<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সোহরাওয়ার্দিয়া Archives - Sufigraphy</title>
	<atom:link href="https://sufigraphy.com/darbar/%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://sufigraphy.com/darbar/সোহরাওয়ার্দিয়া/</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Sat, 23 May 2026 10:17:59 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.4</generator>

<image>
	<url>https://sufigraphy.com/wp-content/uploads/2026/01/Sufigraphy-logo-150x150.png</url>
	<title>সোহরাওয়ার্দিয়া Archives - Sufigraphy</title>
	<link>https://sufigraphy.com/darbar/সোহরাওয়ার্দিয়া/</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.)</title>
		<link>https://sufigraphy.com/bio/attar-of-nishapur/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sufieditor]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 23 May 2026 10:06:09 +0000</pubDate>
				<guid isPermaLink="false">https://sufigraphy.com/?post_type=bio&#038;p=3694</guid>

					<description><![CDATA[<p>পারস্যের আকাশে যখন আত্মিক শূন্যতা ও জাগতিক মোহের ঘন মেঘ জমেছিল, তখন একদল আলোকবর্তিকা মানবতার পথ দেখাতে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁদেরই অন্যতম ছিলেন শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.)। যিনি শুধু একজন সুফি সাধকই নন; বরং ছিলেন হৃদয়ের ভাষায় কথা বলা এক মহাকবি, প্রেমের দার্শনিক এবং আত্মশুদ্ধির আহ্বায়ক। তাঁর কলমে যেমন ঝরেছে আল্লাহপ্রেমের অমৃতধারা, তেমনি তাঁর জীবন ছিল [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://sufigraphy.com/bio/attar-of-nishapur/">শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.)</a> appeared first on <a href="https://sufigraphy.com">Sufigraphy</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>পারস্যের আকাশে যখন আত্মিক শূন্যতা ও জাগতিক মোহের ঘন মেঘ জমেছিল, তখন একদল আলোকবর্তিকা মানবতার পথ দেখাতে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁদেরই অন্যতম ছিলেন শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.)। যিনি শুধু একজন সুফি সাধকই নন; বরং ছিলেন হৃদয়ের ভাষায় কথা বলা এক মহাকবি, প্রেমের দার্শনিক এবং আত্মশুদ্ধির আহ্বায়ক। তাঁর কলমে যেমন ঝরেছে আল্লাহপ্রেমের অমৃতধারা, তেমনি তাঁর জীবন ছিল ত্যাগ, সাধনা ও মানবকল্যাণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।</p>
<p>‘আত্তার’ শব্দের অর্থ সুগন্ধিবিক্রেতা। জীবনের প্রথমদিকে তিনি ওষুধ ও সুগন্ধির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু মানুষের দুঃখ, মৃত্যু ও জীবনের অনিশ্চয়তা তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। এক আধ্যাত্মিক ঘটনার পর তাঁর অন্তরে সৃষ্টি হয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন; তিনি দুনিয়ার চাকচিক্য ত্যাগ করে আত্মার মুক্তির সন্ধানে আত্মনিয়োগ করেন। সেই থেকে শুরু হয় তাঁর তাসাউফময় জীবনযাত্রা।</p>
<h2>প্রাথমিক পরিচিতি:</h2>
<p>তিনি ৫১৩ হিজরি মোতাবেক ১১১৯ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যের নিশাপুরের উপকণ্ঠে জন্মগ্রহণ করেন। হজরত ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.)-এর প্রকৃত নাম ছিল ‘মুহাম্মদ’। তাঁর পিতার নাম ছিল আবু বকর ইবরাহীম। তাঁর কুনিয়াত ছিল ‘আবু হামিদ’ অথবা ‘আবু তালিব’। ‘ফরিদুদ্দীন’ ছিল তাঁর উপাধি এবং ‘আত্তার’ ছিল তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। এভাবেই তাঁর পূর্ণ নাম দাঁড়ায় ‘আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবরাহীম’। তবে তিনি নিজ নামের চেয়ে ‘ফরিদুদ্দীন আত্তার’ নামেই সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন।</p>
