ চলে গেছেন।’ আমি বললাম, ‘আমার আর বাগদাদের মধ্যে দূরত্ব কত?’ সে বলল, ‘চল্লিশ ফারসাখ (প্রায় ২২০ কিলোমিটার)’। আমি বললাম, ‘ইন্না লিল্লাহ, আমি এত দ্রুত এত দূর কীভাবে চলে এলাম। তখন সে বলল, ‘বসেন, তিনি ফিরে আসবেন।’

পরের জুমাবারে তিনি ফিরে এলেন এবং তার সাথে অসুস্থ লোকটিকে দেওয়ার জন্য কিছু খাবার ছিল। যখন তিনি কাজ শেষ করলেন, তখন অসুস্থ লোকটি তাঁকে বলল, ‘হে আবু নসর, এই লোকটি বাগদাদ থেকে এসেছে এবং সে এক সপ্তাহ ধরে আমার কাছে আছে।’ তখন বিশর রাগান্বিতের মতো আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন, ‘তুমি কেন আমার পিছু নিয়েছিলে?’

‘আমি বললাম, ‘আমি ভুল করেছি!’ তিনি বললেন, ‘ওঠো এবং হাঁটো!’ আমি মাগরিবের সময় পর্যন্ত হাঁটলাম। আশ্চর্য, আমরা অল্প সময়ে এত পথ কীভাবে এলাম! যখন আমরা বাগদাদের কাছাকাছি পৌঁছলাম, তখন তিনি বললেন, ‘তোমার মহল্লায় যাও এবং আর ফিরে এসো না!’ এরপর আমি তাদের (সুফিদের) সম্পর্কে যা বিশ্বাস করতাম তা থেকে আল্লাহর কাছে তাওবা করলাম এবং তাদের ভালোবাসা আমার অন্তরে স্থান পেল, আর আমি সেই পথেই আছি।

ইমাম সিরাজুদ্দিন আবু হাফস ওমর ইবনে আলি ইবনে আহমদ আল-মিছরী, ত্ববাকাতুল আউলিয়া, ১১৪ পৃ:, মাকতাবাতুল খানজী, কায়রো, মিসর, ১৯৯৪ ইং