তরিকায়ে কাদেরিয়া ইসলামের সুপ্রাচীন ও সর্বাধিক বিস্তৃত সুফি তরিকাগুলোর অন্যতম। এর প্রবর্তক গাউসুল আজম, কুতুবুল আকতাব হজরত শায়খ আবদুল কাদের জিলানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি। এই তরিকার মৌলিক দর্শন হলো কুরআন ও সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ, আকিদায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের প্রতি দৃঢ়তা এবং শরিয়ত–তরিকত–হাকিকত–মা‘রিফতের ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয়।

তরিকায়ে কাদেরিয়ায় আত্মশুদ্ধি ও চরিত্রগঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাওবা, ইখলাস, জুহদ, সবর, শোকর, তাওয়াক্কুল এবং আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ভরসাকে আধ্যাত্মিক উন্নতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জিকিরে জাহের ও জিকিরে খফি, মুরাকাবা, খিদমতে খালক এবং নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এই তরিকার গুরুত্বপূর্ণ আমল।

এই তরিকার বৈশিষ্ট্য হলো শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে ভারসাম্যপূর্ণ আধ্যাত্মিকতা চর্চা করা—যেখানে ইলম ও আমল, ইবাদত ও দাওয়াত, আখলাক ও মানবসেবা একে অপরের পরিপূরক। ইতিহাসজুড়ে তরিকায়ে কাদেরিয়া এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতীয় উপমহাদেশ বিস্তৃত হয়ে অসংখ্য আলেম, সুফি ও সমাজসংস্কারক তৈরি করেছে, যারা দ্বীন ও মানবতার খিদমতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নাম ও উৎপত্তি:

সাধারণভাবে সর্বজনবিদিত ও প্রসিদ্ধ যে, ‘কাদেরিয়া’ নামটি এই সুফি তরিকার প্রতিষ্ঠাতা, মূলনীতি ও নিয়মের প্রবর্তক ইমাম আব্দুল কাদের জিলানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র নাম থেকে উদ্ভূত। অর্থাৎ, ‘কাদেরিয়া’ শব্দটি সরাসরি তাঁর প্রথম নাম ‘আব্দুল কাদের’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এই নামকরণ কেবল ব্যক্তিনাম-নির্ভর কোনো সাধারণ পরিচয় নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ, তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও সূক্ষ্ম তাৎপর্য; যার পক্ষে শক্ত যুক্তি ও প্রামাণ্য ইশারা বিদ্যমান।

‘কাদেরি’ শব্দের আধ্যাত্মিক ব্যবহার:

‘কাদেরি’ শব্দটি সর্বপ্রথম স্বয়ং ইমাম আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) নিজেই ব্যবহার করেছেন। তিনি এই শব্দ দ্বারা কোনো বংশীয় বা বাহ্যিক পরিচয় বোঝাননি; বরং এর মাধ্যমে তিনি ‘হাল’ (আধ্যাত্মিক অবস্থা) অথবা ‘ওয়াক্ত’ (আধ্যাত্মিক সময়)-এর অধিকারী ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন। সুফি পরিভাষায় ‘ওয়াক্ত’ বলতে মূলত সালেকের অন্তর্গত আধ্যাত্মিক অবস্থাকেই বোঝানো হয়। তিনি তাঁর ‘আশ-শারিফাহ’ নামক কবিতায় বলেন—

وَكُنْ قَادِرِيَّ الْوَقْتِ لِلّٰهِ مُخْلِصًا

تَعِشْ سَعِيدًا صَادِقًا بِمَحَبَّتِي

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তুমি সময়ের ‘কাদেরি’ হয়ে কথা বলো,

তবেই তুমি আমার মহব্বতে সত্যনিষ্ঠ ও সুখী হয়ে বেঁচে থাকবে।

এছাড়াও তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘আলাল আউলিয়া’তে তিনি একই শব্দ পুনরায় ব্যবহার করে বলেন—

أَنَا قَادِرِيُّ الْوَقْتِ عَبْدُ الْقَادِرِ

أُكْنَى بِمُحْيِي الدِّينِ وَالْأَصْلُ جِيلَانِي

আমি সময়ের কাদেরি, আমিই আব্দুল কাদের;

