১. মানুষের আসল রত্ন হলো তার ফজিলত; আর বুদ্ধির প্রকৃত রত্ন হলো আল্লাহর তাওফিক।৯

২. তিনটি জিনিস বিরল বা অস্তিত্বহীন। ক. উত্তম মুখাবয়ব (সৌন্দর্য) এর সাথে সততা। খ. উত্তম চরিত্রের সাথে ধার্মিকতা। গ. উত্তম বন্ধুত্বের সাথে বিশ্বস্ততা বা আমানতদারিতা।১০

৩. যে ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা সংশোধনের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে উত্তম বাহ্যিক আচরণ দান করেন। আর যার বাহ্যিক আচরণ উত্তম হয় তার অভ্যন্তরীণ চেষ্টার সাথে আল্লাহ তায়ালা তাকে তাঁর দিকে হেদায়েত দান করেন। কারণ, মহান আল্লাহ বলেছেন, الَّذِیۡنَ جَاهَدُوۡا فِیۡنَا لَنَهۡدِیَنَّهُمۡ سُبُلَنَا. অর্থাৎ, আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। (সুরা আনকাবুত: ৬৯)।

৪. জ্ঞান মানুষের ভয় (তাকওয়া) বৃদ্ধি করে, জুহুদ (দুনিয়াবিমুখতা) মানুষকে মানসিক শান্তি দেয়, আর মারেফাত (দ্বারা আল্লাহকে জানার জ্ঞান) মানুষকে তওবায় প্রবৃত্ত করে। এই উম্মতের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ, যাদের আখিরাত তাদের দুনিয়া থেকে বিমুখ করে না এবং যাদের দুনিয়া তাদের আখিরাত থেকে বিমুখ করে না।

৫. যে জিনিস বান্দাকে তওবার (অনুশোচনা করে ফিরে আসার) দিকে ধাবিত করে, তা হলো ইসরার (পাপে জিদ বা লেগে থাকা) ছেড়ে দেওয়া। আর যে জিনিস তাকে ইসরার ছেড়ে দিতে ধাবিত করে, তা হলো ভয়কে আঁকড়ে থাকা।

৬. বান্দার উচিত নয় যে, ওয়াজিব কাজকে নষ্ট করে পরহেজগারিতা অর্জন করার চেষ্টা করা। উবুদিয়্যাতের (দাসত্ব/আল্লাহর বান্দা হওয়ার) বৈশিষ্ট্য হলো— নিজের জন্য কোনো মালিকানা না দেখা এবং জানা যে, তুমি নিজের জন্য ক্ষতি বা উপকার কোনো কিছুই করার ক্ষমতা রাখো না।

৭. তাসলিম (সমর্পণ) হলো— বিপদের সময় বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই দৃঢ় থাকা।

৮. আশা হলো মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণার আকাঙ্ক্ষা এবং মৃত্যুর সময় তাঁর সম্পর্কে উত্তম ধারণা পোষণ করা। দুঃখ কয়েক প্রকারের হয়। যথা— ক. এমন কিছু হারানোর দুঃখ, যা সে পেতে ভালোবাসে। খ. ভবিষ্যতে কোনো কিছুর ভয়ের দুঃখ। গ. কাঙ্ক্ষিত কোনো কিছু অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার বা দেরি হওয়ার দুঃখ।

৯. এমন দুঃখ, যখন সে নিজের মধ্যে আল্লাহর হকের বিপরীতে কাজ করার কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত হয়।

১০. উত্তম চরিত্র হলো কষ্ট সহ্য করা, কম রাগ করা, মুখ প্রফুল্ল রাখা এবং সুন্দর কথা বলা।

১১. প্রত্যেক জিনিসের একটি সারমর্ম আছে। মানুষের সারমর্ম হলো বুদ্ধি, আর বুদ্ধির সারমর্ম হলো ধৈর্য।’ বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়ার মাধ্যমে (শারীরিক ইবাদত) কাজ করার চেয়ে গায়েবের প্রতি মনোযোগ দিয়ে অন্তরের নড়াচড়ার (আত্মিক ইবাদত) মাধ্যমে কাজ করা অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ।

১২. যদি তুমি আল্লাহর আহ্বান না শোনো, তবে তুমি আল্লাহর আহবানকারীকে কীভাবে সাড়া দেবে? আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা নিজেকে ধনী মনে করে, সে আল্লাহর মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ।

১৩. জালিম ক্ষতিগ্রস্ত, যদিও মানুষ তার প্রশংসা করে; আর মজলুম নিরাপদ, যদিও মানুষ তার নিন্দা করে। অল্পে তুষ্ট ব্যক্তি ধনী, যদিও সে ক্ষুধার্ত থাকে; আর লোভী ব্যক্তি দরিদ্র, যদিও সে মালিক হয়।

১৪. যে ব্যক্তি মুরাকাবা (আল্লাহর ধ্যান) ও ইখলাস (আন্তরিকতা) দ্বারা তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা সংশোধন করে, আল্লাহ তার বাহ্যিক অবস্থা মুজাহাদা (আত্ম সংগ্রাম) এবং সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে সুসজ্জিত করেন।”

১৫. হজরত হারিস আল-মুহাসিবীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘মানুষের মধ্যে কে তার নফসের (প্রবৃত্তির) উপর সবচেয়ে বেশি বিজয়ী?’ তিনি বললেন, “যে তাকদিরের উপর সন্তুষ্ট।”

১৬. যে ব্যক্তি নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে না, সে মূলত সেটির অপসারণ ডেকে আনে।১১