তাসাউফের ইতিহাসে হজরত বিশর হাফি ইবনুল হারিস রহমাতুল্লাহি আলাইহি এমন এক মহাপুরুষ, যাঁর জীবন আল্লাহভীতি, তাওবা ও জুহদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একসময় তিনি বিলাসিতাপূর্ণ জীবনে নিমগ্ন ছিলেন, কিন্তু আল্লাহর এক রহমতপূর্ণ ইঙ্গিতে হৃদয় পরিবর্তিত হয়ে গেল পরিপূর্ণভাবে। সেই তওবা তাঁকে পরিণত করল যুগশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক সাধকে। তিনি আল্লাহর প্রেম ও বিনয় প্রকাশের নিদর্শন হিসেবে সারা জীবন খালি পায়ে চলতেন, এজন্যই তাঁকে বলা হয় ‘বিশর হাফি’ অর্থাৎ ‘খালি পায়ে বিশর’।

প্রাথমিক পরিচিতি:

তাঁর পুরো নাম বিশর ইবনুল হারিস ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আ’তা। তিনি একাধারে ইমাম, আলেম, মুহাদ্দিস, জাহিদ (সংসারবিমুখ সাধক), রব্বানী (আল্লাহমুখী), আদর্শবান ব্যক্তি এবং শাইখুল ইসলাম হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তাঁর উপনাম আবু নসর আল-মারওয়াজী, পরে তিনি বাগদাদি নামে পরিচিত হন। জন্মগ্রহণ করেন হিজরি ১৫২ সনে।১

ইলম অর্জন:

তিনি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে সফর করেন এবং বহু আলেম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন— ইমাম মালিক, শারীক, হাম্মাদ ইবনু যায়েদ, ইব্রাহিম ইবনু সা‘দ, আবু আহওয়াস, খালিদ ইবনু আব্দুল্লাহ আত-তাহহান, ফুদ্বাইল ইবনু ইয়াদ্ব, মু‘আফা ইবনু ইমরান, ইবনু মুবারক, আবদুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনু আসলাম, এবং আরও অনেকে।২

ছাত্রবৃন্দ:

তাঁর কাছ থেকে অনেকেই ইলম অর্জন করেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে—

আহমাদ আদ-দাওরকী, মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ আল-জাওহারী, মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না আস-সিমসার, সাররী আস-সাকাতী, উমার ইবনু মূসা আল-জাল্লা’, ইব্রাহিম ইবনু হানী আন- নিসাবূরী এবং আরও অনেকেই।৩

তওবার ঘটনা:

মুহাম্মাদ ইবনু আস-সালত বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিস আল-হাফিকে বলতে শুনছি,  তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো,‘আপনার জীবনযাত্রার শুরুটা কেমন ছিল? মানুষের মুখে আপনার নাম যেন নবীর নামের মতো উচ্চারিত হয়।’তিনি বললেন, ‘এটা আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ। আমি কী বলব আপনাদের, আমি ছিলাম একজন উশৃঙ্খল, গোঁড়ামিপ্রিয় মানুষ। দুনিয়ার মোহে অন্ধ হয়ে চলতাম। তবে একদিন এমন একটি ঘটনা ঘটল, যা আমার জীবন সম্পূর্ণভাবে পাল্টে দিল।

একদিন আমি রাস্তায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ল মাটিতে পড়ে থাকা একটি কাগজের টুকরা। কৌতূহলবশত আমি তা তুলে দেখলাম। কাগজে লেখা ছিল, بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ – বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আমি কাগজটি মুছে পরিষ্কার করলাম এবং যত্ন করে পকেটে রাখলাম। তখন আমার কাছে ছিল মাত্র দু’টি দিরহাম, আর কিছুই ছিল না। আমি আতর বিক্রেতার কাছে গেলাম। সেই দুই দিরহামের বিনিময়ে কিছু গালিয়া (এক ধরনের সুগন্ধি) কিনে সেই কাগজে মেখে দিলাম। যেন আল্লাহর নামের সৌন্দর্য ও গন্ধ আমার স্পর্শে মিশে যায়।

সেই রাতে আমি ঘুমোতে গেলাম। স্বপ্নে দেখলাম যেন একজন অদৃশ্য ঘোষণাকারী বলছেন, ‘হে বিশর ইবনুল হারিস, তুমি আমার নাম রাস্তা থেকে তুলে নিয়েছ এবং সুগন্ধিযুক্ত করেছ। তাই আমি তোমার নাম দুনিয়া ও আখিরাতে সুবাসিত করে দেব।’ এই ঘটনার পরই আমার অন্তর আলোকিত হয়ে গেল এবং তওবার পথ খুলে গেল। যেখানে আমি দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে আল্লাহর দিকে ফিরে এলাম।

বর্ণিত আছে, যখন বিশর ইবনুল হারিস (রহ.) তাঁর আমোদ-প্রমোদের যুগে ছিলেন, তখন তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নিজের ঘরে আনন্দ ও পানাহার উপভোগ করছিলেন। একদিন সেই পথে একজন নেককার লোক যাচ্ছিলেন। তিনি বিশরের দরজায় কড়া নাড়লেন। দরজা খুলে একজন দাসী বের হয়ে এল। লোকটি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এই ঘরের মালিক কি স্বাধীন নাকি দাস?’ দাসী উত্তর দিল, ‘বরং স্বাধীন।’ লোকটি বললেন, ‘তুমি সত্য বলেছ, যদি সে দাস হতো, তবে সে দাসত্বের শিষ্টাচার মেনে আমোদ-প্রমোদ ও গান-বাজনা ত্যাগ করত।’ এ কথোপকথনটি বিশর শুনতে পেলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ খালি পায়ে মাথা খোলা অবস্থায় দরজার দিকে ছুটলেন। কিন্তু তখন লোকটি চলে গিয়েছিলেন। বিশর দাসীর কাছে ফিরে এসে বললেন, ‘তোমার সর্বনাশ হোক, কে তোমার সাথে কথা বলছিল?’ দাসী ঘটনার বর্ণনা জানাল।