আমার উপনাম মহিউদ্দিন, আর বংশগতভাবে আমি জিলানি।

এই উক্তিগুলো স্পষ্ট করে যে, ‘কাদেরি’ শব্দটি তাঁর কাছে একটি আধ্যাত্মিক মর্যাদা ও অবস্থার প্রতীক, কেবল নামগত পরিচয় নয়।

‘আল-কাদির’ নামের হাকিকত ও ‘কাদেরি’ ধারণা:

এই ব্যাখ্যা আমাদের নিয়ে যায় ইমাম বায়হাকি (রহ.)-এর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আল-আসমা ওয়াস-সিফাত’-এর দিকে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন— ‘আল-কাদির’ (القادر) অর্থ হলো— আল্লাহ তায়ালার কুদরত বা সর্বময় ক্ষমতা সাব্যস্ত করা। এই আলোচনার আলোকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, ইমাম আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর উক্তি— “আমি কাদেরি”— এবং তাঁর নাম ‘আব্দুল কাদের’-এর তাৎপর্য হলো— তিনি আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক নাম ‘আল-কাদির’-এর নিগূঢ় হাকিকত উপলব্ধি করেছেন এবং সেই হাকিকতকে নিজের চরিত্র ও জীবনে প্রতিফলিত করেছেন। অর্থাৎ, তিনি প্রথমে এই নামের মর্মার্থ ও বাস্তবতা অর্জন করেছেন, এরপর তা তাঁর সত্তা ও আচরণের অংশে পরিণত হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘কাদেরি’ এমন এক আধ্যাত্মিক অবস্থার নাম, যা প্রায় ‘মাকাম’—অর্থাৎ স্থায়ী আধ্যাত্মিক স্তরের নিকটবর্তী।

প্রকৃত ‘কাদেরি’র বৈশিষ্ট্য:

প্রকৃত ‘কাদেরি’ তাঁরাই, যারা আল্লাহ তায়ালার আসমাউল হুসনা; বিশেষত ‘আল-কাদির’ নামের হাকিকত আয়ত্ত করেছেন এবং সেই গুণ নিজের জীবনে ধারণ করতে পেরেছেন। এর ফলে আল্লাহর কুদরতের কিছু নিগূঢ় প্রকাশ তাঁদের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়। অবশ্য আল্লাহর ইজাজত ও মর্জির অধীনে।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ‘কাদেরি’ হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত অনুমতি ও তাওফিকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক জগতের ব্যবস্থাপনা (তাসরিফ) ও দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জন করেন।

এখানে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয় স্মরণীয় যে, আল্লাহর কাজা ও কদর অবশ্যম্ভাবী ও অটল। ‘কদর’ অর্থ আল্লাহর পূর্বনির্ধারণ। অর্থাৎ, সৃষ্টির আদিতেই তিনি প্রতিটি বিষয় নির্ধারণ করে রেখেছেন। আর ‘কাজা’ হলো সেই নির্ধারণের কার্যকর বাস্তবায়ন; যা সময়মতো ঘটে যায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর এই ফয়সালাকে পূর্ণ সন্তুষ্টি, ধৈর্য ও শুকরিয়ার সঙ্গে গ্রহণ করে, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বিশেষ এক আধ্যাত্মিক শক্তি ও নৈকট্য দান করেন।

কাদেরিয়া তরিকার ভিত্তি হিসেবে এই মাকাম এই কারণেই ‘কাদেরি’ মাকাম ও ধারণা কাদেরিয়া তরিকার অন্যতম মৌলিক ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং প্রকৃত কাদেরি তিনিই, যাঁর প্রতিটি কাজ আল্লাহর নির্দেশের অনুসারী, যিনি আল্লাহ যা চান তাই চান এবং আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন। যখন একজন সালেক ইলম ও হাল (আধ্যাত্মিক অবস্থা) উভয় দিক থেকেই এই গুণে গুণান্বিত হন, তখনই তিনি প্রকৃত অর্থে গাউসে পাকের কাদেরিয়া তরিকার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।[1]

কাদেরিয়া তরিকার পালনীয় রীতিনীতি:

একজন কাদেরি ব্যক্তি; তিনি যদি শায়খ ও মুর্শিদ হন, কিংবা চেষ্টা-সাধনায় নিয়োজিত কোনো সালেক হন, অথবা পথচলার শুরুতে থাকা কোনো মুরীদ হন— এই তরিকার পথে চলতে হলে কিছু অপরিহার্য রীতিনীতির অনুসরণ করতে হয়। এগুলোর মাধ্যমেই বলা যায় যে, তিনি আচার-আচরণ ও মনোভাবের দিক থেকে সত্যিকার অর্থে কাদেরি। এই রীতিনীতিগুলো হলো—