<p>আউলিয়ায়ে কিরামের মধ্যে তাঁর মর্যাদা ছিল অত্যন্ত উচ্চ। যখন তিনি দরবেশি জীবন গ্রহণ করেন, তখন তাওয়াক্কুল, তাকওয়া ও পরহেজগারিতে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন। তিনি ছিলেন উচ্চমানের একজন লেখক ও সাহিত্যিক। তাঁর লেখালিখির শক্তি এতই বিস্ময়কর ছিল যে, তিনি প্রায় ১১৪টি গ্রন্থ রচনা করেন। গদ্য-পদ্য উভয় ধারাতেই তিনি অসংখ্য মূল্যবান রচনা রেখে গেছেন।<a href="#_ftn1" name="_ftnref1">[1]</a></p>
<h2>পরিবার:</h2>
<p>তাঁর পরিবার সম্পর্কে ইতিহাসে খুব বেশি তথ্য সংরক্ষিত নেই; ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু অল্প বিবরণই পাওয়া যায়। তাঁর পিতা ছিলেন একজন আতর ও ঔষধ ব্যবসায়ী, আর ফরিদুদ্দীন আত্তারও পিতার সেই পেশাই উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করেছিলেন।</p>
<p>ঐতিহাসিক রেজা কুলি খান তাঁর রিয়াযুল আরেফিন গ্রন্থে লিখেছেন, “আত্তার তাঁর পূর্বপুরুষদের মতোই ধন-সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি ইলাহি ও প্রাকৃতিক জ্ঞানে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং নিশাপুরের আতর ব্যবসায়ীদের বহু দোকানের মালিক ছিলেন।</p>
<p>আত্তার (রহ.)-এর নিজের রচনাগুলোতেও তাঁর পারিবারিক জীবনের কিছু আবেগঘন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আসরারনামা’য় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যখন তাঁর পিতা বার্ধক্যে উপনীত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি ছিলেন অল্পবয়সী। তিনি পিতার জন্য দোয়া করে লিখেছেন, “হে আল্লাহ, এই পবিত্র হৃদয়ের মানুষটির প্রতি রহম করুন। ইসলামের পথে চলতে চলতে তাঁর চুল সাদা হয়ে গিয়েছিল; তাঁকে হতাশার অন্ধকারে ফেলে দেবেন না।”</p>
<p>তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মৃত্যুশয্যায় তাঁর পিতা তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন, আর তাঁর মা সেই দোয়ার ওপর ‘আমিন’ বলেছিলেন।</p>
<p>তাঁর মা দীর্ঘদিন জীবিত ছিলেন এবং আত্তার (রহ.) যখন প্রবীণ বয়সে উপনীত হন, তখন তাঁর মা ইন্তিকাল করেন। ‘খসরু ও গুল’-এর শেষাংশে তিনি মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন—</p>
<p>এই পৃথিবীতে আমার প্রকৃত সান্ত্বনা ছিল শুধু আমার মা; আজ তিনি চলে গেছেন।</p>
<p>এই দুর্বল নারীই ছিল আমার শক্তির আশ্রয়, দ্বীনের রাজ্যে যেন এক প্রতিনিধি।</p>
<p>তিনি ছিলেন মাকড়সার মতো দুর্বল, কিন্তু আমার জন্য তিনি ছিলেন দুর্গ ও মন্ত্রীস্বরূপ।</p>
<p>আত্তার (রহ.) আরও বলেন, তাঁর মা যেন দ্বিতীয় রাবেয়া বসরি; বরং তাকওয়া ও ইবাদতে তিনি রাবেয়ার চেয়েও অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি ঊনত্রিশ বছর অত্যন্ত সাধারণ ও মোটা কাপড় পরিধান করেছেন এবং রাতভর দোয়া ও কান্নায় ইবাদতে কাটিয়েছেন।<a href="#_ftn2" name="_ftnref2">[2]</a></p>
<h2>জীবনচিত্র ও আধ্যাত্মিক পরিবর্তন:</h2>
<p>জীবনের প্রারম্ভে তিনি একটি বড়ো ঔষধালয়ের (ফার্মেসি) মালিক ছিলেন। একদিন তিনি ব্যবসায় ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় এক দরিদ্র ফকির এসে সাহায্যের আবেদন জানায়। কিন্তু তাঁর ব্যস্ততার কারণে সেই আহ্বানে তেমন সাড়া মেলেনি। তখন ফকিরটি বলল—</p>
<p>“এভাবে দুনিয়ার ব্যবসায় ডুবে থাকলে মৃত্যুবরণ করবে কীভাবে?”</p>
<p>এই কথা শুনে তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললেন—</p>