বিশর জিজ্ঞেস করলেন, ‘লোকটি কোন দিকে গিয়েছে?’ দাসী বলল, ‘ওই দিকে।’ তৎক্ষণাৎ বিশর তাঁর পিছু নিলেন এবং লোকটিকে ধরতে সক্ষম হলেন। তিনি সম্মানজনকভাবে লোকটির কাছে গিয়ে বললেন, ‘হে আমার সাইয়্যেদ, আপনিই কি সেই ব্যক্তি যিনি দরজায় দাঁড়িয়ে দাসীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন?’ লোকটি উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ।’ তখন বিশর বললেন, ‘আমাকে আবার সেই কথা বলুন।’ লোকটি সব কথা পুনরায় বললেন। এবার বিশর মাটিতে নিজের গাল ঘষলেন এবং বললেন, ‘বরং দাস, দাস!’ এরপর তিনি খালি পায়ে মাথা খোলা অবস্থায় দিগ্বিদিক ছুটতে লাগলেন। এভাবেই তিনি ‘আল-হাফি’ (খালি পা ওয়ালা) নামে পরিচিত হন। পরবর্তীতে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘আপনি কেন জুতো পরেন না?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমার প্রভু আমাকে ক্ষমা করেছিলেন সেই সময়, যখন আমি খালি পায়ে ছিলাম। সেই দিন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি এই অবস্থা থেকে সরব থাকি।’৪

জীবন-জীবিকা:

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল ওহাব আল-ফাররাআ বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনু আসসাম, তিনি বলেন, বিশর ইবনুল হারিস (রহ.) কিছু সময় আব্বাদান শহরে অবস্থান করেছিলেন। তিনি সেখানে সমুদ্রের পানি পান করতেন, কিন্তু সুলতানের ট্যাংকের পানি পান করতেন না। এতে তাঁর অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়েছিল। এরপর তিনি অসুস্থ অবস্থায় তাঁর বোনের কাছে ফিরে যান। তিনি নিজ হাতে সুতো কাটার চাকা দিয়ে কাজ করতেন এবং তা দিয়ে তৈরি জিনিস বিক্রি করতেন। এটিই ছিল তাঁর জীবিকার উৎস।৫

চারিত্রিক গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য:

ইব্রাহিম আল-হারবী (রহ.) বলেন, বাগদাদ এমন কোনো মানুষ জন্ম দেয়নি, যার বুদ্ধিমত্তা বিশর ইবনুল হারিস (রহ.)-এঁর চেয়ে বেশি। তিনি এমন একজন, যিনি নিজের জিহ্বা সর্বদা সংযত রাখতেন। মনে হতো তাঁর শরীরের প্রতিটি চুলে যেন বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা বাস করে। মানুষ তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে পঞ্চাশ বছর ধরে, অথচ তাঁর কাছ থেকে কোনো মুসলমানের পরনিন্দা শোনা যায়নি। আমি তাঁর চেয়ে উত্তম কাউকে দেখিনি।৬

তাঁর ইবাদত:

হামজা ইবনু দিহকান বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিস (রহ.)-কে বললাম, আমি চাই যে, একান্তে আপনার সঙ্গে কিছু সময় কাটাই। তিনি বললেন, ‘যখনই তুমি চাও, তবে সেটা একদিন হবে।’ আমি দেখলাম, তিনি একটি ছোট গম্বুজে প্রবেশ করলেন, তার ভেতরে তিনি চার রাকাত নামাজ পড়লেন, যে নামাজের মতো সুন্দর নামাজ আমি কখনো পড়তে পারিনি। আমি শুনলাম, তিনি তাঁর সিজদায় এ দোয়া করছিলেন, ‘اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ فَوْقَ عَرْشِكَ أَنَّ الذُّلَّ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الشَّرَفِ. اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ فَوْقَ عَرْشِكَ أَنَّ الْفَقْرَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الْغِنَى. اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ فَوْقَ عَرْشِكَ أَنِّي لَا أُوْثِرُ عَلَى حُبِّكَ شَيْئًا.

অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আপনি আপনার আরশের ওপরে জানেন, আমার কাছে অপমান সম্মানের চেয়ে প্রিয়তর। হে আল্লাহ, আপনি জানেন, আমার কাছে দারিদ্র্য সম্পদের চেয়ে বেশি প্রিয়। হে আল্লাহ, আপনি জানেন, আমি আপনার ভালোবাসার ওপর অন্য কিছুকে কখনো অগ্রাধিকার দিই না।’ আমি যখন তাঁর এই কথাগুলো শুনলাম, তখন আমার বুক ফেটে কান্না শুরু হয়ে গেল, শ্বাস রুদ্ধ হয়ে এল। তখন বিশর ইবনুল হারিস (রহ.) বললেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি জানেন, যদি আমি জানতাম যে, কেউ এখানে আমার কথা শুনছে, তবে আমি কখনো এভাবে কথা বলতাম না।’৭

তাকওয়া ও আল্লাহপ্রীতি:

তিনি একবার বলেছিলেন, “কখনো আমি দোয়ার জন্য হাত তুলি, তারপর আবার হাত নামিয়ে ফেলি।” আর এটি কেবল সেই ব্যক্তিই করতে পারে, আল্লাহর দরবারে যার বিশেষ মর্যাদা আছে।

ফাতাহ ইবনু শুখরফ বলেন, আমি একদিন বিশরের কাছে বসেছিলাম। এক ব্যক্তি এসে তাঁকে একটি প্রশ্ন করল। তিনি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে চিন্তা করলেন, তারপর মাথা তুললেন, আবার নিচু করলেন, আবার তুললেন। এরপর তিনি আল্লাহর দরবারে মিনতি করে বললেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি তো জানেন, আমি কথা বলার ভয়ে আছি। আপনি জানেন, আমি নীরব থাকারও ভয়ে আছি। আর আপনি জানেন, আমি আশঙ্কা করি নীরবতা ও কথার মাঝেই আপনি যেন আমাকে পাকড়াও না করেন।’

তাঁর বোন যুবদা বলেন, এক রাতে বিশর ঘরে ঢুকলেন। তিনি এক পা ঘরের ভিতরে রাখলেন, আরেক পা বাইরে। এভাবেই দাঁড়িয়ে রইলেন, গভীর চিন্তায়, যতক্ষণ না ভোর হলো। ভোর হলে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে ভাই, আপনি সারা রাত কী নিয়ে চিন্তা করলেন?’ তিনি বললেন, ‘আমি চিন্তা করছিলাম বিশর নামের খ্রিষ্টান, বিশর নামের ইহুদি, বিশর নামের অগ্নিপূজক আর আমি নিজে বিশর মুসলমান! এরপর আমি ভাবছিলাম, আমি এমন কী করলাম যে, আল্লাহ আমাকে এদের থেকে আলাদা করে সম্মানিত করলেন? তারপর আমি আল্লাহর অনুগ্রহ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ভাবলাম এবং এজন্য তাঁর প্রশংসা করলাম যে, তিনি আমাকে তাঁর প্রিয়জনদের পোশাকে মুড়িয়ে নিয়েছেন।’