১. কুরআন ও সুন্নাহর সীমার মধ্যে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকা। ইলম ও হাল উভয় দিক থেকেই; এবং সে অনুযায়ী আমল করা।

২. কোনো রকম বিদ‘আত (দ্বীনের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন সংযোজন) অবলম্বন না করে রসুলুল্লাহ ﷺ-এর পূর্ণ অনুসরণ করা।

৩. ইমাম আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) যেভাবে কাদেরিয়া তরিকার মূলনীতি ও ভিত্তিসমূহ স্থাপন করে গেছেন, সেসব নীতি ও বিধানের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থাকা।

৪. বাহ্যিকভাবে (জাহিরে) শরীর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমলে এই মূলনীতিগুলো বাস্তবায়ন করা এবং একই সঙ্গে অন্তরে (বাতিনে) আকিদা ও অনুসরণে খাঁটি, আন্তরিক ও সত্যনিষ্ঠ থাকা।

৫. অবশ্যই একজন মুত্তাকি, পবিত্র ও পরিপূর্ণ মুর্শিদ গ্রহণ করা; যিনি অগ্রগামী ও অভিজ্ঞ আহলে তরিকতের অন্তর্ভুক্ত। যিনি তার তরবিয়ত (আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ) করবেন এবং এই পথে তার পথপ্রদর্শক হবেন। ইজাজত ও আত্মনির্ভরতার অনুমতি লাভ না করা পর্যন্ত সে নিজ সিদ্ধান্তে অগ্রসর হবে না।

৬. তরিকার আদব-কায়দা রক্ষা করা। আচরণ ও চরিত্রে এবং কাদেরি তরিকার ওজিফা ও জিকিরে সদা নিয়োজিত থাকা— রুহানিভাবে, কথাবার্তা ও বোঝাপড়ায় সব দিক থেকেই।

এই পালনীয় বিষয়গুলো মূলনীতির ক্ষেত্রে পরিবর্তনযোগ্য বা ইজতিহাদের বিষয় নয়; তবে সূক্ষ্ম শাখাগত বিষয়ে সম্মানিত শায়খদের জন্য কিছু অবকাশ রাখা হয়েছে, যাতে তারা মুরিদদের যোগ্যতা ও মানসিক প্রস্তুতির আলোকে উপযুক্তভাবে পথনির্দেশ দিতে পারেন।

তরিকায়ে কাদেরিয়ার মূলভিত্তিসমূহ:

তরিকায়ে কাদেরিয়ার মৌলিক ভিত্তিসমূহ কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা পরবর্তীকালের ইজতিহাদের ফল নয়; বরং এগুলো সরাসরি ইমাম আব্দুল কাদের জিলানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক নির্ধারিত ও প্রামাণিকভাবে বর্ণিত। যার মধ্যে রয়েছে—
১. মুজাহাদা (নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম)
২. তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা)
৩. উত্তম চরিত্র
৪. শোকর
৫.  সবর
৬. রিদা (আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি)
৭. সত্যবাদিতা।

এই সাতটি গুণই এই তরিকার ভিত্তি এবং সকল কল্যাণের মূল। প্রকৃত অর্থে এই সাতটি গুণ কেবল কাদেরিয়া তরিকার সালেকদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং যে কোনো মুসলমানের জন্যই এগুলো নৈতিক উৎকর্ষ, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সর্বজনীন পথ।[2]

বিস্তার ও প্রভাব:

কাদেরিয়া তরিকা বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে আছে। এটি প্রাচীনতম এবং সর্বপ্রথম সুসংগঠিত তরিকা হওয়ার কারণে সুফি তরিকাগুলোর মধ্যে এর বিস্তার সবচেয়ে বেশি। স্বাভাবিকভাবেই উৎপত্তিস্থল হিসেবে এই তরিকা ইরাক এবং জিলান অঞ্চলসহ পুরো পারস্যে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ। এ-ছাড়া আফ্রিকা মহাদেশের দেশসমূহ, যেমন— মিশর, সোমালিয়া, মরক্কো, সুদান ও মৌরিতানিয়ায় এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এশিয়ায় এটি তুরস্ক, ইয়েমেন, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে।

