হজরত ইবনে আতা রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন এমন এক দরবেশ, যাঁর জীবনে ছিল আধ্যাত্মিক তপস্যা, গভীর জ্ঞান, ভক্তি ও প্রেমের মিশ্রণে গঠিত। বাগদাদের আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে তাঁর আবির্ভাব ঘটে এমন এক সময়ে, যখন সুফিবাদের তত্ত্বচর্চা, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক বিপ্লবের ধারা প্রবলভাবে বিকশিত হচ্ছিল।
নাম ও পরিচয়:
তিনি ছিলেন এক জাহিদ (দুনিয়াবিমুখ), আবিদ (ইবাদতে নিবেদিত) ও মুতাআল্লিহ (আল্লাহর প্রেমে নিমগ্ন) ব্যক্তিত্ব। তাঁর কুনিয়াত আবুল আব্বাস, পূর্ণ নাম আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সাহল ইবনু আতা আল-আদামী আল-বাগদাদী।১
ইলম অর্জন ও সোহবত গ্রহণ:
তিনি ছিলেন সুফি শায়েখদের মধ্যে এক সূক্ষ্মবুদ্ধিসম্পন্ন, মার্জিত ও জ্ঞানী ব্যক্তি। কুরআনের ব্যাখ্যা ও তাফসির বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে এমন এক বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি ও গভীর উপলব্ধি দান করেছিলেন, যা অন্যদের মধ্যে বিরল। তিনি ইবরাহিম আল-মারিস্তানি, জুনাইদ ইবনু মুহাম্মদ এবং তাঁদের থেকেও ঊর্ধ্বস্তরীয় শায়েখদের সোহবত লাভ করেছেন। আবু সাঈদ আল-খাররাজ (রহ.) তাঁর মর্যাদাকে অত্যন্ত সম্মান ও গুরুত্ব দিতেন।২
ইবাদত-রিয়াজত:
মুহাম্মদ ইবনু আলী ইবনু হুবাইশ বলেন, “তিনি প্রতিদিন কুরআন খতম করতেন। আর রমজান মাসে নব্বইটি খতম সম্পন্ন করতেন। পরে একটি নির্দিষ্ট খতমে তিনি প্রায় তেরো বছর অতিবাহিত করেন, সেই সময় তিনি প্রতিটি আয়াত গভীরভাবে বোঝার ও চিন্তাভাবনা করার জন্য সময় দিতেন।”
হুসাইন ইবনু খাকান বলেন, “তিনি দিন-রাত মিলিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমাতেন।” ৩
আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ আল-ফারগানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল আব্বাস ইবনু আতা আমাকে বললেন, “হে আবু জাফর, বহু বছর ধরে আমি প্রতিদিন একটি করে খতম করি, যা কোনোদিন ছুটে যায় না। আর রমজান মাসে আমার দিন-রাত মিলিয়ে প্রতিদিন তিনটি করে খতম হয়। এবং এমন একটি খতম আছে, যা নিয়ে আমি চৌদ্দ বছর ধরে আছি, এর অর্ধেকও এখনো শেষ করতে পারিনি।”৪
তাসাউফের ধারক-বাহক:
আবু সাঈদ আল-খাররাজ (রহ.) বলেন, “তাসাউফ হলো আচরণ, কেবল ইনাবা (অর্থাৎ আল্লাহর দিকে ফিরে আসা) নয়। আমি তাসাউফের প্রকৃত ধারক হিসেবে জুনাইদ বাগদাদী (রহ.) ও ইবনু ‘আতা (রহ.) ছাড়া আর কাউকে দেখিনি।”৫
মনসুর হাল্লাজ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি:
ইমাম জাহাবী বলেন, “তাঁর ওপর মনসুর হাল্লাজের প্রভাব পড়েছিল, তিনি তাঁর অবস্থাকে (হাল্লাজের দাবিকে) সঠিক মনে করেছিলেন।”
সুলামী (রহ.) বলেন, “তিনি হাল্লাজের কারণে পরীক্ষার সম্মুখীন হন। তখন হামিদ নামের এক মন্ত্রী তাঁকে তলব করে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি হাল্লাজ সম্পর্কে কী বলো?’ ইবনু ‘আতা উত্তর দিলেন, ‘তুমি হাল্লাজ নিয়ে কেন মাথা ঘামাও, তোমার কাজ তো ধন-সম্পদ সংগ্রহ করা আর মানুষের রক্ত ঝরানো!” এ উত্তরের পর মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর দাঁত ভাঙ্গার নির্দেশ দিল, তাঁর দাঁত ভেঙে ফেলা হলো। তখন ইবনু ‘আতা চিৎকার করে বললেন, “আল্লাহ তোমার হাত-পা কেটে দিক!”
