১. হজরত হাসান বসরি (রহ.) বলেন, “হে আদম সন্তান, আল্লাহর কসম, তুমি যদি কুরআন পাঠ করো এবং তার ওপর যথার্থ বিশ্বাস স্থাপন করো, তবে দুনিয়ায় তোমার দুঃখবোধ দীর্ঘ হবে, তোমার ভয় প্রবল হবে এবং তোমার কান্না বেড়ে যাবে।”

২. হাসান (রহ.) প্রায়ই বলতেন, “আমরা হাসি; অথচ জানি না, হয়তো আল্লাহ আমাদের কোনো আমলের ওপর দৃষ্টি দিয়ে বলে দিয়েছেন, ‘আমি তোমাদের কোনো আমলই কবুল করব না’।”

৩. “হায় আদম সন্তান, আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করার মতো শক্তি কি তোমার আছে?”

৪. “আমি এমন মহৎ লোকদের (সাহাবিদের) দেখেছি, যাঁদের কাছে এই দুনিয়া পায়ের নিচের মাটির চেয়েও তুচ্ছ ছিল। আবার এমন লোকও দেখেছি, যাদের কাছে রাতের খাবারের জন্য সামান্য খাদ্য ছাড়া আর কিছুই থাকত না; তবুও তারা বলত— ‘আমি সবটুকু পেটে পুরব না।’ এরপর ক্ষুধার্ত থাকা সত্ত্বেও তার একাংশ সদকা করে দিত, যদিও গ্রহীতার চেয়ে দাতার ক্ষুধা হয়তো বেশি ছিল।”

৫. সালিহ আল-মুররি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “হে আদম সন্তান, তুমি তো কেবল কয়েকটি দিনের সমষ্টি; একটি দিন চলে গেলে তোমার অস্তিত্বের একাংশও বিলীন হয়ে যায়।”

৬. মুবারক ইবন ফাদালাহ বলেন, আমি হাসানকে বলতে শুনেছি, “মৃত্যু দুনিয়ার আসল রূপ উন্মোচিত করে একে লাঞ্ছিত করেছে; কোনো বুদ্ধিমান মানুষের জন্য দুনিয়াতে আনন্দিত হওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট রাখেনি।”

৭. সাবিত তাঁর থেকে বর্ণনা করেন, হাসান (রহ.) বলতেন, “মুমিনের অট্টহাসি তার অন্তরের গাফলতির পরিচয়।” ১

৮. আবু উবাইদা আন-নাজি থেকে বর্ণিত, তিনি হাসান বসরি (রহ.)-কে বলতে শুনেছেন, “হে আদম সন্তান, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ইমানের স্বাদ পাবে না, যতক্ষণ না মানুষের সেই দোষ ধরা ছেড়ে দেবে, যে দোষ তোমার মধ্যেও আছে। প্রকৃত ইমান হলো আগে নিজের দোষ সংশোধন করা। তুমি যখনই নিজের একটি দোষ সংশোধন করবে, তখনই নিজের ভেতরে আরেকটি দোষ পাবে, যা সংশোধন করা বাকি। এভাবে তুমি নিজের ভুল সংশোধনেই ব্যস্ত হয়ে পড়বে। আর আল্লাহর কাছে সেই বান্দাই সবচেয়ে প্রিয়, যে নিজের সংশোধনে মগ্ন থাকে।” ২

৯. ইমরান বিন খালিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, হাসান বসরি (রহ.) বলেন, “একজন মুমিন সকালেও দুঃখিত অবস্থায় থাকে এবং সন্ধ্যাতেও দুঃখিত থাকে। এর বাইরে তার উপায় নেই। কারণ, সে সর্বদা দুটি ভয়ের মধ্যে থাকে। ক. অতীত গুনাহের ভয়—আল্লাহ সে বিষয়ে কী ফয়সালা করবেন, সে জানে না। খ. অবশিষ্ট সময়ের ভয়—এই সময়ের মধ্যে সে কী ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িয়ে পড়বে, সে জানে না।”

১০. “হে আদম সন্তান, তুমি তো কিছু দিনের সমষ্টি; একটি দিন চলে গেলে তোমার অস্তিত্বের একাংশও বিলীন হয়ে যায়।”

১১. “সবচেয়ে পাপিষ্ঠ সে ব্যক্তি, যে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়, দম্ভভরে কাপড় টেনে চলে এবং বলে— ‘আমার কোনো সমস্যা নেই।’ অচিরেই সে জানবে— আল্লাহ কখনও দুনিয়াতেই দ্রুত শাস্তি দেন, আবার কখনও তা বিচারের দিনের জন্য জমা রাখেন।”

১২. হিশাম থেকে বর্ণিত, হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, “আল্লাহ তার ওপর রহম করুন, যে জীর্ণ পোশাক পরে, রুটির শুকনো টুকরো খায়, মাটির সাথে মিশে থাকে (অত্যন্ত বিনয়ী হয়), গুনাহের জন্য কাঁদে এবং ইবাদতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে।”

১৩. হাওশাব ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাসান বসরি (রহ.)-কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহর কসম, তাদের (পাপিষ্ঠদের) পায়ের নিচে যদি দামি ঘোড়া শব্দ করে চলে এবং মানুষ সম্মান করে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে; তবুও পাপের গ্লানি ও লাঞ্ছনা তাদের অন্তরে লেগেই থাকে। আল্লাহ তায়ালা স্থির করে দিয়েছেন— বান্দা যখন তাঁর অবাধ্য হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করবেনই।”

১৪. মুবারক বিন ফাদালাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাসান বসরি (রহ.)-কে বলতে শুনেছি, “মৃত্যু দুনিয়ার সমস্ত সম্মান ও চাকচিক্যকে কলঙ্কিত করে দিয়েছে; ফলে বুদ্ধিমানের জন্য আনন্দিত হওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই।”

১৫. হাসান বসরি (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, “হে আদম সন্তান, তোমার অবস্থা সেই ভেড়ার মতো, যে ভেড়াকে জবেহ করার জন্য ছুরি ধার দেওয়া হচ্ছে, রান্নার জন্য চুলা জ্বালানো হচ্ছে; অথচ ভেড়া জাবর কাটছে!” (অর্থাৎ মৃত্যু নিকটে, অথচ মানুষ গাফেল।)

১৬. “হে আদম সন্তান, তুমি তো দুটি সওয়ারি। রাত ও দিনের ওপর সওয়ার। তারা তোমাকে নিয়ে থামে না; অবশেষে তারা তোমাকে আখিরাতে পৌঁছে দেবে। এরপর হয় জান্নাত, নয় জাহান্নাম। তোমার চেয়ে বড় ঝুঁকিতে আর কে আছে?”

১৭. আবু মুসা বর্ণনা করেন, আমি হাসান বসরি (রহ.)-কে বলতে শুনেছি, “জানো, ইসলাম কী? ইসলাম হলো তোমার গোপন ও প্রকাশ্য অবস্থা এক হবে, তোমার অন্তর আল্লাহর কাছে সমর্পিত হবে, আর তোমার হাত ও জবান থেকে প্রতিটি মুসলিম ও চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নিরাপদ থাকবে।”

১৮. “আল্লাহর কসম, যে বান্দার রিজিক প্রতিদিন (তাকদির অনুযায়ী) বণ্টন করে দেওয়া হয়, অথচ সে যদি না ভাবে— এটাই তার জন্য সর্বোত্তম ছিল (অর্থাৎ সে অসন্তুষ্ট থাকে), তবে সে হয় অক্ষম, নয়তো চরম নির্বোধ।” ৩