আহমদ ইবন নাসর বলেন, আমি বিশরকে বলতে শুনেছি, “হে মাজনি, যদি আল্লাহর কাছে আমার প্রাপ্তি শুধু এতটুকুই হয় যে, মানুষ কেবল ‘বিশর বিশর’ বলে আমার নাম উচ্চারণ করে, তাহলে হায়, এটা যেন আমার অংশ না হয়!” আমি দেখেছি অতিরিক্ত কান্নার কারণে তাঁর চোখের পাপড়ি পর্যন্ত ঝরে গিয়েছিল। আল-হাসান ইবনু আমর বলেন, আমি বিশরকে বলতে শুনেছি, ‘যদি জানতাম যে, আমি পায়ে পাথর বেঁধে নিজেকে সাগরে নিক্ষেপ করি এমন কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে, তাহলে নিশ্চয় আমি তাই করতাম।’৮

জুহদ তথা দুনিয়াবিমুখতা:

একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আপনি কী দিয়ে রুটি খান?’ তিনি বললেন, আমি সুস্থতার কথা স্মরণ করি এবং সেটাকেই সালুন (তরকারি) বানিয়ে নিই। তাঁর দোয়াগুলোর মধ্যে একটি ছিল— ‘হে আল্লাহ, যদি আপনি আমাকে আখিরাতে আমাকে লাঞ্ছিত করার জন্য দুনিয়ায় খ্যাতি দিয়ে থাকেন, তবে তা আমার কাছ থেকে কেড়ে নিন।’ তিনি দুনিয়াদারী সম্পর্কে বলতেন, ‘দুনিয়ায় আলেমের শাস্তি হলো তার হৃদয়ের দৃষ্টি অন্ধ হয়ে যাওয়া।’ ‘যে ব্যক্তি দুনিয়ার অনুসন্ধানে লিপ্ত থাকে, তাকে লাঞ্ছনা বরণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’৯

রিয়াজত তথা সাধনা:

আবু বকর মারওযী বলেন, আমি এক কাপড় ব্যবসায়ীকে বলতে শুনেছি, ‘আমার শিক্ষক একবার আমাকে কিছু তাজা খেজুর উপহার দিলেন। গ্রীষ্মকালে বিশর ইবনুল হারিস (রহ.) আমাদের দোকানে দুপুরে বিশ্রাম নিতেন। আমার শিক্ষক বললেন, ‘হে আবু নসর, এই খেজুর হালাল উপায়ে উপার্জিত, আপনি যদি খান, ভালো লাগবে।’তখন বিশর (রহ.) খেজুরটি হাতে নিলেন, একটু নাড়াচাড়া করলেন, তারপর দাড়িতে হাত বুলিয়ে বললেন, ‘আমি কি আল্লাহকে ভয় করব না? মানুষের সামনে আমি এসব ছেড়ে দেই, আর গোপনে বসে তা খাই!’ তিনি (আবু বকর মারওযী) আরও বলেন, আমি আবু হাফসকে (যিনি বিশরের ভাগনে) বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আমার মামা বিশর ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি, ‘আমি পঞ্চাশ বছর ধরে কখনও পেটপুরে খাইনি।’

তিনি আরও বলেন, আমি বিশরের এক আত্মীয়কে বলতে শুনেছি, একদিন বিশর ইবনুল হারিস বাসরার ‘আবাদান’ শহর থেকে রাতের বেলা বা ভ্রমণ শেষে ফিরে এলেন। তাঁর গায়ে কাপড় বলতে কিছু ছিল না, বরং তিনি শরীরে পাটের চাটাই জড়িয়ে রেখেছিলেন।’

ইয়াহইয়া ইবন উসমান বলেন, বিশর ইবনুল হারিসের রোজকার খাদ্য ছিল মাত্র একটি রুটি। তিনি বলেন, বিশর (রহ.) আমাকে বললেন, ‘আমার একটি বিড়াল ছিল। যখন আমি খাবার সামনে রাখতাম সে আমার সামনে বসে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকত। আমি খেতাম আর একটু অংশ তার দিকে ছুঁড়ে দিতাম। একদিন আমি তাকে বললাম, ‘দূরে যা, তুমি আমার রুজি খেয়ে ফেলতেছস!’ (এ কথা বলে বিশর নিজেই আফসোস করতেন, তিনি বুঝতেন, জীবজন্তুর প্রতিও করুণা করা উচিত।)

আবু বকর ইবনে উসমান বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি, ‘আমি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ভুনা মাংস খেতে ইচ্ছা করছি, কিন্তু আমার কাছে এমন একটি দিরহামও আসেনি যা একেবারে নির্ভেজাল হালাল ছিল।’

আবু ইমরান আল-ওয়ারকানী বলেন, একবার বিশরের লুঙ্গি ছিঁড়ে গিয়েছিল। তাঁর বোন বললেন, ‘হে ভাই, তোমার কাপড় ছিঁড়ে গেছে, এখন তো শীতের সময়। তুমি যদি একটু তুলা এনে দাও, আমি সুতা কেটে তোমার জন্য নতুন কাপড় বুনে দিতে পারি।’বিশর তখন দুই-তিন ব্যাগ তুলা আনলেন। বোন সেগুলো কেটে সুতায় পরিণত করলেন এবং পরে বললেন, ‘হে ভাই, সুতা প্রস্তুত হয়েছে, এখন তোমার কাপড়টি দাও, বুনে ফেলি।’বিশর বললেন, ‘দাও দেখি।’তিনি সুতাগুলো ওজন করলেন এবং দেখলেন, সেটি তাঁর আনা তুলার চেয়ে বেশি। তখন তিনি বললেন, ‘তুমি এটা নষ্ট করেছো, তাই এটা তুমি রাখো।’(অর্থাৎ, তিনি সন্দেহ করলেন যে, অতিরিক্ত সুতাটি কোথা থেকে এসেছে, তাই নিজের জন্য তা গ্রহণ করলেন না।)