এই তরিকাকে পরবর্তীকালে জন্ম নেওয়া অনেক তরিকার মূলভিত্তি বা উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। যেমন— আদাবিয়্যাহ, মাদিনিয়্যাহ, সোহরাওয়ার্দিয়া, আকবারিয়্যাহ, মৌলভিয়া, রিফায়িয়া, ইফায়িয়া, নাবুলুসিয়া, রুমিয়া, উরুসিয়া, খালওয়াতিয়্যাহ ইত্যাদি।[3]

এক নজরে কাদেরিয়া তরিকা থেকে উদ্ভূত প্রসিদ্ধ তরিকা:
১. আম্মারিয়া — আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ায়।
২. উরুসিয়া —লিবিয়াতে।
৩. আশরাফিয়া — তুরস্কে; ১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দে আশরাফ ওগলু এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
৪. বাক্কাইয়া (বক্কাইয়া) — সুদানে।
৫. সাম্মানিয়া — সুদানে।
৬. বিনাওয়া —ভারতে।
৭. বু‘আলিয়া — আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ায়।
৮. কুরজুমার — ভারতে।
৯. মুশরিফিয়া — ইয়েমেনে।
১০. আরাবিয়া — মিশরে।
১১. হিন্দিয়া — তুরস্কে।
১২. খুলুসিয়া — তুরস্কে।
১৩. নাবলুসিয়া — তুরস্কে।
১৪. রুমিয়া — তুরস্কে।
১৫. ওস্‌লাতিয়া (ওসালাতিয়া) — তুরস্কে।
১৬. কাসেমিয়া — মিশরে।
১৭. ফরদিয়া।
১৮. ইয়াফেয়্যা — ইয়েমেন ও সোমালিয়ায়।
১৯. হালসিয়া — কুর্দিস্তানে; এটি প্রতিষ্ঠা করেন জিয়া উদ্দিন আত-তালাবানি।
২০. জানজিয়া (জাঞ্জিয়া) — আলবেনিয়ায়; এটি প্রতিষ্ঠা করেন আলি বাবা, যিনি ক্রিট দ্বীপের অধিবাসী ছিলেন।
২১. বেকতাশিয়া — আলবেনিয়ায়।
২২. আহদালিয়া — ইয়েমেনি সুফি শায়খ আল-আহদাল এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
২৩. বাদাওয়িয়া (বাদবিয়া) — মিশরে; এটি প্রতিষ্ঠা করেন শায়খ আহমদ আল-বদবী (রহ.)।
২৪. দুসুকিয়া — মিশরে।
২৫. বাইয়ূমিয়া — মিশরে।
২৬. কাবাশিয়া — সুদানে; এটি প্রতিষ্ঠা করেন শায়খ আল-কাবাশি।
২৭. ফজলিয়া — সাহারা মরুভূমিতে; এটি প্রতিষ্ঠা করেন শায়খ মুহাম্মদ ফজল।
২৮.  মাইজভান্ডারিয়া — বাংলাদেশে; এটি প্রতিষ্ঠা করেন হজরত আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারি।
২৯. বিনাওয়া বা কাদেরিয়া আকবরিয়া — ইন্দোনেশিয়ায়।
৩০. বিনিউয়া — চীনে।

ভৌগোলিক বিস্তার:

ফরাসি ঐতিহাসিক ডিপন এবং ফরাসি কর্মকর্তা কোপোলানি তাঁদের Les Confréries Musulmanes গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কাদেরিয়া তরিকা মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিশর, সুদান, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, নাইজার, চাদ, ক্যামেরুন, মোজাম্বিক, সিয়েরা লিওন, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, মালি, টাঙ্গানিকা ও জানজিবার (বর্তমান তানজানিয়া), উগান্ডা, কেনিয়া, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, জর্ডান, ইরাক, ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, বার্মা (মিয়ানমার), থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, আলবেনিয়া এবং যুগোস্লাভিয়া-সহ বহু দেশে বিস্তৃত।