<p>“যেমন তুমি মৃত্যুবরণ করবে, আমিও তেমনই করব।”</p>
<p>ফকির উত্তরে বলল—</p>
<p>“আমার মতো মৃত্যুবরণ করা তোমার পক্ষে সম্ভব নয়।”</p>
<p>এরপর সেই ফকির নিজের ভিক্ষার পাত্র মাথার নিচে রেখে শুয়ে পড়ল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়ল, আর সঙ্গে সঙ্গে তার রুহ আল্লাহর দরবারে উড়ে গেল।</p>
<p>এই দৃশ্য হজরত শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার-এর অন্তরে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁর হৃদয়ে এমন আধ্যাত্মিক বিপ্লব ঘটে যে, তিনি দাঁড়িয়েই তাঁর ঔষধালয়ের সবকিছু বিলিয়ে দেন এবং সেই মুহূর্তেই দুনিয়াবিমুখ দরবেশি জীবন গ্রহণ করেন।<a href="#_ftn3" name="_ftnref3">[3]</a></p>
<h2>বায়আত, খেলাফত ও সোহবত:</h2>
<p>হজরত শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.) প্রথমে হজরত শায়খ রুকনুদ্দীন (রহ.)-এর সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। এরপর তিনি হজরত শায়খ মাজদুদ্দীন বাগদাদী (রহ.)-এর পবিত্র হাতে বায়াত গ্রহণ করেন এবং তাঁর মুরশিদের তত্ত্বাবধানে আত্মশুদ্ধি, মুজাহাদা, রিয়াজত ও কঠোর সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। বছরের পর বছর ইবাদত, আত্মসংযম ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি তাসাউফের সেই সুউচ্চ মর্যাদায় উপনীত হন, যেখানে ‘আমি’ ও ‘তুমি’-র সকল ভেদরেখা বিলীন হয়ে যায়।</p>
<p>ফকিরি ও আধ্যাত্মিকতার জগতে তিনি এমন এক উচ্চ আসন লাভ করেন, যা তাঁর মুরশিদের জন্যও গৌরবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি কেবল হজরত মাজদুদ্দীন বাগদাদী (রহ.)-এরই ফয়েজপ্রাপ্ত ছিলেন না; বরং হজরত শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী (রহ.)-এর খলিফাগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকার আধ্যাত্মিক প্রভাব থেকেও বিশেষভাবে উপকৃত হন। তাঁর জীবন ছিল ইলম, ইশক, ত্যাগ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।<a href="#_ftn4" name="_ftnref4">[4]</a></p>
<h2>ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.)-এর ভ্রমণ ও আধ্যাত্মিক সফর:</h2>
<p>ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.) আতর ব্যবসা ত্যাগ করার পর প্রথমে হজরত রুকনুদ্দীন আক্কাফ (রহ.)-এর সান্নিধ্যে প্রায় চার বছর অবস্থান করেন। এরপর তিনি মক্কা শরিফে গমন করেন এবং বিভিন্ন দেশ সফর করেন। পরে নিশাপুরে ফিরে এসে হজরত মাজদুদ্দীন বাগদাদী (রহ.)-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করে আধ্যাত্মিক দীক্ষা ও সুফি তরিকার ‘খিরকা’ লাভ করেন।</p>
<p>তাঁর নিজের রচনাগুলোতে এই ভ্রমণের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি মাশহাদে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছেন বলে উল্লেখ করেন এবং একইসাথে মক্কা, মিশর, দামেস্ক, কুফা, রেই, খোরাসান, এমনকি ভারত ও তুর্কিস্তান পর্যন্ত সফরের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই সফর ছিল জ্ঞানার্জন ও আধ্যাত্মিক পরিপক্বতার উদ্দেশ্যে।</p>
<p>তিনি বলেন, “আমি পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ঘুরেছি, পৃথিবীর কষ্ট ও অভিজ্ঞতা গ্রহণ করেছি।”</p>
<p>গবেষকদের মতে, তাঁর এই ‘সফর’ কখনো বাস্তব ভ্রমণ, আবার কখনো আধ্যাত্মিক অন্তর্জগতের যাত্রার প্রতীক। ধারণা করা হয়, তিনি ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর বয়সের মধ্যে ব্যবসা ত্যাগ করে এই দীর্ঘ আধ্যাত্মিক সফর শুরু করেন।</p>