হাসান ইবনু আমর ইবনু আল-জাহম বলেন, আমি আবু নসর আত্‌ তাম্মার-কে বিশরের মৃত্যুর দিন বলতে শুনেছি, ‘যদি বিশর আজ মারা না যেতেন, আমি তোমাদের এই ঘটনা বলতাম না। তিনি বললেন, এক রাতে বিশর আমার কাছে এলেন। আমি বললাম, ‘হে আবু নসর, আল্লাহর প্রশংসা, আপনি এসেছেন! আমাদের কাছে খোরাসান থেকে তুলা এসেছিল। আমার মেয়ে সেটি কেটে সুতায় রূপান্তর করেছে, আমরা তা বিক্রি করেছি, এবং সেই অর্থে কিছু মাংস ও কিছু জিনিস কিনেছি। আমি চাচ্ছিলাম আজ সেটি দিয়ে ইফতার করি। আল্লাহর প্রশংসা, আপনি এসেছেন।’ বিশর (রহ.) বললেন, ‘হে আবু নসর, এত কথা বলো না। যদি আমি দুনিয়াদার কারো কাছে খেতাম, তবে তোমার কাছেই খেতাম। কিন্তু শোনো, আমি প্রায় ত্রিশ বছর ধরে বেগুন খেতে ইচ্ছা করছি, কিন্তু যতক্ষণ না আমি নিশ্চিত হই যে এই বেগুনের একটি দানা পর্যন্ত সন্দেহমুক্ত হালাল, ততক্ষণ আমি তা মুখে দিই না।’আমি বললাম, ‘আমাদের বাড়িতেই তো বেগুন আছে!’ তিনি বললেন, ‘না, আগে দেখি তো এই বেগুনের দানাটি কোথা থেকে এসেছে?’

ইবরাহিম ইবন হাশিম বলেন: আমি বিশর ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি, ‘আমি পঞ্চাশ বছর ধরে ভুনা মাংস আর পাতলা রুটি খেতে চাচ্ছি, কিন্তু একটিও দিরহাম আমার হাতে আসেনি, যা পুরোপুরি পরিশুদ্ধ (হালাল ও সন্দেহমুক্ত)।”

আল-ফাতহ ইবন শুহরফ বলেন, উমর যিনি বিশরের ভাগনে, তিনি আমাকে বললেন, আমি আমার মামা বিশরকে বলতে শুনেছি, ‘আমার পেট ব্যথা করছে, পাশে ধড়ফড় করছে।’তখন আমার মা বললেন, ‘হে ভাই, আমাকে অনুমতি দাও, আমার কাছে অল্প কিছু ময়দা আছে, আমি সামান্য হালকা খাবার তৈরি করে দিই, এতে তোমার পেট কিছুটা আরাম পাবে।’বিশর বললেন,‘হায় তোমার দশা, আমি আশঙ্কা করছি, আমার প্রভু যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন এই ময়দা কোথা থেকে পেলে? আমি তো জানি না কী উত্তর দেব!’ এই কথা শুনে আমার মা কেঁদে ফেললেন। বিশরও কাঁদলেন আর আমিও তাদের সঙ্গে কাঁদতে লাগলাম।

উমর বলেন, এক রাতে আমার মা দেখলেন যে বিশর প্রবল ক্ষুধায় কাতর হয়ে খুব দুর্বলভাবে শ্বাস নিচ্ছেন। তখন আমার মা কেঁদে বললেন, ‘হে ভাই, হায়, যদি মা তোমাকে জন্মই না দিতেন! আল্লাহর কসম, তোমাকে এই অবস্থায় দেখে আমার অন্তর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে।’ বিশর উত্তর দিলেন, ‘আর আমিও চাইতাম তোমার মা যেন আমাকে জন্ম না দিতেন। আর যদি জন্মই দিয়ে থাকেন, তবে যেন আমার জন্য তাঁর স্তন দুধ না দিতো।’ উমর বলেন, ‘আমার মা দিনরাত তাঁর জন্য কাঁদতেন।’

এক ব্যক্তি বিশরকে জিজ্ঞাসা করল, ‘হে বিশর, আপনাকে সবসময় বিমর্ষ দেখি কেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি কেন বিমর্ষ হব না, যখন আমি এক অভিযুক্ত মানুষ। আল্লাহর কাছে আমার হিসাব নেওয়া হবে!’১০

কুরআন সম্পর্কে তাঁর আকিদা:

আবদুর রহমান ইবনু আবি হাতিম বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, যিনি ছিলেন বিশর ইবনুল হারিস (রহ.)-এর সঙ্গী। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বিশরকে বলল, ‘এই ব্যক্তির কাছে বলা হয়েছে ‘আল্লাহ তো ক্বাদিম, আর তাঁর ব্যতীত সবকিছু সৃষ্টি।’ তখন বিশর সেই ব্যক্তিকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বললেন, ‘না, সবকিছু সৃষ্টি, কিন্তু কুরআন সৃষ্টি নয়।’১১

হাদিসের প্রতি তাঁর অনুরাগ:

আহমাদ ইবনু বিশর আল-মারসাদী বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনু হাশিম।

তিনি বলেন, আমরা যখন বিশর ইবনুল হারিস (রহ)-কে দাফন করলাম, তখন তাঁর সঙ্গে আমরা আঠারোটি বাক্স থেকে শুরু করে ছোট ঝুড়ি পর্যন্ত পরিমাণের হাদিসসংগ্রহ দাফন করেছিলাম। অর্থাৎ তাঁর কাছে বিপুল হাদিসের ভাণ্ডার ছিল।১২

তাঁর মর্যাদা:

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি আছেন যিনি আমার কাছে অতি প্রিয়। তিনি হলেন বিশর ইবনুল হারিস তিনি ছাড়া অন্য কেউ আমার কাছে এতটা প্রিয় নয়।’১৩

সুলামী বলেন, বিশর ইবনুল হারিস (রহ.) ছিলেন মর্যাদাবান পরিবার থেকে, তিনি ফুদাইল-এর সঙ্গী ছিলেন। আমি ইমাম দারাকুতনি-কে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, ‘বিশর একজন পাহাড়ের মতো জাহাজি (অত্যন্ত দৃঢ়) জাহিরকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, অত্যন্ত বিশ্বস্ত, তিনি শুধু সঠিক হাদিসই বর্ণনা করতেন।’

ইব্রাহিম আল-হারবী বলেন, ‘যদি বিশরের (রহ:) বুদ্ধি বা জ্ঞান বাগদাদের মানুষদের মধ্যে ভাগ করা হতো, তাহলে তারা সকলেই বুদ্ধিমান হতেন।’১৪