বলা চলে মুসলিম বিশ্বের এমন কোনো শহর নেই, যেখানে কাদেরিয়া তরিকার কোনো খানকাহ বা কেন্দ্র নেই। এসব কেন্দ্রে প্রতিদিনের জন্য নির্ধারিত কাদেরিয়া অজিফা বা জিকির পাঠ করা হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পুরো মুসলিম বিশ্বে কাদেরিয়া তরিকার কেন্দ্রে বা দরবার সংখ্যা ছিল প্রায় দুই হাজার।

 বিশ্বজুড়ে কাদেরিয়া তরিকার প্রধান প্রধান শায়খ:

ইরাক:

কাদেরিয়া তরিকার মূল উৎস হলো ইরাকের বাগদাদ শরিফ। হজরত আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) (৪৭০–৫৬১ হি.) এঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুযোগ্য পুত্রগণ— শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব, শায়খ আব্দুল আজিজ, শায়খ আব্দুর রাজ্জাক এবং শায়খ মুসা জিলানি (রহ.) এই তরিকাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। আজও বাগদাদে তাঁর মাজার শরিফকে কেন্দ্র করে জিলানি পরিবার এই সিলসিলার প্রধান গদ্দীনশীন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমান ভারতের শায়খগণ:

উপমহাদেশে কাদেরিয়া তরিকার প্রচার ও প্রসার সবচেয়ে শক্তিশালী। অনেক মহান সুফি এই অঞ্চলে ইসলামের মশাল প্রজ্বলিত করেছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান ভারতে উল্লেখযোগ্য হলেন—
১. হজরত সৈয়দ ইব্রাহিম ইরজি কাদেরি, হজরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভি কাদেরি দিল্লিতে।
২. মারহেরা শরিফ, উত্তরপ্রদেশে হজরত শাহ আবুল কাসেম ইসমাইল হাসান।
৩. বেরেলি, উত্তরপ্রদেশে হজরত মাওলানা শাহ আহমদ রেজা খাঁন কাদেরি।
৪. বদায়ুন, উত্তরপ্রদেশে শাহ বিনুল হক আব্দুল মাজিদ কাদেরি।
৫. হজরত শাহ মুনাওয়ার আলী শাহ কাদেরি, হিম্মতগঞ্জ, এলাহাবাদ, উত্তরপ্রদেশ।
৬. হজরত শেখ জুনায়েদ কাদেরি, গাজীপুর, উত্তরপ্রদেশ।
৭. হজরত সৈয়্যদ শাহ মুহাম্মদ কাজিম কলন্দর কাকোরভি, লখনউ, উত্তরপ্রদেশ।
৮. সৈয়দনা শাহ আব্দুর রাজ্জাক বাংসভি, লখনউ, উত্তরপ্রদেশ।
৯. হজরত সৈয়দ মাওলানা হাশমত আলী কাদেরি, পিলিভীত, উত্তরপ্রদেশ।
১০. হজরত সৈয়দ শাহ আব্দুর রব, বান্দা, উত্তরপ্রদেশ।
১১. হজরত সৈয়দ শাহ মাজহার রব্বানি, বান্দা, উত্তরপ্রদেশ।
১২. সৈয়দ মুহাম্মদ আনঝারি, আওরঙ্গবাদ, বিহার।
১৩. হজরত শাহ মুহাম্মদ মুজিবুল্লাহ কাদেরি, ফুলওয়ারি শরিফ, পাটনা, বিহার।
১৪. সৈয়দ শেখ মুহাম্মদ তেগ আলী, সরকানাহি শরিফ, বিহার।
১৫. হজরত শাহ কামাল কাদেরি, কাইথাল, হরিয়ানা।
১৬. হজরত শেখ আব্দুল আহাদ সিরহিন্দ শরিফ, পাঞ্জাব।
১৭. হজরত শাহ সৈয়দ মুহাম্মদ ফাজিল কাদেরি, শ্রীনগর, কাশ্মীর।
১৮. হজরত বাবা দাউদ খাকি, অনন্তনাগ, শ্রীনগর, কাশ্মীর।
১৯. হজরত শাহ কাসিম হক্কানি, বাঢগাম, কাশ্মীর।
২০. হজরত সৈয়দ গোলাম আলী শাহ বাদশাহ, জম্মু।
২১. হজরত সৈয়দ শাহ আব্দুল্লাহ আল-জিলানি, পশ্চিমবঙ্গ।
২২. হজরত সৈয়দ শাহ নাসিরুদ্দিন আউলিয়া, চব্বিশ পরগনা, কলকাতা।

