সমরকন্দ শহর। শাসক তখন মির্জা উলুঘ বেগ। সেই সময় বিখ্যাত হাদিস বিশারদ শামসুদ্দীন আল-জাযারি শহরে এসেছেন। তাঁর সাথে আছেন তাঁর শায়খ খাজা নকশবন্দের খলিফা মুহাম্মদ পারসা। কিছু ঈর্ষান্বিত আলেম সুযোগ বুঝে বাদশাহর কাছে নালিশ করলেন, এই লোক এমন হাদিস বর্ণনা করে, যার কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই!

বাদশাহ তলব করলেন শামসুদ্দীনকে। শামসুদ্দীন ঘাবড়ে গিয়ে শায়খকে বিষয়টি জানালেন। শায়খ হাসিমুখে বললেন, “চিন্তা নেই, আমি তোমার সাথে যাব।”

দরবারে পৌঁছে দেখলেন, বুখারার মুফতি হুসামুদ্দীন আন-নাহওয়ি-সহ বহু বড়ো বড়ো আলেম বসে আছেন। পরিবেশটা থমথমে।মুফতি সাহেব একের পর এক হাদিসের সনদ জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। শামসুদ্দীন প্রতিটি সনদ বললেন, কিন্তু আলেমরা প্রতিবারই বলে দিলেন, “না, এটা ভুল।”

শায়খ বাহাউদ্দিন বুঝে গেলেন, এরা সত্য শুনতে আসেনি। যাই বলা হোক, এরা অস্বীকার করবেই। তখন শায়খ শামসুদ্দীনের কানে কানে বললেন, “মুফতি সাহেবকে জিজ্ঞেস করো, অমুক বর্ণনাকারী সম্পর্কে তাঁর কী মত।” শামসুদ্দীন প্রশ্ন করলেন। মুফতি সাহেব একটু গর্বের সাথেই বললেন, “তিনি সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য। তাঁর ব্যাপারে কোনো আলেমের কোনো আপত্তি নেই “

তখন শায়খ সরাসরি বললেন, “যাঁকে আপনি নিজেই নির্ভরযোগ্য বলছেন, সেই বিশারদ একটি হাদিসগ্রন্থ রচনা করেছেন। সেই বইটি এই মুহূর্তে আপনার নিজের ঘরেই আছে। বইটির রং এমন, পৃষ্ঠা প্রায় পাঁচশো। আর আপনি যে হাদিসগুলো অস্বীকার করলেন, সেগুলো ওই বইয়ের অমুক অমুক পৃষ্ঠায় লেখা আছে।”

মুফতি অবাক হয়ে বললেন, “আমার ঘরে এমন কোনো বই নেই!”

বাদশাহ সাথে সাথে একজন লোককে মুফতির বাড়িতে পাঠালেন। দরবারে তখন পিনপতন নীরবতা। সবাই অপেক্ষা করছেন।

কিছুক্ষণ পর সেই লোক ফিরে এলো। হাতে একটি বই। বইটি খোলা হলো। শায়খ যে পৃষ্ঠাগুলোর কথা বলেছিলেন, ঠিক সেই পৃষ্ঠাগুলোতেই সেই হাদিসগুলো লেখা! দরবারে সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলেন। মুফতি লজ্জায় মাথা নিচু করলেন। বাদশাহ বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলেন।

এই ছিলেন শায়খ বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, যাঁর অন্তরের দৃষ্টি বাইরের চোখের চেয়ে অনেক বেশি দেখতে পেত।