ইয়াহইয়া ইবনু আকসাম বলেন, খলিফা আল-মামুন আমাকে বলেছিলেন, ‘এই অঞ্চলে এমন কেউ অবশিষ্ট নেই, যার প্রতি সম্মান ও লজ্জা অনুভব করা যায়। শুধু শায়খ বিশর ইবনুল হারিস ব্যতীত।’ (অর্থাৎ, তাঁর চরিত্র ও মর্যাদা এমন উচ্চ ছিল যে, খলিফা নিজেও তাঁর সামনে লজ্জাবোধ করতেন।) ১৫

 বিশর হাফি (রহ.) ও এক মাতাল:

মুহাম্মদ ইবনু কুদামা বলেন, একবার বিশর ইবনুল হারিসের কাছে এক মাতাল লোক এল। সে বিশরকে আলিঙ্গন করল ও চুমু দিতে লাগল। বলল, ‘হে আমার প্রভু, হে আবু নসর।’ বিশর (রহ.) তাঁকে প্রতিহত করলেন না; বরং ধৈর্য ধরে থাকলেন। যখন সেই মাতাল চলে গেল, বিশরের চোখ অশ্রুতে ভরে উঠল। তিনি বললেন, ‘একজন মানুষ অন্যকে ভালোবেসেছে কেবল ভালো ধারণার কারণে। হয়তো সেই প্রেমিকই মুক্তি পাবে, আর যার জন্য সে ভালোবাসে, সে জানেই না তার অবস্থা কী!’১৬

বিশর হাফি (রহ.) ও ফল দোকান:

এক ব্যক্তি বলেন, আমি দেখেছি, বিশর ইবনুল হারিস ফল বিক্রেতাদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ফলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আবু নসর, আপনি কি এসব ফল খেতে ইচ্ছা করছেন?’ তিনি বললেন, ‘না, আমি ভাবছিলাম যে, মহান প্রভু এই ফল খাওয়ান তাদের, যারা তাঁর অবাধ্য, তিনি তাহলে কেমন উদারতা দেখাবেন তাঁদের প্রতি, যারা তাঁর আনুগত্য করে!’১৭

দরিদ্রদের প্রতি তাঁর সহানুভূতি:

কেউ একজন বর্ণনা করেন, ‘আমি তীব্র শীতের এক দিনে বিশরের কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি কাপড় খুলে ফেলেছিলেন এবং কাঁপছিলেন। আমি তাঁকে বললাম, ‘এই রকম দিনে মানুষ আরও বেশি কাপড় পরে, আর আপনি উল্টো কমিয়ে দিয়েছেন!’ তিনি বললেন, ‘আমি দরিদ্রদের কথা এবং তাদের কষ্টের কথা স্মরণ করেছি। আর তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো আমার কিছু ছিল না, তাই আমি নিজের শরীরে ঠাণ্ডার কষ্ট অনুভব করে তাদের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করতে চেয়েছি।’১৮

এক সুফি-বিদ্বেষী ব্যক্তির পরিবর্তনের ঘটনা:

আবু আবদুল্লাহ আল-মুহামিলি বলেছেন, আমার বাবা আমাকে জানিয়েছেন, ‘আমার একজন ব্যবসায়ী বন্ধু ছিল, যে সুফিদের সম্পর্কে অনেক নিন্দা করত। এরপর আমি তাকে দেখলাম তাদের সাথে মিশতে এবং তাদের জন্য তার সম্পদ খরচ করতে। আমি তাকে বললাম, ‘আপনি কি তাদের ঘৃণা করতেন না?’ সে বলল, ‘বিষয়টা এমন নয় যেমনটা আমি মনে করতাম।’ আমি তাকে বললাম, ‘কীভাবে?’ সে বলল, ‘একদিন আমি জুমার নামাজ পড়লাম, তখন দেখলাম বিশর আল-হাফি খুব দ্রুত মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে মনে বললাম, ‘আমি এই সংসারবিরাগী লোকটিকে দেখব!’ সে এক দিরহামের রুটি, তারপর একই মূল্যের কাবাব কিনল, এতে আমার রাগ আরও বেড়ে গেল। এরপর এক দিরহামের ফালুযাজ (এক ধরনের মিষ্টি খাবার) কিনল। আমি তার পিছু নিলাম।

সে মরুভূমির দিকে বের হলো, আর আমি ভাবছিলাম, সে সবুজের সমারোহ ও পানির কাছে যেতে চায়! সে আসরের সময় পর্যন্ত একটানা হাঁটতে থাকল, আর আমি তার পিছনে ছিলাম। সে একটি গ্রামের মসজিদে প্রবেশ করল, যেখানে একজন অসুস্থ লোক ছিল। সে তখন তাকে খাওয়াতে শুরু করল। আমি উঠে গিয়ে গ্রামটি ঘুরে দেখলাম এবং ফিরে এসে অসুস্থ লোকটিকে বললাম, ‘বিশর কোথায়?’ সে বলল, ‘তিনি বাগদাদ চলে গেছেন।’ আমি বললাম, ‘আমার আর বাগদাদের মধ্যে দূরত্ব কত?’ সে বলল, ‘চল্লিশ ফারসাখ (প্রায় ২২০ কিলোমিটার)’। আমি বললাম, ‘ইন্না লিল্লাহ, আমি এত দ্রুত এত দূর কীভাবে চলে এলাম। তখন সে বলল, ‘বসেন, তিনি ফিরে আসবেন।’

পরের জুমাবারে তিনি ফিরে এলেন এবং তার সাথে অসুস্থ লোকটিকে দেওয়ার জন্য কিছু খাবার ছিল। যখন তিনি কাজ শেষ করলেন, তখন অসুস্থ লোকটি তাঁকে বলল, ‘হে আবু নসর, এই লোকটি বাগদাদ থেকে এসেছে এবং সে এক সপ্তাহ ধরে আমার কাছে আছে।’ তখন বিশর রাগান্বিতের মতো আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন, ‘তুমি কেন আমার পিছু নিয়েছিলে?’ ‘আমি বললাম, ‘আমি ভুল করেছি!’ তিনি বললেন, ‘ওঠো এবং হাঁটো!’ আমি মাগরিবের সময় পর্যন্ত হাঁটলাম। আশ্চর্য, আমরা অল্প সময়ে এত পথ কীভাবে এলাম! যখন আমরা বাগদাদের কাছাকাছি পৌঁছলাম, তখন তিনি বললেন, ‘তোমার মহল্লায় যাও এবং আর ফিরে এসো না!’ এরপর আমি তাদের (সুফিদের) সম্পর্কে যা বিশ্বাস করতাম তা থেকে আল্লাহর কাছে তাওবা করলাম এবং তাদের ভালোবাসা আমার অন্তরে স্থান পেল, আর আমি সেই পথেই আছি।১৯

