বাগদাদের বাতাস তখন শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক সুঘ্রাণে মত্ত। একদিনের ঘটনা— রাজকীয় জাঁকজমক আর ঘোড়ার খুরের শব্দে কেঁপে উঠল বড়োপীরের মাদরাসার শান্ত প্রাঙ্গণ। খলিফা মুসতানজিদ বিল্লাহ এসেছেন আধ্যাত্মিক সম্রাটের দরবারে। খলিফার দুহাতে দশটি রেশমি থলে, যার ভেতরে ঠাসা সোনার দিনার।

খলিফা বিনয়ের সাথে থলেগুলো শায়খের কদমে রেখে বললেন, “হুজুর, এই নগণ্য নজরানাটুকু কবুল করুন।”

শায়খ নির্লিপ্ত। দুনিয়ার এই চাকচিক্য যাঁর পায়ের ধুলোর সমান, তিনি কেন তা ছুঁতে যাবেন? তিনি শান্ত স্বরে বললেন, “থলেগুলো নিয়ে যাও, আবু মুজাফফর। এ সম্পদ আমার কোনো কাজে আসবে না।”

কিন্তু খলিফা নাছোড়বান্দা। তিনি ভাবলেন, হয়তো শায়খ সংকোচ করছেন। বারবার অনুরোধের এক পর্যায়ে শায়খের নুরানি চেহারায় এক জলালতি নুর খেলে গেল। তিনি হুট করে দুটি থলে দুই হাতে তুলে নিলেন। এরপর যা ঘটল, তা দেখার জন্য উপস্থিত কেউ প্রস্তুত ছিল না!

শায়খ যখন দুই হাতে থলেগুলোতে চাপ দিলেন, তখন সোনার মোহর গলে পড়ার বদলে টপটপ করে তাজা, লাল রক্ত ঝরতে লাগল! সেই রক্ত শায়খের হাত বেয়ে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ছে। শায়খ তখন বজ্রকণ্ঠে ফেটে পড়লেন:

“হে আবু মুজাফফর, তুমি কি একটুও লজ্জিত নও? নিরপরাধ মানুষের রক্ত চুষে কামানো এই লুণ্ঠিত সম্পদ তুমি আমার মতো এক ফকিরের সামনে পেশ করছ?”

প্রতাপশালী খলিফা সেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আর স্থির থাকতে পারলেন না। ভয়ে আর আতঙ্কে তাঁর চোখের সামনে দুনিয়া অন্ধকার হয়ে এল; তিনি ধপাস করে মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারালেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর চেতনা ফিরলে শায়খ গম্ভীর কণ্ঠে শেষ সর্তকতা দিলেন: “শোনো, রাসুলুল্লাহ ﷺ এর বংশধর হওয়ার খাতিরে তোমার বংশীয় মর্যাদাকে আমি সম্মান করি। তা না হলে আল্লাহর কসম, এই রক্ত আজ তোমার রাজপ্রাসাদের অন্দরমহল পর্যন্ত পৌঁছে দিতাম!”