১. আবদুল ওয়াহিদ ইবনু বকর বলেন- আমি আহমদ ইবনু ফারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বললেন- আমি হুসাইন ইবনু মানসুর হাল্লাজ-কে বলতে শুনেছি— “আল্লাহ তাঁদের তাঁর ‘নামের’ পর্দায় আচ্ছাদিত করেছেন— এ কারণে তারা বেঁচে আছে। যদি তাঁর ‘কুদরতের জ্ঞান’ তাঁদের সামনে প্রকাশ পেত, তারা উন্মত্ত হয়ে যেত। আর যদি তাদের জন্য হাকিকতের পর্দা সম্পূর্ণ উন্মোচিত হয়ে যেত, তারা তা সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুবরণ করত।”

২. তিনি আরো (আহমদ ইবনু ফারিস) বলেন, হাল্লাজ আরও বলতেন— “হে আমার প্রভু, আপনি জানেন আপনার শোকর আদায় করার স্থানগুলোতে আমি অক্ষম। সুতরাং, আপনি নিজেই আমার পক্ষ থেকে আপনারই শোকর আদায় করুন; কারণ প্রকৃত শোকর তো আপনি ছাড়া কেউ করতে পারে না।”

৩. বর্ণনাকারী বলেন, আমি হাল্লাজকে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আমলের দিকে দৃষ্টি দেয়, সে যার জন্য আমল করা হচ্ছে (আল্লাহ), তাঁর থেকে আড়াল হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি যার জন্য আমল করা হচ্ছে, তাঁর দিকে দৃষ্টি দেয়, সে আমলগুলো দেখা থেকে আড়াল হয়ে যায়।” অর্থাৎ, যে ব্যক্তি নিজের নেক আমল নিয়ে ভাবে, ‘আমি কত ভালো কাজ করেছি’, সে আসল উদ্দেশ্য অর্থাৎ আল্লাহকে ভুলে যায়। আর যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে মনোযোগ দেয়, তার কাছে নিজের আমল তুচ্ছ মনে হয়, সে সেগুলো নিয়ে গর্ব করে না।

৪. “কোনো বান্দা যখন পরিশুদ্ধ হয়ে ‘মারিফতের’ (আল্লাহ-জ্ঞান) স্তরে পৌঁছে যায়, তখন আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরে নিজ থেকেই আন্তরিকতা নাজিল করেন এবং তার গোপন রহস্যকে পাহারা দেন; যাতে সেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো আন্তরিকতা প্রবেশ করতে না পারে।”

৫. “আল্লাহই ইবাদতের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং তিনিই আনুগত্যের একমাত্র গন্তব্য। যে তাঁর বাইরে কাউকে দেখে, সে সত্যকে দেখে না। যে তাঁর বাইরে কিছু বুঝতে চায়, সে সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে না। আল্লাহর খেয়াল ও নজরদারির সুবাসেই চরিত্র পরিশুদ্ধ হয়। আর তাঁর দিকে সম্পূর্ণ মিলনে (জামউল্লাহ) পৌঁছলেই শান্তি লাভ হয়।”

৬. “জিহ্বাগুলো তার (আল্লাহর) ইচ্ছায় কথা বলে এবং সে কথার আড়ালে তারা নিজেরাই বিলীন হয়ে যায়। আর নফসগুলো তার ব্যবহারের অধীন এবং সেই ব্যবহারের ভেতরে তারাও বিলীন হয়ে থাকে।”

৭. “প্রভুর লজ্জাশীলতা তাঁর অলিদের অন্তর থেকে নিয়ামতের আনন্দ দেখার অনুভূতিই সরিয়ে দিয়েছে। বরং ইবাদতের লজ্জাশীলতাই অলিদের অন্তর থেকে ইবাদতের আনন্দ দেখার ক্ষমতাও মিটিয়ে দিয়েছে।” অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্য ও লজ্জাশীলতা এত গভীর হয় যে, অলিরা নিজেদের আমলের আনন্দ দেখতেই লজ্জা পান। কারণ, সব আল্লাহর অনুগ্রহ।

৮. “যে ঈমানের আলো দিয়ে হককে খুঁজতে চায়, সে যেন নক্ষত্রের আলো দিয়ে সূর্য খুঁজতে চায়।” অর্থাৎ হকের নুর এত মহান যে, ঈমানের নুর তার তুলনায় অপর্যাপ্ত।

৯. তিনি এক ভ্রান্ত মুতাজিলার শায়েখ জব্বায়ীর অনুসারীকে বলেছিলেন, “যেহেতু আল্লাহ কোনো কারণ ছাড়াই দেহ সৃষ্টি করেছেন, তেমনিভাবে তিনি কোনো কারণ ছাড়াই সেই দেহে গুণাবলি সৃষ্টি করেছেন। যেমন বান্দা তার কাজের মূল সত্তার মালিক নয়, তেমনি সে কাজের ওপরও তার প্রকৃত মালিকানা নেই।”

১০. “মানবীয় সত্তা কখনো তাঁর (আল্লাহর) থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়, আবার পুরোপুরি যুক্তও নয়।”