১. সর্বোচ্চ অহংকার হলো নিজের অস্তিত্বকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা; আর সর্বনিম্ন হলো নিজের সম্পর্কে উত্তম কোনো চিন্তা বা ধারণা হওয়া।
২. কথা বলার সর্বনিম্ন ক্ষতি হলো মহান রবের ভয় ও প্রতাপ অন্তর থেকে কমে যাওয়া। আর অন্তর যখন ভয় ও প্রতাপ থেকে মুক্ত হয়, তখন তা ইমান থেকেও মুক্ত হয়ে যায়।
৩. বাগদাদের অধিবাসীদের ‘শাতহ’ (আধ্যাত্মিক উন্মোচন/উন্মাদনা) এবং ‘ইবারাহ’ (বাগ্মিতা) দেওয়া হয়েছে। খুরাসানের অধিবাসীদের ‘ক্বালব’ (আন্তরিকতা) এবং বদান্যতা দেওয়া হয়েছে। বসরার অধিবাসীদেরকে ‘জুহদ’ (দুনিয়াবিমুখতা) এবং ‘ক্বানাআহ’ (সন্তুষ্টি) দেওয়া হয়েছে। শামের অধিবাসীদের ‘হিলম’ (সহিষ্ণুতা) এবং ‘সালামাহ’ (নিরাপত্তা/শান্তি) দেওয়া হয়েছে। আর হিজাজের অধিবাসীদের ‘সবর’ (ধৈর্য) এবং ‘ইনাবাহ’ (আল্লাহর দিকে ফেরা/অনুশোচনা) দেওয়া হয়েছে।১
৪. সকল মানুষের জন্য সমস্ত পথ বন্ধ, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া, যে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে।
৫. যদি একজন সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি আল্লাহর দিকে হাজার হাজার বছর তাকিয়ে থাকে, তারপর এক মুহূর্তের জন্য তাকানো বন্ধ করে দেয়, তখন তিনি যা হারিয়েছেন তা তার যা অর্জিত হয়েছে তার চেয়ে কম হবে না।২
৬. যে কোনো মূল্যবান ও মহৎ জ্ঞানের দ্বার হলো পরিশ্রমে নিজেকে নিঃশেষ করে দেওয়া। আল্লাহকে যে পরিশ্রম করে খোঁজে, সে কখনোই তাঁর সেই বান্দার মতো নয়, যে আল্লাহকে খোঁজে শুধু তাঁর অনুগ্রহের পথেই।
৭. আল্লাহ থেকে গাফেল হওয়া জাহান্নামে প্রবেশ করার চেয়েও কঠিন।
৮. যখন কোনো ফকিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তাকে জ্ঞান দিয়ে শুরু করো না। বরং প্রথমে কোমলতা ও সহানুভূতি দেখাও। কারণ জ্ঞান তাকে ভীত করে আর কোমলতা তাকে আপন করে।
৯. সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। আর সময়ের চেয়ে মূল্যবান কিছুই নেই।
১০. পরিপূর্ণ চেষ্টা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্মানজনক ও উচ্চ মর্যাদার প্রতিটি দরজা খুলে যায়।
১১. আল্লাহর প্রতি লজ্জাশীলতা আল্লাহর অলিদের হৃদয় থেকে অনুগ্রহ পাওয়ার আনন্দও দূর করে দেয়।
১২. ইয়াকিনে (অটল বিশ্বাসে) ভর করে কিছু লোক পানির উপর দিয়ে হেঁটেছেন; কিন্তু যে ব্যক্তি তৃষ্ণায় মারা গেছে তার ইয়াকিন তাদের চেয়ে উত্তম।
১৩. যে আল্লাহকে চিনে (মারিফত অর্জন করে), সে আল্লাহ ব্যতীত আর কিছুর সঙ্গে সুখ পায় না।৩
১৪. ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর জিনিস হলো দাবি-দাওয়া।
১৫. সাবধান, তুমি যেন প্রকাশ্যে প্রশংসিত এবং গোপনে দোষযুক্ত না হও।
১৬. মানুষের মার্জিত বা মহৎ গুণ হলো ভাই-বন্ধুদের ভুল-ত্রুটি সহ্য করা।
১৭. মানুষ তার স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের জন্য সমালোচিত হয় না; বরং সে তখনই সমালোচিত হয়, যখন সে এমন কিছু করে যা তার স্বভাবের পরিপন্থী।৪