চৌদ্দ দিন পর ইবনু ‘আতা ইন্তেকাল করেন, কিন্তু তাঁর সেই বদদোয়া কবুল হয়ে যায়। একসময় মন্ত্রী হামিদের চারটি অঙ্গ কেটে ফেলা হয়।৬
সুফি-দর্শন:
মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আজিজ (রহ.) বলেন, আমি আবুল আব্বাস ইবনু আতা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন, “কাবা ঘরে যেমন মাকামে ইবরাহিম আছে, তেমনি কলবে আল্লাহ তাআলার নিদর্শনসমূহ আছে। যেমন কাবার কিছু স্তম্ভ আছে, তেমনি কলবেরও কিছু স্তম্ভ আছে। কাবার স্তম্ভগুলো পাথর দিয়ে তৈরি, আর কলবের স্তম্ভগুলো ‘আল-মা‘রিফাহ’র (আল্লাহ-জ্ঞান) নুরের তৈরি।”
আবু বকর আর-রাজীকে বলেন, আমি আবুল আব্বাস ইবনু আতা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, “আল্লাহ তায়ালা নবীদের সৃষ্টি করেছেন ‘মুশাহাদা’ এর জন্য। যেমন তিনি বলেন, أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ [ق: ٥]
‘অথবা যে মনোযোগ দিয়ে শোনে, আর সে উপস্থিত সাক্ষী।’
আর আল্লাহ তায়ালা ওলিদের সৃষ্টি করেছেন ‘মুজাওয়ারা’ (সান্নিধ্য) এর জন্য, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— ‘عز جارك’ — “তোমার প্রতিবেশী (সান্নিধ্যপ্রাপ্ত) সম্মানিত।”
আর আল্লাহ তায়ালা নেককারদের সৃষ্টি করেছেন ‘মুলাজামাহ’ (অটল আনুগত্য) এর জন্য, যেমন আল্লাহ বলেন— وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى [الفتح: ٤٨] – ‘আর তিনি তাদেরকে তাকওয়ার বাণী অনুযায়ী অনুগত করে দিয়েছেন।’
আর সাধারণ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ‘মুজাহাদা’ (সংগ্রাম) এর জন্য, যেমন আল্লাহ বলেন— وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا [العنكبوت: ٢٩] – ‘আর যারা আমার পথে জিহাদ করেছে…।’
আবু সাঈদ আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবদুল ওহহাব আল-কুরাইশী বলেন, আমি আবুল আব্বাস ইবনু আতা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন, “যে ব্যক্তি নিজেকে সুন্নাহর আদবের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রাখে, আল্লাহ তায়ালা তার হৃদয়কে আল-মা‘রিফাহ (আল্লাহ-জ্ঞান)-এর নুর দিয়ে আলোকিত করেন। আর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য, তাঁর আদেশ, কাজ, চরিত্র ও আচার-আচরণে অনুসরণ করার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো মর্যাদা নেইঅ তা হোক— বাক্যে, কাজে, সংকল্পে, চুক্তিতে ও নিয়তে।”
আবুল হুসাইন আল-ফারিসী বলেন, আমি ইবনু আতাকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘আরেফিনদের (আল্লাহর পরিচয় লাভকারীদের) হৃদয় কীসের দ্বারা শান্ত হয়?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালার বাণী (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দ্বারা।’ কারণ, বিসমিল্লাহ’র মধ্যে রয়েছে তাঁর হায়বা (প্রতাপ/শ্রদ্ধা)। তাঁর নাম আর-রাহমানের মধ্যে রয়েছে তাঁর আউন (সাহায্য) এবং নুসরাত (সমর্থন)। আর তাঁর নাম আর-রাহিমের মধ্যে রয়েছে তাঁর মুহাব্বাত (ভালোবাসা) এবং মাওয়াদ্দাত (স্নেহ/মমতা)। এরপর তিনি বললেন, পবিত্রতা সেই সত্তার, যিনি এই সূক্ষ্ম অর্থগুলোকে এই গভীর নামগুলোর মধ্যে সুনিপুণভাবে বণ্টন করেছেন।’ এবং তিনি আবৃত্তি করলেন, ‘যেসব বস্তুর খবর মানুষের জ্ঞান দ্বারা পাওয়া যায় না, আমার সেই আত্মিক উপলব্ধির জ্ঞানই তার সঙ্গী ও সহচর।’