তাঁর মতে ফকির তিন প্রকার:

আব্বাস ইবনে দিহকান বলেন, ‘আমি বিশর হাফির কাছে ছিলাম যখন তিনি ‘রিদা ও তাসলিম’ (সন্তুষ্টি ও প্রশান্তি) সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন একজন সুফি তাঁর কাছে এল এবং বলল, ‘হে আবু নাসর, তুমি অন্যদের হাত থেকে সাহায্য গ্রহণ বন্ধ করেছো, যেন নিজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করো। যদি তুমি সত্যিকারভাবে জাহেদের (লৌকিক জীবনের অনাগ্রহ) প্রতি অনুগত এবং দুনিয়ার প্রতি বিমুখ হয়ে থাকো, তবে তাদের হাত থেকে গ্রহণ করো, যেন তোমার মর্যাদা তাদের কাছে পরীক্ষা হয়। তারপর যা কিছু তারা তোমাকে দেবে তা দরিদ্রদের কাছে বিতরণ করো। আর তওয়াক্কুলের বন্ধনে থাকো এবং তোমার রুজি অজ্ঞাতের (আল্লাহর নিকট থেকে) দিকে নির্ভর করো।’ এটি শুনে বিশরের সাথিরা কিছুটা দুঃখিত হয়েছিলেন।

তখন বিশর বললেন,‘শোনো, হে মানুষ, ফকির তিন প্রকার। ১. এক প্রকার ফকির থাকে যিনি কখনও কারো থেকে কিছু চায় না এবং যদি কিছু দেওয়া হয়, তা গ্রহণ করে না। এরা হল আধ্যাত্মিক লোক, যারা শুধু আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট থাকে; যখন তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাদের দান করেন। আর যদি তারা আল্লাহর নামে শপথ করে, আল্লাহ তাদের শপথ পূর্ণ করেন। ২. দ্বিতীয় প্রকার ফকির থাকে, যিনি চায় না কিন্তু কেউ কিছু দিলে গ্রহণ করেন। এরা মধ্যপন্থী লোক, যারা তাওয়াক্কুল এবং আল্লাহর প্রতি স্থির মনোভাবের অধিকারী। এদের জন্য জান্নাতের প্রাচীরে খাবারের থালাগুলো প্রস্তুত থাকে। ৩. তৃতীয় প্রকার ফকির থাকে, যিনি ধৈর্যধারণ ও সময়কে মোকাবিলা করতে শিখেছেন। যখন তাঁর প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তিনি আল্লাহর অলিদের কাছে যান এবং তাঁর হৃদয় আল্লাহর দিকে থাকে, তাঁর চাওয়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। তাদের জন্য চাওয়ার সময় দেওয়া দান হলো আল্লাহর কাছে সত্যনিষ্ঠা প্রকাশের মাধ্যম।’এটি শুনে সেই ব্যক্তি বলল,‘আমি সন্তুষ্ট, আল্লাহ আপনার উপর সন্তুষ্ট হোন।’২০

তাঁর বোনদের বর্ণনা:

বিশর আল-হাফির তিন বোন ছিলেন— মুদ্বগা, মুখখা এবং যুবদা । তারা ছিলেন দুনিয়াত্যাগী, ইবাদতকারী ও পরহেজগার নারী। তাঁদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন মুদ্বগা, যিনি বিশরের মৃত্যুর আগেই ইন্তিকাল করেন। বিশর তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক অনুভব করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কিছু কিতাবে পড়েছি যে, বান্দা যখন তার রবের খিদমতে ত্রুটি করে, তখন আল্লাহ তার থেকে তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে কেড়ে নেন, আর আমার এই বোন মুদ্বগা ছিল দুনিয়াতে আমার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী।’

আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেন, একজন মহিলা আমার বাবার (ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলের) কাছে এসে বললেন, ‘হে আবু আবদুল্লাহ, আমি একজন মহিলা, আমি রাতে প্রদীপের আলোতে সুতা কাটি, কিন্তু কখনো কখনো প্রদীপ নিভে গেলে আমি চাঁদের আলোতে সুতা কাটি। বিক্রির সময় কি আমার উপর প্রদীপের আলোতে কাটা সুতা এবং চাঁদের আলোতে কাটা সুতা আলাদা করে দেওয়া আবশ্যক?’ আমার বাবা তাঁকে বললেন, ‘যদি তোমার কাছে দুটোর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে, তবে তোমার ওপর তা আলাদা করে দেওয়া আবশ্যক।’ এরপর তিনি তাঁকে বললেন, ‘হে আবু আবদুল্লাহ, রোগীর আর্তনাদ কি অভিযোগ?’

আমার বাবা বললেন, ‘আমি আশা করি যে, এটা অভিযোগ নয়, বরং এটা আল্লাহর কাছে দুঃখ প্রকাশ।’ এরপর তিনি চলে গেলেন। আবদুল্লাহ বলেন, তখন আমার বাবা আমাকে বললেন, ‘বৎস, এই মহিলা যা জিজ্ঞাসা করলেন, এমন জিজ্ঞাসা করতে আমি আর কাউকে শুনিনি, তুমি তাঁর পিছু নাও।’ আবদুল্লাহ বলেন, আমি তাঁর পিছু নিলাম, যতক্ষণ না তিনি বিশর আল-হাফির ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি বিশরের বোন। আমি বাবার কাছে এসে তাঁকে বললাম, ‘ঐ মহিলা বিশর আল-হাফির বোন।’ তখন আমার বাবা বললেন, ‘আল্লাহর কসম, এটাই সঠিক। এই মহিলা বিশর আল-হাফির বোন ছাড়া অন্য কেউ হতে পারে না।’