<p>সব মিলিয়ে ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.)-এর জীবন ছিল জ্ঞান, ভ্রমণ ও আত্মশুদ্ধির অনন্য সমন্বয়, যা তাঁকে সুফি-সাহিত্যের ইতিহাসে এক অমর ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।<a href="#_ftn5" name="_ftnref5">[5]</a></p>
<h2>জীবনধারা:</h2>
<p>তাঁর জীবন ছিল গভীর দুঃখ, নির্জনতা ও দুনিয়াবিমুখ দরবেশি জীবনধারায় পরিপূর্ণ। কষ্ট, একাকীত্ব ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে অতিবাহিত। তিনি নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি এমন জীবন যাপন করেছেন যেখানে জীবনের প্রকৃত আনন্দ তাঁর কাছে ধরা দেয়নি।</p>
<p>তিনি ছিলেন এক সত্যনিষ্ঠ সুফি ও জাহিদ, যিনি দুনিয়ার মোহ ও সম্পর্ক ছিন্ন করে দীর্ঘ সময় নির্জনতা, চিন্তা ও ইবাদতে কাটিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, ভাবনা ও আত্মিক অবস্থার প্রতিফলন তাঁর রচনাগুলোতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।</p>
<p>অনেক গবেষকের মতে, এই আধ্যাত্মিক জীবন তাঁকে দারিদ্র্য ও অভাবের মধ্যে নিয়ে গেলেও তিনি অত্যন্ত নির্লোভ ও আত্মসংযমী ছিলেন। মানুষের কাছে সাহায্য গ্রহণ করা থেকেও তিনি নিজেকে বিরত রাখতেন।<a href="#_ftn6" name="_ftnref6">[6]</a></p>
<h2>ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.)-এর গ্রন্থসমূহ ও সাহিত্যভাণ্ডার:</h2>
<p>ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.) ছিলেন ইসলামি জ্ঞান, তাসাউফ এবং আউলিয়ায়ে কেরামের জীবন ও দর্শনভিত্তিক অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর রচনাসংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও কাজি নূরুল্লাহ শুশতরী তাঁর মজলিসুল মুমিনিন-এ উল্লেখ করেন যে, তাঁর রচনার সংখ্যা প্রায় ১১৪টি।</p>
<p>দৌলতশাহ সমরকন্দী বলেন, তাঁর কবিতার পরিমাণ প্রায় ৪০,০০০ শ্লোক।</p>
<p>রেজা কুলি খান বলেন, ১,০০,০০০ শ্লোকেরও বেশি।</p>
<p>আবার কেউ কেউ আরও বেশি সংখ্যা উল্লেখ করেছেন।</p>
<p>তাঁর সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে তিনি নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কেউ কেউ তাঁকে ‘বাচাল’ বলে সমালোচনা করত। এর উত্তরে তিনি বলেন, তাঁর হৃদয় আধ্যাত্মিক অর্থ ও অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ ছিল; তাই নীরব থাকলে অন্তরের সেই আগুন তাঁকে দগ্ধ করত। ফলে তাঁর দীর্ঘ রচনাশৈলী ছিল আত্মিক অনুভূতির স্বাভাবিক ও বাধ্যতামূলক প্রকাশ।</p>
<p>তাঁর এই বিশাল রচনাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—</p>
<p>১. তাজকিরাতুল আউলিয়া</p>
<p>২. আসরারনামা</p>
<p>৩. মন্তিকুত তোয়ায়ের</p>
<p>৪. মুসিবতনামা</p>
<p>৫. দিওয়ান</p>
<p>৬. শারহে কলব</p>
<p>৭. মুখতারনামা</p>
<p>৮. ইলাহিনামা</p>
<p>৯. আশতরনামা</p>
<p>১০. জাওহারে জাত</p>
<p>১১. খসরু ও গুল</p>
<p>১২. খসরুনামা</p>
<p>১৩. বুলবুলনামা</p>
<p>১৪. মাযহারে আজাইব</p>
<p>১৫. বিসারনামা</p>
<p>১৬. মিলাজনামা</p>
<p>১৭. হায়দারিনামা</p>
<p>১৮. বন্দে আত্তার</p>
<p>১৯. ওসলতনামা</p>
<p>২০. জমজমাহনামা</p>
<p>২১. সিরাতুল মুস্তাকিম</p>
<p>২২. লিসানুল গাইব</p>
<p>২৩. পন্দনামা</p>
<p>২৪. ওসিয়তনামা</p>
<p>২৫. গোল ও বুলবুলনামা, ইত্যাদি।</p>
<p>এই সমন্বিত তালিকা থেকে স্পষ্ট হয় যে, ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.)-এর রচনাবলি কেবল কাব্য নয়; বরং তা সুফিবাদ, আত্মশুদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা এবং আউলিয়াদের জীবনচরিতের এক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার। তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও সর্বাধিক আলোচিত গ্রন্থ হলো ‘মন্তিকুত তোয়ায়ের’ এবং ‘তাজকিরাতুল আউলিয়া’, যা আজও ইসলামি আধ্যাত্মিক সাহিত্য জগতে অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।<a href="#_ftn7" name="_ftnref7">[7]</a></p>
