১. এ জ্ঞান আসলে দ্বীন। তাই তোমরা কার কাছ থেকে দ্বীন নিচ্ছ, তা ভেবে নাও। আমি এমন সত্তরজনকে পেয়েছি যারা বলতেন, ‘রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন’, কিন্তু আমি তাঁদের কাছ থেকে কিছুই গ্রহণ করিনি। অথচ তাঁদের কাউকে যদি ‘বাইতুল মাল’এর দায়িত্ব দেওয়া হতো তবে তিনি নিঃসন্দেহে বিশ্বস্ত থাকতেন। কিন্তু তাঁরা এ বিষয়ে (হাদিসের সঠিক গ্রহণ-বর্জন) যোগ্য ছিলেন না।”১

২. আবদুল্লাহ ইবনে ওহাব বলেন, আমি ইমাম মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি,“জ্ঞান অনেক বেশি বর্ণনা করার নাম নয়; বরং এটা এমন এক আলো যা আল্লাহ হৃদয়ে স্থাপন করেন।”অন্য বর্ণনায় আছে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, “ইলম অর্জন সম্পর্কে আপনার কী মত?” তিনি বললেন, “এটা সুন্দর ও মহৎ কাজ। তবে তুমি প্রথমে লক্ষ্য করো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোমার জন্য সবচেয়ে জরুরি কী বিষয়, আর সেটার উপর দৃঢ় থাকো।”২

৩. ইবন ওহাব বলেন, আমি মালেককে বলতে শুনেছি, “জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য ধৈর্য, স্থিরতা এবং আল্লাহর ভয় থাকা আবশ্যক। যার ভাগ্যে কল্যাণ রয়েছে, তার জন্য জ্ঞান উত্তম। আর এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দান। মানুষকে নিজের উপর প্রভাব বিস্তার করতে দেবে না, কারণ মানুষের সৌভাগ্যের একটি অংশ হলো কল্যাণের জন্য সফল হওয়া। আর মানুষের দুর্ভাগ্যের একটি অংশ হলো বারবার ভুল করা। জ্ঞানের জন্য অবমাননাকর এবং অসম্মানজনক হলো এমন ব্যক্তির কাছে জ্ঞান সম্পর্কে কথা বলা, যে তা গ্রহণ করে না।”

৪. ইবন ওহাব, মালেক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “যখন কোনো ব্যক্তি নিজের প্রশংসা করতে শুরু করে, তখন তার সৌন্দর্য চলে যায়।”৩

৫. যে ব্যক্তি শুনে সবকিছু মেনে ফেলে সে ইমাম হতে পারে না।

৬. জ্ঞানপ্রার্থীর জন্য অবশ্যক যে, সে হবে মর্যাদাপূর্ণ, শান্ত ও ভয়বোধসম্পন্ন। এছাড়া তার উচিত পূর্ববর্তী আলেমদের পথ অনুসরণ করা।৪

৭. আবদুল আযিয আল-জারবী, হজরত হারিস ইবনে মিসকিন এবং আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়েই বলেন, মালিক ইবনে আনাসকে দুরারোগ্য ব্যাধি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেন, “ধর্মের মধ্যে অপবিত্রতা।”

৮. আল-ফারওয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইমাম মালিককে বলতে শুনেছি, “যদি কোনো ব্যক্তির নিজের মধ্যে কোনো কল্যাণ না থাকে, তাহলে মানুষের জন্য তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।”

৯. মুতাররিফ বলেন, “মালিক আমাকে বললেন, “মানুষ আমার সম্পর্কে কী বলে?” আমি বললাম, “বন্ধুরা আপনার প্রশংসা করে আর শত্রুরা আপনাকে নিন্দা করে।” তিনি বললেন, “মানুষ বরাবরই এমন; তাদের বন্ধু এবং শত্রু থাকে। তবে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, যখন সব জিহ্বা (একসাথে) নিন্দা করে।” ৫