১. হিশাম ইবনে ইবাদ বলেন, আমি জাফর ইবনে মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, “ফকিহরা রসুলদের আমানতদার। যখন তোমরা ফকিহদেরকে শাসকদের দিকে ঝুঁকতে দেখবে, তখন তাদের সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করো।
২. তাকওয়া থেকে উত্তম কোনো পাথেয় নেই, নীরবতা থেকে সুন্দর কিছু নেই, অজ্ঞতা থেকে ক্ষতিকর কোনো শত্রু নেই, এবং মিথ্যা থেকে খারাপ কোনো রোগ নেই।
৩. ইয়াহিয়া ইবনে আল-ফুরাত বলেন, জাফর আস-সাদিক বলেছেন, “তিনটি জিনিস ছাড়া ভালো কাজ পূর্ণ হয় না: তা দ্রুত করা, তাকে ছোটো মনে করা এবং গোপন রাখা।”
৪. আনবাসা আল-খাসআমি বলেন, আমি জাফর ইবনে মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, “তোমরা দ্বীনের বিষয়ে বিবাদ থেকে দূরে থাকো, কারণ তা অন্তরকে ব্যস্ত করে তোলে এবং মুনাফেকি সৃষ্টি করে।”
৫. যখন তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু জানতে পারো যা তোমার খারাপ লাগে, তখন দুঃখ করো না। কারণ যদি সে যেমন বলছে তেমনই হয়, তবে এটি একটি শাস্তি যা দ্রুত দেওয়া হয়েছে। আর যদি সে যেমন বলছে তেমন না হয়, তবে এটি এমন একটি সওয়াব যা তুমি পাওনি।১
৬. নামাজ প্রত্যেক মুত্তাকির জন্য নৈকট্য লাভের মাধ্যম, হজ দুর্বলদের জিহাদ, দেহের জাকাত হলো রোজা, আর আমল ছাড়া দোয়াকারী হলো ধনুক ছাড়া তীর নিক্ষেপকারীর মতো।
৭. সদকার মাধ্যমে জীবিকা প্রার্থনা করো, এবং জাকাতের মাধ্যমে তোমাদের সম্পদ সুরক্ষিত করো।
৮. যে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে, সে কখনো অভাবী হয় না। পরিকল্পনা জীবিকার অর্ধেক, মানুষের সাথে ভালোবাসা স্থাপন বুদ্ধিমত্তার অর্ধেক, আর কম সন্তান থাকা একটি স্বাচ্ছন্দ্য।
৯. যে তার বাবা-মাকে দুঃখ দেয়, সে তাদের অবাধ্যতা করে। যে বিপদে পড়ে নিজের উরুতে হাত দিয়ে আঘাত করে, তার নেকি নষ্ট হয়ে যায়। সৎকাজ কেবল সম্ভ্রান্ত ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তির কাছেই করা উচিত।
১০. আল্লাহ তায়ালা বিপদের পরিমাণ অনুযায়ী ধৈর্য অবতীর্ণ করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জীবিকা অবতীর্ণ করেন। যে তার জীবিকা পরিমিতভাবে ব্যবহার করে, আল্লাহ তাকে জীবিকা দেন, আর যে তার জীবিকা অপচয় করে, আল্লাহ তাকে বঞ্চিত করেন।” ২
১১. সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাফর ইবনে মুহাম্মদের কাছ থেকে শুনেছি, তিনি বলছিলেন, ইজ্জত ও নিরাপত্তা দুর্লভ হয়ে গেছে, এমনকি এর সন্ধানও কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি তা কোথাও থাকে, তবে সম্ভবত তা নির্জনতায় আছে। যদি তা নির্জনতায় খোঁজা হয় এবং পাওয়া না যায়, তবে সম্ভবত তা একাকিত্বে আছে, যা নির্জনতার মতো নয়। যদি তা একাকিত্বে খোঁজা হয় এবং পাওয়া না যায়, তবে সম্ভবত তা নীরবতায় আছে, যা একাকিত্বের মতো নয়। যদি তা নীরবতায় খোঁজা হয় এবং পাওয়া না যায়, তবে সম্ভবত তা পূর্বসূরিদের সৎ কথার মধ্যে আছে। আর সে ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান, যে নিজের মধ্যে এমন নির্জনতা খুঁজে পায় যা দিয়ে সে ব্যস্ত থাকতে পারে।৩
১২.“যে ব্যক্তি মানুষের অবহেলায় রাগান্বিত হয় না, সে আসলে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে না।”
১৩. হারমাযী বর্ণনা করেন, একজন গ্রামীণ মানুষ নিয়মিত ইমাম জাফর ইবন মুহাম্মদের কাছে আসত। একদা কিছুদিন সে অনুপস্থিত হলো। ইমাম খোঁজ নিলেন। কেউ বলল, “সে তো একজন নবতী (নিম্নবংশীয়)। সে যেন তাকে হেয় করতে চাইছিল। তখন ইমাম জাফর সাদিক বললেন, “মানুষের আসল হলো তার বুদ্ধি। তার মর্যাদা হলো তার দ্বীন। তার সম্মান হলো তার তাকওয়া। আর সবাই আদম (আ.)-এঁর সন্তান, তাই সবাই সমান।”৪