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে এমনভাবে আচরণ করে যে, তাঁর পক্ষ থেকে যা অগ্রগামী হয়েছে (তাকদির) তা দেখতে পায়, তবে তার পক্ষে পানির উপর হাঁটা বা শূন্যে চলা মোটেই আশ্চর্যের বিষয় নয়। আল্লাহর প্রতিটি কাজই আশ্চর্যের, তবে তাঁর কাছে কোনো কিছুই আশ্চর্যের নয়।’ (অর্থাৎ, আল্লাহ যা করেন, তা আমাদের কাছে আশ্চর্যজনক হলেও আল্লাহর ক্ষমতার কাছে তা স্বাভাবিক)।৭
আবুল আব্বাস ইবনু আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সুন্নাহর আদবসমূহকে নিজের জন্য আবশ্যক করে নেয়, আল্লাহ তার হৃদয়কে মারিফাতের নূর (জ্ঞানের আলো) দিয়ে পূর্ণ করে দেন। আর হাবিব (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এঁর আদেশ, কাজ ও আখলাকের অনুসরণ এবং তাঁর আদব দ্বারা সজ্জিত হওয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো মাকাম (মর্যাদা) নেই।’৮
অলিদের আলামত:
আবুল আব্বাস ইবনে আতা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, অলির চারটি আলামত।
১. আল্লাহর সাথে তার গোপনীয়তা রক্ষা করা।
২. আল্লাহর আদেশ পালনের ক্ষেত্রে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করা।
৩. আল্লাহর সৃষ্টির পক্ষ থেকে আসা কষ্ট সহ্য করা।
মানুষের জ্ঞানের তারতম্য অনুযায়ী তাদের সাথে সদাচার করা।৯
বাণী ও নসিহত:
আব্দুল্লাহ ইবনু আলী আল-আকবরীকে বলেন, ইবনে আতা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘মরূ’আত (মর্যাদা বা মানবিক গুণ) কী?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর জন্য কোনো কাজকে কখনো বেশি বলে মনে না করা।”
আবু বকর আর-রাজীকে বলেন, আমি আবুল আব্বাস ইবনু আতা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বললেন, “সবচেয়ে বড় জ্ঞান হলো আল্লাহর ভয় ও লজ্জা। যে ব্যক্তি এ দুটো থেকে বঞ্চিত, সে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।”
আবুল হুসাইন আল-ফারসী বলেন, আমি আবুল আব্বাস ইবনু আতা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বললেন, “তিনটি জিনিস তিনটির সাথে যুক্ত থাকে।
১. ফিতনা মৃত্যুর সাথে।
২. ভালোবাসা ইচ্ছার সাথে।
৩. পরীক্ষা দাওয়াত (আহ্বান) এর সাথে।”
আবুল হুসাইন আরো বলেন, ইবনু আতা বলতেন, “আমি আমার আত্মার নামগুলোর মধ্যে বিনয় ও আত্মসমর্পণ খুঁজে পাই, সামনের দিকে উচুতে আল্লাহর মহিমার দিকে, যখন ধনসম্পদ থেকে বিনয় আসে, আমি দারিদ্র্যের দিক থেকে উচুতে উঠি।”
আবুল হুসাইন বলেছেন, আমি আবুল আব্বাসকে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহ ও বান্দার মাঝে ইনসাফ (ন্যায়পরায়ণতা) রয়েছে তিনটি ক্ষেত্রে। ইস্তিআনাহ (সাহায্য চাওয়া), জুহদ (প্রচেষ্টা) এবং আদব (শিষ্টাচার)।’
বান্দার পক্ষ থেকে ইস্তিআনাহ (সাহায্য চাওয়া) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরবাত (নৈকট্য)।
বান্দার পক্ষ থেকে জুহদ (প্রচেষ্টা) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক (সাফল্য)।
বান্দার পক্ষ থেকে আদব (শিষ্টাচার) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কারামাহ (সম্মান)।
