১. আব্দুল্লাহ ইবনু আলী আল-আকবরীকে বলেন, ইবনে আতা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘মরূ’আত (মর্যাদা বা মানবিক গুণ) কী?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর জন্য কোনো কাজকে কখনো বেশি বলে মনে না করা।”

২. আবু বকর আর-রাজীকে বলেন, আমি আবুল আব্বাস ইবনু আতা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বললেন, “সবচেয়ে বড় জ্ঞান হলো আল্লাহর ভয় ও লজ্জা। যে ব্যক্তি এ দুটো থেকে বঞ্চিত, সে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।”

৩. আবুল হুসাইন আল-ফারসী বলেন, আমি আবুল আব্বাস ইবনু আতা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বললেন, “তিনটি জিনিস তিনটির সাথে যুক্ত থাকে।

ক. ফিতনা মৃত্যুর সাথে।

খ. ভালোবাসা ইচ্ছার সাথে।

গ. পরীক্ষা দাওয়াত (আহ্বান) এর সাথে।”

৪. আবুল হুসাইন আরো বলেন, ইবনু আতা বলতেন, “আমি আমার আত্মার নামগুলোর মধ্যে বিনয় ও আত্মসমর্পণ খুঁজে পাই, সামনের দিকে উচুতে আল্লাহর মহিমার দিকে, যখন ধনসম্পদ থেকে বিনয় আসে, আমি দারিদ্র্যের দিক থেকে উচুতে উঠি।”

৫. আবুল হুসাইন বলেছেন, আমি আবুল আব্বাসকে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহ ও বান্দার মাঝে ইনসাফ (ন্যায়পরায়ণতা) রয়েছে তিনটি ক্ষেত্রে। ইস্তিআনাহ (সাহায্য চাওয়া), জুহদ (প্রচেষ্টা) এবং আদব (শিষ্টাচার)।’

বান্দার পক্ষ থেকে ইস্তিআনাহ (সাহায্য চাওয়া) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরবাত (নৈকট্য)।

বান্দার পক্ষ থেকে জুহদ (প্রচেষ্টা) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক (সাফল্য)।

বান্দার পক্ষ থেকে আদব (শিষ্টাচার) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কারামাহ (সম্মান)।

৬. আবুল আব্বাস ইবনু আতা বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সালেহিনদের (সৎকর্মশীলদের) আদব দ্বারা সজ্জিত হয়, সে কারামতের (সম্মানের) আসনে বসার উপযুক্ত হয়।’ ‘যে ব্যক্তি আউলিয়াদের (আল্লাহর বন্ধুদের) আদব দ্বারা সজ্জিত হয়, সে কুরবতের (নৈকট্যের) আসনে বসার উপযুক্ত হয়।’ ‘যে ব্যক্তি সিদ্দিকিনদের (পরম সত্যবাদীদের) আদব দ্বারা সজ্জিত হয়, সে মুশাহাদার (দিব্যদৃষ্টির/প্রত্যক্ষ উপলব্ধির) আসনে বসার উপযুক্ত হয়।’ ‘যে ব্যক্তি আম্বিয়াদের (নবীদের) আদব দ্বারা সজ্জিত হয়, সে উন্স (ঘনিষ্ঠতা) ও ইনবিসাতের (প্রশান্তির) আসনে বসার উপযুক্ত হয়।’

৭. আবুল হুসাইন আল-ফারিসী বলেছেন, আমি ইবনু আতাকে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয়ই শাফাকাহ (ভীতি-মিশ্রিত মমতা) মুমিনকে সর্বদা এমনভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে, যতক্ষণ না তা তাকে তার উত্তমতম অবস্থায় পৌঁছে দেয়।’ আর নিশ্চয়ই গাফলাত (অসতর্কতা) পাপাচারীকে সর্বদা এমনভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে, যতক্ষণ না তা তাকে তার নিকৃষ্টতম অবস্থায় পৌঁছে দেয়।’

৮. তিনি আরো বলেন, ইবনু আতা বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় গাফলাত (অসতর্কতা) হলো বান্দার তার রব থেকে গাফেল হওয়া, তাঁর আদেশাবলি থেকে গাফেল হওয়া এবং তাঁর সাথে আচরণের শিষ্টাচার থেকে গাফেল হওয়া।’

‘সবচেয়ে সঠিক বুদ্ধি হলো সেই বুদ্ধি, যা তাওফিকের (আল্লাহর সাহায্যের) সাথে মিলে যায়।’

‘সবচেয়ে খারাপ আনুগত্য হলো সেই আনুগত্য, যা অহংকার জন্ম দেয়।’

‘সবচেয়ে ভালো গুনাহ হলো সেই গুনাহ, যার পরে তাওবা এবং অনুশোচনা আসে।’

“স্বভাবগত অভ্যস্ততার উপর ভরসা করা, তার সাথিকে হাকিকতের স্তরগুলো অর্জনের পথে বাধা দেয়।”

৯. “হৃদয়ের জন্য সত্যের উৎসগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সমজাতীয় বস্তুর (মানুষের সাথে) সাথে স্বস্তি বোধ করা এক প্রকার বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ব। আর যার হৃদয় আল্লাহর সাথে স্বস্তি লাভ করে, সে আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে একাকিত্ব বোধ করে।’

১০. “আপনার হৃদয়কে জিকিরকারীদের মজলিসের কাছাকাছি রাখুন, এই আশায় যে, তার গাফলাত দূর হবে। এবং আপনার শরীরকে সালেহিনদের (সৎকর্মশীলদের) সেবায় নিয়োজিত করুন, এই আশায় যে তাদের বরকতে তা রব্বুল আলামিনের আনুগত্যে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।’

১১. “আসবাব (বস্তুগত উপায়-উপাদান)-এর উপর নির্ভর করা হলো প্রবঞ্চনা।”

১২. “আর আহওয়াল (আধ্যাত্মিক অবস্থা)-এর সাথে আটকে থাকা আপনাকে তাদের পরিবর্তনকারী (আল্লাহ) থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।”১০

১৩. “যখন তোমার নফস (প্রবৃত্তি) তোমার হৃদয়ের দিকে মনোযোগ না দেয়, তখন তাকে জ্ঞানী-গুণীদের সাথে বসে আদব শিক্ষা দাও।” যে ব্যক্তি হিকমতের (প্রজ্ঞা) আলো দ্বারা আলোকিত হতে চায়, সে যেন বুদ্ধিমান ও বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের সাথে মিলিত হয়।”

১৪. ইবনু আতাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘উবুদিয়্যাহ (দাসত্ব/বন্দেগি) কী?’ তিনি বললেন, ‘ইখতিয়ার (নিজের পছন্দ) ছেড়ে দেওয়া, এবং ইফতিফার (আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা) সাথে দৃঢ়ভাবে লেগে থাকা।’ এবং তিনি আরও বললেন, ‘তুমি যখন হক্কের (আল্লাহর) দিকে মনোযোগী হওয়ার পথ পাও, তখন কোনো মাখলুকের (সৃষ্টির) দিকে মনোযোগী হওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখো।’১১