দক্ষিণ ভারতে কাদেরিয়া সিলসিলার বিখ্যাত শায়খদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—
২৩. হজরত শাহ বাহাউদ্দিন কাদেরি, দৌলতাবাদ, মহারাষ্ট্র।
২৪. হজরত মখদুম শামসুদ্দিন আবুল ফাতাহ শায়খ মুহাম্মদ মুলতাবি, বিদার, কর্ণাটক।
২৫. হজরত সৈয়দ শেখ বদরুদ্দিন বিদার, কর্ণাটক।
২৬. সৈয়দ শাহ হাশিম হুসাইনি আলাভি, বিজাপুর, কর্ণাটক।
২৭. হজরত শেখ মুহাম্মদ কাসিম কাদেরি বিজাপুর, কর্ণাটক।
২৮. হজরত শেখ আব্দুর রাজ্জাক ফারুকি, বিজাপুর, কর্ণাটক।
২৯. সৈয়দ শাহ আবুল হাসান কাদেরি, বিজাপুর, কর্ণাটক।
৩০. হজরত সৈয়দ শাহ শাহাবুদ্দিন কাদেরি, মহীশূর (মায়সোর), কর্ণাটক।
৩১. হজরত কাদের বাদশাহ কাদেরি, কেসরমডু, কর্ণাটক।
৩২. হজরত ফাতহুল্লাহ শাহ কাদেরি, উত্তর কর্ণাটক।
৩৩. হজরত শেখ আব্দুল লতিফ আল-হামাভি লা-উবালি, কর্নুল, অন্ধ্রপ্রদেশ।
৩৪. হজরত শেখ রফিউদ্দিন আহমদ গরিব নাওয়াজ, হায়দ্রাবাদ, তেলেঙ্গানা।
৩৫. হজরত সৈয়দ শেখ জামালুল বাহর মাশুক রাব্বানি সানি, ওয়ারঙ্গাল, তেলেঙ্গানা।
৩৬. শাহ আবদাল সৈয়দ মিরান হুসাইনি আল-হামাভি, হায়দ্রাবাদ, তেলেঙ্গানা।
৩৭ হজরত সৈয়দ শাহ কাসিম কাদেরি, হায়দ্রাবাদ, তেলেঙ্গানা।
৩৮. হজরত শায়খ গাউস উদ্দিন কাদেরি, আহমেদাবাদ, গুজরাট। [4]

পাকিস্তান:
পাকিস্তানে কাদেরিয়া তরিকার প্রচার-প্রসারে যে সমস্ত শায়খগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-
১. হজরত লাল শাহবাজ কালান্দর (রহ.), সিন্ধু।
২. হজরত মুসা পাক শহীদ (রহ.), মুলতান।
৩. সুলতানুল আরেফিন সখী সুলতান বাহু (রহ.), শোরকোট, পাঞ্জাব।
৪. শাহ ইনায়েত কাদেরী (রহ.), পাঞ্জাব।
৫. মাওলানা আব্দুল গফুর আখুন্দ কাদেরি (সাইদু বাবা), সোয়াত, সাইবার পাখতুনখোয়া।
৬. হজরত খাজা আব্দুর রহমান চৌহরাভি (রহ.), চৌহর শরিফ, হরিপুর।
৭. হজরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি, শেতালু শরিফ, সিরিকোট।
৮. সুলতানুল ফকর হজরত সুলতান মুহাম্মদ আসগর আলী (রহ.), পাঞ্জাব।
৯. পীর মেহের আলী শাহ গোলড়ভী, গোলড়া শরিফ, রাওয়ালপিন্ডি।
১০. হজরত গোলাম মুহিউদ্দীন বাবুজী (রহ.), গোলড়া শরিফ, রাওয়ালপিন্ডি।
১১. হজরত শায়খ আব্দুল্লাহ শাহ বালুচ কাদেরী লাহোরী, লাহোর।
১২. হজরত শায়খ পীর মুহাম্মদ কাদেরী নওশাহী (রহ.), পীর মহল, পাঞ্জাব।
১৩. পীর সৈয়দ মুহাম্মদ আমিনুল হাসনাত, মানকি শরিফ, নওশেরা, খাইবার পাখতুনখোয়া।
১৪. সুফি মিয়াঁ মীর (রহ.), লাহোর।
১৫. হজরত পীর বাবা মিসকিন‌ আমরি কাদেরী, লাহোর।
১৬. হজরত শায়খ মধুলাল হুসাইন কাদেরী লাহোরী, লাহোর।
১৭. সৈয়দ বাহাওয়াল শের কলন্দর বাহাউদ্দিন কাদেরী, হাজরা।
১৮. হজরত সৈয়্যদ ফতেহ আলী শাহ কাদেরী, শিয়ালকোট।

