১. যদি আমি জানতে পারতাম যে, কেউ শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হাদিস অন্বেষণ করছে, তাহলে আমি তার বাড়িতে গিয়ে তাকে হাদিস শোনাতাম।
২. আমি যখন ইলম অন্বেষণ শুরু করি, তখন আমার সেই বিষয়ে কোনো সঠিক নিয়ত ছিল না। পরে আল্লাহ আমাকে সেই নিয়ত দান করেছেন।
৩. আমি আমার হৃদয়ে যা কিছু জমা রেখেছি, তা আমার সাথে কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করেনি।
৪. ইলম অর্জন করো। যখন তোমরা তা অর্জন করবে, তখন তা মনের মধ্যে গেঁথে নাও এবং হাসি-তামাশা দিয়ে তা মিশ্রিত করো না। কারণ এতে মানুষের মন তা প্রত্যাখ্যান করবে।
৫. ইলম অন্বেষণ মানে শুধু ‘অমুকের সূত্রে অমুক’ নয়। বরং ইলম অন্বেষণ হলো আল্লাহর প্রতি ভয় রাখা।
৬. বলা হতো, দুনিয়ার প্রতি বেশি লোভি হয়ো না, তাহলে তুমি তোমার জ্ঞান সংরক্ষণ করতে পারবে না।
৭. আমি মনে করি, যদি কোনো ব্যক্তি মিথ্যা বলার ইচ্ছা করে, তবে তা তার চেহারায় প্রকাশ পায়।
৮. তোমরা সেই ব্যক্তির দাওয়াত ছাড়া অন্য কারও দাওয়াত গ্রহণ করো না, যার খাবার খেলে তোমাদের অন্তর পবিত্র হবে।
৯. যেসব মানুষ শাসকদের সাথে মেলামেশা করে, তাদের অধিকাংশই এমনটা করে থাকে পরিবার ও অভাবের কারণে।
১০. পরিবার-সংসার আছে এমন ব্যক্তির দ্বারা প্রতারিত হয়ো না, কারণ কমই এমন ব্যক্তি আছে যে (অর্থের বিষয়ে) ভুল করে না। অন্য একটি বর্ণনায় আছে, পরিবারের কর্তা সম্পর্কে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ো না এবং তার দ্বারা প্রতারিত হয়ো না।
১১. অতীতে সম্পদকে খারাপ মনে করা হতো, কিন্তু আজকের দিনে তা মুমিনের ঢাল।
১২. এক ব্যক্তি তাকে বললেন, “হে আল্লাহর বান্দা, তুমি এই দিনারগুলো (স্বর্ণমুদ্রা) কেন সঞ্চয় করে রেখেছ?” তিনি বললেন, “চুপ করো, এই দিনারগুলো না থাকলে এই বাদশাহরা আমাদের রুমাল হিসেবে ব্যবহার করে তাদের হাত মুছতো।”
১৩. হালাল সম্পদ অপচয় সহ্য করে না।
১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ বলেন, আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, “যদি কোনো ইবাদতকারীর প্রতি তার প্রতিবেশীরা সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে সে একজন মিথ্যুক।”
১৫. আতা আল-খাফাফ বলেন, আমি সুফিয়ান আস-সাওরীর সাথে যখনই দেখা করেছি, তখনই তাকে কাঁদতে দেখেছি। আমি তাকে বললাম, আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন, আমি ভয় পাই যে, আমি আল-কুরআনে দুর্ভাগাদের মধ্যে লিখিত আছি কি না!
১৬. আব্দুল আজিজ ইবনে আবু খালিদ (রহ.) বলেন, সুফিয়ান আস-সাওরী (রহ.) গাধিরিয় অঞ্চলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে এক ব্যক্তি কিছু কথা বলছিলেন, যার মাধ্যমে মানুষ হাসাচ্ছিলেন। তখন সুফিয়ান (রহ.) তাকে বললেন, ‘শাইখ, আপনি কি জানেন না যে, আল্লাহর এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন মিথ্যা ও ব্যর্থতায় লিপ্তরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে?’ এরপর থেকে সেই উপদেশ ও প্রভাব গাধিরিয় ঐ ব্যক্তির মধ্যে এমনভাবে প্রকাশিত হয়েছিল যে, তা তার মধ্যে আজীবন থেকে গিয়েছিল যতক্ষণ না তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
১৭. সওয়াব ধৈর্যের পরিমাণ অনুযায়ী হয়।
১৮. এক ব্যক্তি সুফিয়ানকে বললেন, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, দুনিয়ার জন্য ততটুকু কাজ করো যতটুকু সময় তুমি তাতে থাকবে, আর আখিরাতের জন্য ততটুকু কাজ করো যতটুকু সময় তুমি তাতে থাকবে। আর এটাই আমার উপদেশ।
১৯. দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য একজন ভালো বন্ধুর চেয়ে উপকারী আর কিছু পাইনি।
২০. আল-ফিরিয়াবী বলেন, সুফিয়ান আস-সাওরী সালাত আদায় করতেন, তারপর তরুণদের দিকে ফিরে বলতেন, যদি তোমরা আজ সালাত আদায় না করো, তাহলে আর কবে করবে?।
২১. সুফিয়ানকে বলা হলো, যদি আপনি একটু দোয়া করতেন। তিনি বললেন, গুনাহ ত্যাগ করাই দোয়া।