আবুল আব্বাস ইবনু আতা বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সালেহিনদের (সৎকর্মশীলদের) আদব দ্বারা সজ্জিত হয়, সে কারামতের (সম্মানের) আসনে বসার উপযুক্ত হয়।’ ‘যে ব্যক্তি আউলিয়াদের (আল্লাহর বন্ধুদের) আদব দ্বারা সজ্জিত হয়, সে কুরবতের (নৈকট্যের) আসনে বসার উপযুক্ত হয়।’ ‘যে ব্যক্তি সিদ্দিকিনদের (পরম সত্যবাদীদের) আদব দ্বারা সজ্জিত হয়, সে মুশাহাদার (দিব্যদৃষ্টির/প্রত্যক্ষ উপলব্ধির) আসনে বসার উপযুক্ত হয়।’ ‘যে ব্যক্তি আম্বিয়াদের (নবীদের) আদব দ্বারা সজ্জিত হয়, সে উন্স (ঘনিষ্ঠতা) ও ইনবিসাতের (প্রশান্তির) আসনে বসার উপযুক্ত হয়।’
আবুল হুসাইন আল-ফারিসী বলেছেন, আমি ইবনু আতাকে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয়ই শাফাকাহ (ভীতি-মিশ্রিত মমতা) মুমিনকে সর্বদা এমনভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে, যতক্ষণ না তা তাকে তার উত্তমতম অবস্থায় পৌঁছে দেয়।’ আর নিশ্চয়ই গাফলাত (অসতর্কতা) পাপাচারীকে সর্বদা এমনভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে, যতক্ষণ না তা তাকে তার নিকৃষ্টতম অবস্থায় পৌঁছে দেয়।’
তিনি আরো বলেন, ইবনু আতা বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় গাফলাত (অসতর্কতা) হলো বান্দার তার রব থেকে গাফেল হওয়া, তাঁর আদেশাবলি থেকে গাফেল হওয়া এবং তাঁর সাথে আচরণের শিষ্টাচার থেকে গাফেল হওয়া।’
‘সবচেয়ে সঠিক বুদ্ধি হলো সেই বুদ্ধি, যা তাওফিকের (আল্লাহর সাহায্যের) সাথে মিলে যায়।’
‘সবচেয়ে খারাপ আনুগত্য হলো সেই আনুগত্য, যা অহংকার জন্ম দেয়।’
‘সবচেয়ে ভালো গুনাহ হলো সেই গুনাহ, যার পরে তাওবা এবং অনুশোচনা আসে।’
“স্বভাবগত অভ্যস্ততার উপর ভরসা করা, তার সাথিকে হাকিকতের স্তরগুলো অর্জনের পথে বাধা দেয়।”
“হৃদয়ের জন্য সত্যের উৎসগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সমজাতীয় বস্তুর (মানুষের সাথে) সাথে স্বস্তি বোধ করা এক প্রকার বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ব। আর যার হৃদয় আল্লাহর সাথে স্বস্তি লাভ করে, সে আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে একাকিত্ব বোধ করে।’
“আপনার হৃদয়কে জিকিরকারীদের মজলিসের কাছাকাছি রাখুন, এই আশায় যে, তার গাফলাত দূর হবে। এবং আপনার শরীরকে সালেহিনদের (সৎকর্মশীলদের) সেবায় নিয়োজিত করুন, এই আশায় যে তাদের বরকতে তা রব্বুল আলামিনের আনুগত্যে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।’
“আসবাব (বস্তুগত উপায়-উপাদান)-এর উপর নির্ভর করা হলো প্রবঞ্চনা।”
“আর আহওয়াল (আধ্যাত্মিক অবস্থা)-এর সাথে আটকে থাকা আপনাকে তাদের পরিবর্তনকারী (আল্লাহ) থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।”১০
“যখন তোমার নফস (প্রবৃত্তি) তোমার হৃদয়ের দিকে মনোযোগ না দেয়, তখন তাকে জ্ঞানী-গুণীজনদের সাথে বসে আদব শিক্ষা দাও।” যে ব্যক্তি হিকমতের (প্রজ্ঞা) আলো দ্বারা আলোকিত হতে চায়, সে যেন বুদ্ধিমান ও বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের সাথে মিলিত হয়।”
ইবনু আতাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘উবুদিয়্যাহ (দাসত্ব/বন্দেগি) কী?’ তিনি বললেন, ‘ইখতিয়ার (নিজের পছন্দ) ছেড়ে দেওয়া, এবং ইফতিফার (আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা) সাথে দৃঢ়ভাবে লেগে থাকা।’ এবং তিনি আরও বললেন, ‘তুমি যখন হক্কের (আল্লাহর) দিকে মনোযোগী হওয়ার পথ পাও, তখন কোনো মাখলুকের (সৃষ্টির) দিকে মনোযোগী হওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখো।’১১
ইন্তেকাল:
প্রসিদ্ধ মতানুসারে তিনি ৩০৯ হিজরিতে (৯২১ খ্রিষ্টাব্দে), যিলক্বদ মাসে ইন্তেকাল করেন ।১২