বাংলাদেশ:

বাংলাদেশে ইসলামের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে কাদেরিয়া তরিকা একটি প্রাচীন, প্রভাবশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত সুফি সিলসিলা হিসেবে বিশেষ মর্যাদা রাখে। এ দেশে যারা এই তরিকার কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—
১. হজরত শাহ মখদুম রূপোশ (রহ.) – রাজশাহী
২. হজরত সৈয়্যদ শাহ তুরকান – রাজশাহী
৩. সৈয়্যদ আহমদ তন্নুরী মিরান শাহ (রহ.) – লক্ষীপুর
৪. হজরত আজিজ উল্লাহ আল কাদেরী (রহ.) – লক্ষীপুর
৫. শাহসুফি জকি উদ্দিন (রহ.) – লক্ষীপুর
৬. সৈয়্যদ মিরান শাহ তাতারী – কিশোরগঞ্জ (অষ্টগ্রাম)
৭. হজরত শাহ রাস্তি বাগদাদি (রহ.) – চাঁদপুর
৮. হজরত ইমাম উদ্দিন শাহ রাজাপুরী (রহ.) – চাঁদপুর
৯. হজরত শাহ সুফি দায়েম (রহ.) – ঢাকা
১০. সৈয়্যদ শাহ আলী বাগদাদি (রহ.) – ঢাকা
১১. শাহ আহসান উল্লাহ (রহ.) – ঢাকা
১২. আবদুল হামিদ আল কাদেরী (রহ.) – ঢাকা
১৩. শাহ আমানত খান (রহ.) – চট্টগ্রাম।
১৪. শেখুল আরেফীন শাহ মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) – চট্টগ্রাম
১৪. কাজি আহসানুজ্জামান হাশেমী (রহ.), ইমামে আহলে সুন্নাত নুরুল হাশেমী (রহ.) – চট্টগ্রাম
১৫. শাহ হাফেজ মুনির উদ্দিন নুরুল্লাহ (রহ.) – চট্টগ্রাম
১৬. হজরত নুরুদ্দিন বন্দীশাহ আল কাদেরী (রহ.) – কুমিল্লা
১৭. সুফি শাহ মুহাম্মদ নবী বখশ তেগী কাদেরী (রহ.) – কুমিল্লা
১৮. আব্দুর রহমান হানাফি (রহ.) – কুমিল্লা
১৯. শাহ নেছারুদ্দীন আহমদ (রহ.) – পিরোজপুর
২০. ছাহেব কিবলা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী – সিলেট

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশে সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রহ.), সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.) এবং তাদের উত্তরসূরিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কাদেরিয়া তরিকা বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। এ-ছাড়া গাউছুল আজম শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (রহ.) কাদেরিয়ার তরিকার এক নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা করেন; যা মাইজভাণ্ডারী তরিকা নামে খ্যাত এবং দেশ-বিদেশে বিস্তৃত। সৈয়দ আজিজুল হক শেরে বাংলা (রহ.) এই সিলসিলার উজ্জ্বল নক্ষত্র। এ-ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকে বাংলাদেশে নানা পীর মাশায়েখ, সিলসিলা ও দরবারের মাধ্যমে কাদেরিয়া তরিকার বিস্তৃতি ঘটেছে।

আফ্রিকা মহাদেশ:

আফ্রিকায়— বিশেষত পশ্চিম আফ্রিকায়; কাদেরিয়া তরিকা বহু মহান শায়খের মাধ্যমে বিস্তৃত হয়েছে। অসংখ্য খানকাহ ও মোকাদ্দামের মাধ্যমে আফ্রিকায় এ তরিকা সুদীর্ঘকাল ধরে প্রচারিত হয়ে আসছে।