<h2>রুমি ও জামী (রহ.) দৃষ্টিতে শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.):</h2>
<p>শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার ছিলেন গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি ও ‘ওয়াজদ’ এবং ‘সামা’-প্রবণ সুফিদের অন্যতম।</p>
<p>মাওলানা জালালুদ্দীন রুমি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন—</p>
<p>“মনসুরের নুর দেড়শ বছর পরে ফরিদুদ্দীন আত্তারের পবিত্র আত্মায় পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছিল; আর তাঁর মধ্য দিয়েই সেই নুরের প্রকাশ ঘটেছিল।”</p>
<p>আর মাওলানা আবদুর রহমান জামী বলেছেন—</p>
<p>“ফরিদুদ্দীন আত্তারের মসনবি ও গজলসমূহে তাওহিদ ও আধ্যাত্মিক রহস্যের যে গভীর জ্ঞান ও সত্য প্রকাশ পেয়েছে, এ ধারার অন্য কারও রচনায় তা এত ব্যাপকভাবে দেখা যায় না।”<a href="#_ftn8" name="_ftnref8">[8]</a></p>
<h2>মর্মান্তিক শাহাদাত:</h2>
<p>সে-সময় নিশাপুরের অলিগলি ও বাজারগুলো হয়ে উঠেছিল ভয়াবহ মৃত্যুভূমি। চারদিকে শুধু লাশ, রক্তের ধারা আর ধ্বংসস্তূপ। এটি ছিল তাতারিদের ভয়ংকর আক্রমণ, যার ফলে জনপদ ধ্বংস হয়ে যায়, শহর পরিণত হয় বিরানভূমিতে। হাজারো শিশু এতিম হয়, অসংখ্য নারী বিধবা হয়ে পড়ে, আর অগণিত মায়ের বুকের ধন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে থাকে। এমনকি মৃতদের কাফনের ব্যবস্থাও ছিল না। সমগ্র অঞ্চল যেন ধ্বংস, আতঙ্ক ও বিভীষিকার এক জীবন্ত চিত্রে পরিণত হয়েছিল। মানুষ দিশেহারা হয়ে জীবন বাঁচাতে ছুটে বেড়াচ্ছিল।</p>
<p>এই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের মধ্যেই হজরত শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার তাতারিদের হাতে বন্দি হন। তাজকিরাকারগণ তাঁর শাহাদাতের ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারকভাবে বর্ণনা করেছেন। বলা হয়, এক তাতারি সৈন্য তাঁকে বন্দি করে নিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় এক পথচারী এগিয়ে এসে বলল, “এই বুজুর্গ মানুষটিকে হত্যা করো না। আমি তাঁর মুক্তির বিনিময়ে দশ হাজার আশরাফি দিতে প্রস্তুত।”</p>
<p>এ কথা শুনে শায়খ আত্তার (রহ.) সৈন্যটিকে বললেন, “এত অল্প মূল্যে আমাকে বিক্রি করো না; আমার মূল্য এর চেয়েও অনেক বেশি।”</p>
<p>সৈন্যটি লোভে পড়ে তাঁকে নিয়ে সামনে এগিয়ে গেল। কিছুদূর যাওয়ার পর আরেক ব্যক্তি এসে বলল, “এই বৃদ্ধকে আমার হাতে তুলে দাও। এর বদলে আমি তোমাকে এক মুঠো ঘাস দেব।”</p>
<p>তখন শায়খ আত্তার (রহ.) বললেন, “হ্যাঁ, এবার আমাকে দিয়ে দাও। প্রকৃতপক্ষে আমার মূল্য এর চেয়েও কম।”</p>
<p>এই কথা শুনে সৈন্যটি ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। কারণ সে বুঝতে পারে, দশ হাজার আশরাফির সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে। ক্রোধে অন্ধ হয়ে সে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শিরশ্ছেদ করে।</p>
<p>এভাবেই ৬২৭ হিজরি মোতাবেক ১২৩০ খ্রিষ্টাব্দে হজরত শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার শাহাদাতের অমর মর্যাদা লাভ করেন।<a href="#_ftn9" name="_ftnref9">[9]</a></p>
<p><a href="#_ftnref1" name="_ftn1"></a></p>
<p>The post <a href="https://sufigraphy.com/bio/attar-of-nishapur/">শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার (রহ.)</a> appeared first on <a href="https://sufigraphy.com">Sufigraphy</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