আবদুল্লাহ আরও বলেন, বিশ্‌র আল-হাফির বোন মুখখা আমার বাবার কাছে এসে বললেন, ‘হে আবু আবদুল্লাহ, আমার মূলধন হলো দুটি দানিক (মুদ্রা), যা দিয়ে আমি তুলা কিনি এবং তা থেকে সুতা কেটে অর্ধেক দিরহামে বিক্রি করি। এরপর প্রতি শুক্রবার পর্যন্ত এক দানিক খরচ করি। একবার এক রাতে পথচারী মশাল নিয়ে যাচ্ছিল, তখন আমি মশালের আলো ব্যবহার করে দ্রুত দুটি সুতার ফালি কেটে নিই। আমি জানি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমার কাছে এর হিসেব চাইবেন, তাই আপনি আমাকে এর থেকে মুক্তি দিন, আল্লাহ আপনাকে মুক্তি দিন।’ তখন আমার বাবা বললেন, ‘তুমি দুটি দানিকই দান করে দাও, আর কোনো মূলধন ছাড়া থাকো, যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দেন।’ আবদুল্লাহ বলেন, তখন আমি আমার বাবাকে বললাম, ‘আপনি যদি তাঁকে বলতেন যে, তিনি যেন শুধু তাঁর মূলধনের সমপরিমাণ দান করেন।’ তিনি বললেন, ‘বৎস, তাঁর প্রশ্ন কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ রাখে না। এই মহিলা কে?’ আমি বললাম, ‘তিনি হলেন বিশ্‌র আল-হাফির বোন মুখখা। তখন আমার বাবা বললেন, ‘এ জন্যই তো এই অবস্থা।’

বিশর আল-হাফি বলেছেন, ‘আমি আমার বোনের কাছ থেকে দুনিয়াত্যাগের শিক্ষা লাভ করেছি, কারণ সে এমন কিছু খেত না, যা তৈরি করতে কোনো সৃষ্টির হাত লেগেছে।’২১

কারামত:

মনসুর আস-সাইয়্যাদ বলেছেন, ‘বিশর ঈদের নামাজ থেকে ফেরার পথে আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি আমাকে বললেন, ‘এই সময়ে কাজ করছ?’ আমি বললাম, ‘ঘরে কোনো আটা বা রুটি নেই!’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহই ভরসা, তোমার জাল নাও এবং খন্দকের (খাল/নালা) দিকে এসো।’ তিনি আমাকে অজু করতে এবং দুরাকাত নামাজ আদায় করতে বললেন। তারপর আমাকে বললেন, ‘এটা নিক্ষেপ করো এবং ‘বিসমিল্লাহ’ বলো! আমি জাল নিক্ষেপ করলাম, তাতে একটা বড় মাছ ধরা পড়ল। তিনি বললেন, এটা বিক্রি করো। আমি সেটা দশ দিরহামে বিক্রি করলাম এবং তা দিয়ে প্রয়োজনীয় সবকিছু কিনলাম।

তারপর আমি দুটি রুটি এবং তার উপর কিছু মিষ্টি নিয়ে বিশরের কাছে এলাম। আমি দরজায় ধাক্কা দিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম, মনসুর আস-সাইয়্যাদ। তিনি বললেন, দরজা ঠেলে ভেতরে এসো, তোমার সাথে যা আছে তা বারান্দায় রেখে তুমি ভেতরে প্রবেশ করো। আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি বললেন, যদি আমরা নিজেদের এইরকম আকাঙ্ক্ষা (উপহার লাভের) করতে দিতাম, তাহলে মাছটা ধরা পড়ত না!।’২২

আলেমদের প্রতি নসিহত:

বিশর (রহ.) আলেমদের উদ্দেশে বললেন,“তোমরা জানো, ধনের মতো জ্ঞানেও জাকাত আছে। যেমন কেউ দু’শ দিরহাম মালিক হলে পাঁচ দিরহাম জাকাত দিতে হয়, তেমনি কেউ যদি দু’শ হাদিস শোনে, তবে অন্তত পাঁচটি হাদিসের ওপর আমল করা তার কর্তব্য। যদি তা না করো, তবে ভেবে দেখো, কাল কিয়ামতের ময়দানে তোমাদের অবস্থা কী হবে!”২৩

বাণী ও নসিহত:

১. আবু বকর আল-মারওয়াজী বলেন, আমি বিশর (রহ.)-কে বলতে শুনেছি,“ক্ষুধা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, প্রবৃত্তিকে মেরে ফেলে এবং সূক্ষ্ম জ্ঞান দান করে।”

২. যে ব্যক্তি ক্ষুধার মধ্যে ধৈর্য ধারণ করে, সে যেন আল্লাহর পথে নিজ রক্তে লুটিয়ে পড়া মুজাহিদ।

৩. একজন চোর উদার হলে, সে আল্লাহর কাছে একজন কৃপণ সুফির চেয়েও প্রিয়।

৪. গতকাল (অতীত) তো মরে গেছে, আজ (বর্তমান) মৃত্যুযন্ত্রণার মধ্যে আছে, আর আগামীকাল (ভবিষ্যৎ) এখনো জন্ম নেয়নি।

৫. যে ব্যক্তি নারীদের উরু ও নরম জীবনের সান্নিধ্যে অভ্যস্ত, সে কখনোই সফল হতে পারে না।

৬. যখন কোনো কথা তোমার পছন্দ হয়, তখন চুপ থেকো। আর যখন চুপ থাকা তোমার কাছে ভালো লাগে, তখন কথা বলো।

৭. এক ব্যক্তি তাঁকে (বিশর রহ.) বলতে শুনল, “হে আল্লাহ, আপনি তো জানেন, অবমাননা আমার কাছে সম্মানের চেয়ে প্রিয়, দারিদ্র্য আমার কাছে সম্পদের চেয়ে প্রিয়, এবং মৃত্যু আমার কাছে জীবনের চেয়ে প্রিয়।”

৮. কখনও একজন মানুষ মৃত্যুর পরও রিয়াকারে পরিণত হয়। সে চায়, তার জানাযায় অনেক লোক উপস্থিত হোক।

৯. তুমি কখনোই ইবাদতের মিষ্টতা অনুভব করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি নিজের ও কামনা-বাসনার মাঝে এক প্রাচীর দাঁড় করাও।

১০. মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না বর্ণনা করেন, বিশর (রহ.) বলেছেন, “যে কেউ এই দুনিয়াকে ভালোবাসে, সে মৃত্যুকে ভালোবাসে না; আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি ত্যাগী, সে তার প্রভুর সাক্ষাৎকে ভালোবাসে।”

১১. যে ব্যক্তি খ্যাতি (মানুষের প্রশংসা) ভালোবাসে, সে আল্লাহকে ভয় করে না।

১২. কোনো কাজ এমনভাবে করো, যাতে তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়; নিজের সাফল্য বা প্রশংসা দেখানোর জন্য নয়। ভালো কাজ লুকিয়ে রাখো যেমন তুমি মন্দ কাজ লুকিয়ে রাখো।২৪