আফ্রিকায় কাদেরিয়া তরিকার প্রধান শায়খগণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন—
১. শায়খ সা‘দ বূহ (সা‘দ আবীহ) (রহ.)। তিনি পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুফি শায়খ। কাদেরিয়া ফাদিলিয়া শাখার প্রধান প্রচারক; তাঁর অনুসারী মিলিয়নেরও বেশি।
২. ত্রারজা ও পশ্চিম আফ্রিকায় শায়খ করীবুল্লাহ নাসির কাবারা (রহ.)। তিনি নাইজেরিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকায় কাদেরিয়া আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা।
৩. শায়খ সিদি লাহসান হাসানি (রহ.), আলজেরিয়া ও সমগ্র আফ্রিকার কাদেরিয়া তরিকার সাধারণ মাশায়েখ পরিষদের শায়খ এবং শায়খ আবদুল আজিজ ইবনে শায়খ আয়াহ, যিনি বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকার কাদেরিয়া তরিকার সাধারণ খলিফা।
৪. উসমান দান ফোডিও (রহ.) নাইজেরিয়া ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে কাদেরিয়া তরিকার মাধ্যমে ইসলামি রেনেসাঁ ঘটিয়েছিলেন।
৫. সেনেগালে শায়খ আমাদু বাম্বা কাদেরিয়া থেকে উদ্ভূত ‘মুরিদিয়া’ তরিকার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ও কৃষি বিপ্লব ঘটান।
৬. সুদানে শায়খ আবদুল্লাহ আল-কাবাশি।
৭. সোমালিয়ায় শায়খ উয়েস আল-বারাউয়ি এই তরিকার ব্যাপক প্রচার করেন।

আরব বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্য

ইরাকের বাইরে সিরিয়া, ইয়েমেন ও মিশরেও কাদেরিয়া তরিকা অত্যন্ত জনপ্রিয়। সিরিয়ার বিখ্যাত আলেম শায়খ আব্দুল গনি নাবলুসি (রহ.) এবং ইয়েমেনের শায়খ আহমদ আল-আহদাল (রহ.) এই সিলসিলার অন্যতম স্তম্ভ।

মিশরে কাদেরিয়া থেকে উদ্ভূত বাদবিয়া (শায়খ আহমদ আল-বদবী), দাসুকিয়া (শায়খ ইবরাহিম দাসুকি) এবং বায়ুমিয়া শাখাগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী।

তুরস্ক, কুর্দিস্তান ও আলবেনিয়া:

অটোমান সাম্রাজ্যের সময় শায়খ ইসমাইল রুমি (রহ.) ইস্তাম্বুলে ‘রুমিয়া’ শাখা প্রতিষ্ঠা করে ৪০ টিরও বেশি খানকাহ স্থাপন করেন। আশরাফি ওগলু (রহ.) তুরস্কের আনাতোলিয়া অঞ্চলে এই তরিকা ছড়িয়ে দেন। কুর্দিস্তানে শায়খ জিয়াউদ্দিন তালাবানি ‘হালিসিয়া’ শাখা এবং আলবেনিয়ায় আলি বাবা (রহ.) ‘জানজিয়া’ শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।

পূর্ব এশিয়া:

চীন ও ইন্দোনেশিয়ায় কাদেরিয়া তরিকার শিকড় অত্যন্ত গভীর। ইন্দোনেশিয়ায় শায়খ আবদুস সামাদ পালেম্বানি (রহ.) এবং ‘কাদেরিয়া আকবরিয়া’ শাখার মাধ্যমে এই তরিকা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান সুফি ধারায় পরিণত হয়। চীনেও ‘বিনিউয়া’ নামে কাদেরিয়া তরিকার একটি শক্তিশালী অনুসারী গোষ্ঠী বিদ্যমান।

 

তরিকায়ে কাদেরিয়া হজরত আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত সুফি পথ; যা কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ, আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ, নৈতিকতা ও নিয়মিত জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের পথ নির্দেশ করে। এটি কেবল আধ্যাত্মিক শিক্ষার মাধ্যম নয়; বরং মানবকল্যাণ ও দ্বীনের সেবার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশিকা। বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত এ তরিকা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র দ্বীনের অন্যতম বাহন। যে বাহনে ঠিকঠাক আরোহন করতে পারলে যে কেউ হেদায়তের দিশা পায়। চলতে থাকে আল্লাহ এবং রসুলের পথে। যার গন্তব্য জান্নাতের দিকে, রসুলের দিকে, সর্বোপরি আল্লাহর দিকে।