২২. তিনি প্রায়শই চিন্তামগ্ন থাকতেন, আর যারা তাকে দেখত, তারা ভাবত তিনি পাগল। তার পকেটে একটি কাগজের টুকরা থাকত যা তিনি প্রায়ই দেখতেন। এটি একবার তার কাছ থেকে পড়ে গেল। লোকেরা এটি দেখল এবং তাতে লেখা ছিল, “সুফিয়ান, আল্লাহর সামনে তোমার দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করো।”
২৩. আমি তার জন্য অবাক হই, যার মধ্যে কল্যাণ আছে অথচ সে খুশি হয় না। আমি তার জন্য অবাক হই, যার মধ্যে মন্দ আছে আর সে তাতেই থাকে, রাগান্বিত হয় না। এর চেয়েও বেশি অবাক হই তার জন্য, যে নিজেকে মানুষের চেয়ে বেশি ভালোবাসে এবং মানুষের উপর মিথ্যা ধারণা করে তাদের রাগান্বিত করে।২
২৪. আলী ইবনে উসাম ইবনে আলী বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি সুফিয়ান সাওরীকে বলতে শুনেছেন—“আমি আল্লাহকে এমন ভয় করেছি যে অবাক হই কীভাবে আমি এখনো মারা যাইনি! কিন্তু আমার তো একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, যেটিতে আমি পৌঁছবই। আমি আল্লাহকে এত ভয় করেছি যে, মাঝে মাঝে কামনা করি— ইশ, যদি তিনি আমার ভয়ের কিছুটা হালকা করে দিতেন। আমি আশঙ্কা করি, এই ভয়ে আমার বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”
২৫. আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, সুফিয়ান সাওরী বলেছেন,“আমি রাতে কোনো আওয়াজ শুনলে হাত মাথার ওপর রাখি আর বলি, আমাদের ওপর শাস্তি এসে গেছে!”
২৬. সানী বলেন, আমর ইবনে আত্তাবী, সুফিয়ান সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন,“কোনো অবস্থাই আমার কাছে মৃত্যুযন্ত্রণার চেয়ে ভয়ঙ্কর নয়। আমি আশঙ্কা করি, মৃত্যু যখন আসবে তখন তা আমার জন্য কঠিন করে দেয়া হবে। আমি আল্লাহর কাছে সহজ করার দোয়া করি, কিন্তু যদি তা কবুল না হয়, তখন আমি পরীক্ষায় পড়ে যাব।”
২৭. সালেহ ইবনে খলিফা আল-কুফি বলেন, আমি সুফিয়ান সাওরীকে বলতে শুনেছি,“কিছু অধার্মিক ক্বারী কোরআনকে দুনিয়া অর্জনের সিঁড়ি বানিয়েছে। তারা বলে, ‘আমরা তো রাজা-আমিরদের কাছে যাই, বন্দিদের মুক্ত করি, বিপদগ্রস্তদের উপশম দেই।’অথচ এর পেছনে তাদের উদ্দেশ্য দুনিয়াবী স্বার্থ।”৩
২৮. ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেন,“আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হলো সেই, যে আখিরাতের আমলের দ্বারা দুনিয়ার স্বার্থ হাসিল করে।”
২৯. “যখন দিনের আলো আছে, তখন আমল করতে হবে।”
৩০.“কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের থালায় হাত দেয়, তবে সে তার কাছে লাঞ্ছিত হয়।”
৩১. তিনি প্রায়ই বলতেন: اللهم سلم سلم، اللهم سلمنا، وارزقنا العافية في الدنيا والآخرة
(হে আল্লাহ, নিরাপদ রাখুন, আমাদের নিরাপদ রাখুন এবং দুনিয়া-আখিরাতে আমাদের সুস্থতা দান করুন)।
৩২. ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান বলেন, সুফিয়ান বলতেন,“আমার কাছে অন্য কারও চেয়ে বেশি অপছন্দের সঙ্গী হলো কুরআন পাঠক (যারা শুধুই প্রদর্শন করে), আর আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো যুবকের সঙ্গ।”
৩৩. ওয়াকী বর্ণনা করেন, সুফিয়ান বলতেন,“জুহদ মানে শক্ত খাবার খাওয়া বা রুক্ষ কাপড় পরা নয়, বরং জুহদ হলো স্বল্প আশা রাখা এবং মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা।”
৩৪. ধন-সম্পদ হলো এই উম্মাহর রোগ, আর আলেম হলো এই উম্মাহর চিকিৎসক। কিন্তু যদি চিকিৎসক নিজেই রোগে আক্রান্ত হয়, তবে মানুষ সুস্থ হবে কীভাবে?”
৩৫. সুফিয়ান বলতেন,“নিয়তের সাথে ইলম অর্জনের চেয়ে উত্তম কিছু আমরা জানি না।”
৩৬. খুরায়বী সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে তিন জায়গায় ভয় করো।
ক. আল্লাহ যা আদেশ করেছেন, তা পালনে অবহেলা করা।
খ. আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন, তাতে অসন্তুষ্ট হওয়া।
গ. দুনিয়া থেকে কিছু চাইলে তা না পেয়ে রাগান্বিত হওয়া।
৩৬. খালিদ ইবনে নিযার আল-আইলী বলেন, সুফিয়ান বলতেন,“জুহদ দুই প্রকার—
ফরজ জুহদ: অহংকার, গর্ব, রিয়া, লোক দেখানো ও আত্মপ্রশংসা ত্যাগ করা।
নফল জুহদ: আল্লাহ তোমাকে যে হালাল দিয়েছেন, তার কিছুটা ত্যাগ করা। তবে যদি ত্যাগ করো, তবে শুধু আল্লাহর জন্যই করবে।৪