১৩. হাসান ইবনু আমর আস-সাবিই বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিস-কে বলতে শুনেছি,“এক সময় এমন আসবে, যখন জ্ঞানী মানুষের চোখে প্রশান্তি থাকবে না। আর এমন সময়ও আসবে, যখন বোকাদের উপরেই বুদ্ধিমানদের রাষ্ট্র ও ক্ষমতা ন্যস্ত হবে।”আর এই বর্ণনাসূত্র দিয়েই বলা হয়েছে যে, আমি বিশরকে বলতে শুনেছি,“মূর্খের দিকে তাকানো চোখের জন্য উষ্ণতা ও কষ্টের কারণ, আর কৃপণের দিকে তাকানো হৃদয়কে কঠোর করে দেয়।”একই ইসনাদে দিয়ে বর্ণিত, আমি বিশর-কে বলতে শুনেছি,“সুন্দর ধৈর্য হলো সেই ধৈর্য, যাতে মানুষের কাছে নিজের কষ্টের অভিযোগ করা হয় না।”তিনি আরও বলেন, আমি বিশর-কে বলতে শুনেছি,“তুমি তখনই পূর্ণাঙ্গ (মানুষ) হবে, যখন তোমার শত্রুও তোমার কাছ থেকে নিরাপদ থাকবে। তুমি কীভাবে ভালো হতে পারো, যখন তোমার বন্ধু পর্যন্ত তোমার থেকে নিরাপদ নয়?” তিনি আরও বলেন, আমি বিশর-কে বলতে শুনেছি,“দোয়া হলো গুনাহ ত্যাগ করা।”

১৪. ধরা যাক, তুমি ভয় পাও না; তবুও কি তুমি (আল্লাহর) সাক্ষাৎ কামনা করো না?”

১৫. কারি (কুরআন পাঠকারীদের) ধ্বংস হয়েছে এই দুই গুণের কারণে— গীবত (অপরের নিন্দা) ও আত্মগরিমা (নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবা)।

১৬. যে ব্যক্তি অপমান ও কষ্ট সহ্য করতে পারে না, সে কখনও নিজের কাঙ্ক্ষিত প্রিয় বিষয় লাভ করতে সক্ষম হয় না।

১৭. কতই না কুৎসিত ব্যাপার যে, একজন আলিমকে খুঁজতে গেলে বলা হয় ‘তিনি তো এখন আমিরের দরজায় আছেন।

১৮. আমি কোনো কিছু এমন লজ্জাজনক দেখি না, যা একজন বান্দাকে তার নিজের পেট (অতিরিক্ত ভোজন) দ্বারা লাঞ্ছিত করে।

১৯. তুমি এমন ব্যক্তির সঙ্গে বসো না, যে তোমাকে তোমার আখিরাতের কাজে সহায়তা করে না।

২০. মানুষের পরিচিতি লাভের আকাঙ্ক্ষা দুনিয়ার ভালোবাসার মূল শিকড়।

২১. ইব্রাহিম আল-হারবী বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি,“তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট প্রমাণ যে, এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা মৃত, কিন্তু তাঁদের স্মরণে হৃদয় জীবিত হয়ে যায়। আবার এমনও আছেন, যাঁরা জীবিত, কিন্তু তাঁদের দর্শনে হৃদয় কঠিন হয়ে যায়।”২৫

ইন্তেকাল:

হজরত বিশর ইবনুল হারিস আল-হাফি (রহ:) ইন্তেকাল করেছেন শুক্রবার, রবিউল আউয়াল মাসে, ২২৭ হিজরিতে, খলিফা আল-মুতাসিমের রাজত্বের ছয় দিন আগে। তিনি ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।২৬

ইয়াহইয়া ইবনু আব্দুল হামীদ আল-হিম্মানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিসের জানাজায় আবু নাসর আত-তাম্মার এবং আলী ইবনুল মাদীনীকে দেখেছি, তাঁরা চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আল্লাহর কসম, এটা আখেরাতের সম্মানের আগে দুনিয়ার সম্মান।’ এর কারণ হলো, বিশরের জানাজা ফজরের নামাজের পর বের হয়েছিল, কিন্তু রাতের বেলা না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কবরে রাখা সম্ভব হয়নি। সেদিন ছিল গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরমের দিন, আর এশার সময় না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কবরে স্থিত করা যায়নি।

আল-কিন্দী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিসকে স্বপ্নে দেখে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আল্লাহ আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন?’ তিনি বললেন, ‘তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং একটি সাদা মুক্তার তৈরি উড়ন্ত জিনিসের উপর বসিয়েছেন এবং আমাকে বলেছেন, ‘তুমি আমার রাজত্বের মধ্যে ভ্রমণ করো।’

হাসান ইবনু মারওয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিসকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আবু নাসর, আল্লাহ আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন?’ তিনি বললেন, ‘তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমার জানাজায় যারা অংশগ্রহণ করেছে, তাদের সকলকেই ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ আমি বললাম, ‘তাহলে এখন আমল কীসের জন্য?’ তিনি বললেন, ‘রুটির টুকরা (খাদ্যের সামান্য অংশ) খুঁজে ফিরি।’

ইবনু খুজাইমা বলেন, যখন আহমাদ ইবনু হাম্বল ইন্তেকাল করলেন, আমি সেই রাতেই ঘুমিয়েছিলাম। আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আল্লাহ আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন?’ তিনি বললেন, ‘তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, আমাকে মুকুট পরিয়েছেন এবং সোনার তৈরি জুতা পরিয়ে দিয়েছেন। আর আমাকে বলেছেন, ‘হে আহমাদ, এটা তোমার এই কথার জন্য যে, কুরআন আমার কালাম।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘বিশর কী করেছেন?’ তিনি বললেন, ‘বাহ, বাহ, বিশরের মতো আর কে আছে? আমি তাঁকে মহান আল্লাহর সামনে দেখেছি, আর তাঁর সামনে খাদ্যের একটি দস্তরখান। মহান আল্লাহ তাঁর দিকে মনোযোগী হয়ে তাঁকে বলছেন, ‘খাও, হে সে জন, যে কখনো খাওনি! পান করো, হে সে জন, যে কখনো পান করোনি! উপভোগ করো হে সে জন, যে কখনো উপভোগ করোনি!’ ২৭