১. আল্লাহকে ভয় করো, তোমার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো। হায় মানুষ, দুনিয়াকে রোজা রাখো আর তোমার ইফতার হোক মৃত্যু! মানুষ থেকে দূরে থাকো, তবে তাদের জামাতে (সালাতে) অংশগ্রহণ করতে ভুলো না।”তিনি আরও বলেছেন, “নিশ্চয়তা (ইয়াকিন) হলো সর্বোত্তম জুহদ, জ্ঞানই সর্বোত্তম ইবাদত, আর ইবাদতই সর্বোত্তম ব্যস্ততা।১
২. আল্লাহ তায়ালা কখনও কোনো বান্দাকে গুনাহের লজ্জা ও হীনতা থেকে তাকওয়ার মর্যাদায় উন্নীত করেন না, যতক্ষণ না তিনি তাঁকে এমনভাবে সমৃদ্ধ করেন যে, সে অর্থহীন হয়েও ধনী হয়ে যায়। কোনো গোত্র বা পরিবারের শক্তি ছাড়াই সম্মানিত হয় এবং মানুষের সঙ্গ ছাড়াই আনন্দ ও সান্ত্বনা লাভ করে।
৩. মানুষের কাছ থেকে এমনভাবে পালাও, যেমন তুমি সিংহ থেকে পালাও।
৪. মানুষের সাথে পরিচয় কম রাখো। যেমন দুনিয়ার মানুষরা ধর্ম হারিয়ে সামান্য দুনিয়াতেই সন্তুষ্ট থাকে, তুমিও ধর্ম ঠিক রেখে দুনিয়ার সামান্যে সন্তুষ্ট থাকো। দুনিয়াকে এমন মনে করো যেন আজ তুমি রোজা রেখেছো, আর ইফতার করবে কেবল মৃত্যুর সময়।
৫. যে আল্লাহর শাস্তির ভয় পায়, দূরের বিপদ তার কাছে ছোট মনে হয়। যে দীর্ঘ জীবন আশা করে, তার আমল দুর্বল হয়। যা আসতে চলেছে তা সবই নিকটবর্তী। হে ভাই, যা কিছু তোমাকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বিভ্রান্ত করে, তা সবই তোমার জন্য বিপদসংকেত। কবরের লোকরা শুধু তাদের প্রদানকৃত বস্তুতে আনন্দ পায় এবং যা পিছিয়ে যায়, তা নিয়ে অনুতপ্ত হয়। আর দুনিয়ার লোকেরা যেভাবে লড়াই ও প্রতিযোগিতা করে, কবরের লোকেরা ঠিক সেভাবে অনুতপ্ত হয়।”
৬. হে ভাই, রাত ও দিন মানুষের জন্য ধাপে ধাপে নেমে আসে; প্রতিটি পর্যায়কে ঠিকমতো পার করতে হবে। যদি তুমি প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পার, তবে তা করো। পথের অবসান দ্রুত হবে; তাই প্রস্তুত হও এবং নিজের কাজ সমাধা করো। আমি তোমাকে এটা বলছি, অথচ আমি নিজেও এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ।”এরপর তিনি উঠে চলে গেলেন।
৭. হে মানুষের সন্তান, তুমি তোমার ইচ্ছার পূর্ণতা দেখে আনন্দিত হও, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা তুমি পাও কেবল তোমার জীবনের মেয়াদের শেষ হওয়াযর মাধ্যমে। এবং তুমি তা অর্জন করলেও তোমার কাজ যেন অন্যের উপকারে যায়।
৮. খেয়াল রেখো, আল্লাহ যেন তোমাকে এমন স্থানে না দেখেন যেখানে তিনি যেতে নিষেধ করেছেন; আর তিনি যেন তোমাকে সেই স্থানে অনুপস্থিত না পান, যেখানে তিনি থাকতে আদেশ করেছেন। তাঁর নৈকট্য এবং তোমার উপর তাঁর ক্ষমতা স্মরণ করে লজ্জা করো।২
৯. খাওফ (ভয়) এর এমন কিছু আলোড়ন আছে যা আল্লাহভীরু লোকদের মাঝে স্পষ্টভাবে দেখা যায়; মুহাব্বাত এর এমন কিছু মর্যাদা আছে যা আল্লাহপ্রেমিকরাই চিনে নেয়; এবং আকুল আকাঙ্ক্ষা (শওক)-এর এমন কিছু ব্যাকুলতা আছে, যা কেবল অন্তরে তৃষ্ণার্ত আরেফিনরাই অনুভব করে। কিন্তু আজ তারা কোথায়? তারা-ই তো প্রকৃত সফল!
১০. তুমি যদি ঠান্ডা পানি পান করো, সুস্বাদু খাবার খাও আর ঘন ছায়ায় হেঁটে বেড়াও, তবে মৃত্যুকে ভালোবাসবে কবে? আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কখন জাগবে তোমার অন্তরে?’ এই কথা শুনে সুফিয়ান (রহ.) কেঁদে ফেললেন।৩