হজরত শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী (রহ.) ছিলেন এমনই এক অনন্য সাধক, যাঁর জীবনে শরিয়ত ও তরিকতের সুষম সমন্বয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত। তিনি কেবল আত্মিক সাধনায় নিবেদিত ছিলেন না; বরং সমাজ ও মানবতার কল্যাণে তাঁর প্রজ্ঞা ও দাওয়াত বিস্তৃত করেছিলেন। কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক চিন্তা, গভীর তাসাউফি উপলব্ধি ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর জীবনকে করেছে যুগান্তকারী।

প্রাথমিক পরিচিতি:

শিহাবুদ্দীন আবু হাফস, যিনি আবু আব্দুল্লাহ নামেও পরিচিত, ছিলেন এক মহিমান্বিত আলিম ও সাধক। তাঁর পূর্ণ নাম দীর্ঘ বংশপরম্পরায় প্রসারিত— উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (আম্মাওয়াইহ নামে পরিচিত) ইবনে সা’দ ইবনে হুসাইন ইবনে কাসিম ইবনে নাজর ইবনে কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ।

তিনি ছিলেন শায়খ, ইমাম, আলিম, অনুসরণযোগ্য আদর্শ, জুহদে পরিপূর্ণ সাধক, আরিফ, মুহাদ্দিস এবং শায়খুল ইসলাম— সুফিগণের মধ্যে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

মদিনার প্রখ্যাত ফকিহদের উত্তরাধিকারী হয়ে তিনি জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। তাঁর বংশধারা পৌঁছে যায় আব্দুর রহমান বিন কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর সিদ্দিক (রা.) পর্যন্ত। তিনি কুরাইশ বংশীয়, তাইমি, বাকরি, সোহরাওয়ার্দী এবং সুফি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদে বসবাস করেন।

৫৩৯ হিজরির রজব মাসে তাঁর জন্ম হয়। সেই জন্ম যেন ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা— যেখানে জ্ঞান, সাধনা ও আধ্যাত্মিকতার দীপ্তি মিলেমিশে গড়ে তোলে এক মহিমান্বিত জীবনকথা।[1]

ইলম অর্জন:

হজরত শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী (রহ.) কিশোর বয়সেই সোহরাওয়ার্দ থেকে বাগদাদে আগমন করেন। সেখানে তিনি তাঁর চাচা শায়খ আবু নাজিব সোহরাওয়ার্দী (রহ.)-এর সান্নিধ্য গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন তাঁর খেদমতে অবস্থান করেন। তাঁর কাছ থেকেই তিনি ফিকহ, ওয়াজ ও তাসাউফের প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা অর্জন করেন।

এ-ছাড়া তিনি অল্প সময়ের জন্য শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর সোহবত লাভ করেন। পরবর্তীতে বসরায় গমন করে শায়খ আবু মুহাম্মদ বিন আব্দ (রহ.)-এর সান্নিধ্যে অবস্থান করেন এবং সেখানেও ইলম ও আধ্যাত্মিকতার পাঠ গ্রহণ করেন।

হাদিস শাস্ত্রে তিনি বহু খ্যাতনামা মুহাদ্দিসের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ আশ-শিবলী (রহ.), যিনি তাঁর সর্বোচ্চ স্তরের ওস্তাদ ছিলেন; আবুল ফাতহ বিন আল-বাত্তি, খুজাইফা বিন আল-হাতেরা, আবুল ফুতুহ আত-তাঈ, আবু জুর‘আ আল-মাকদিসি, মামার বিন আল-ফাখির, আহমদ বিন আল-মুকাররাব এবং ইয়াহইয়া বিন সাবিত (রহ.) প্রমুখ। তাঁদের থেকে প্রাপ্ত হাদিসসমূহ নিয়ে একটি সংকলন (জুয) প্রস্তুত করা হয়, যা পরবর্তীতে শ্রবণ ও বর্ণনার ধারায় প্রচলিত হয়।[2]

উল্লেখযোগ্য ছাত্রগণ:

হজরত শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী (রহ.)-এর ইলমি প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। বহু খ্যাতনামা মুহাদ্দিস ও আলেম তাঁর নিকট থেকে সরাসরি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—ইবনে নুকতাহ, ইবনে আদ-দুবাইসি, ইবনে নাজ্জার, যিয়াউদ্দীন মাকদিসি, আল-কওসি, ইবনে নাবুলুসি, জহিরুদ্দীন মাহমুদ আজ-জিনজানি, আবুল গানায়েম বিন আল্লান, আবুল ফারাজ ইবনে আল-জাইন, আবু ইসহাক ইবনুল ওয়াসিতি, আবুল মা‘আলি আল-আবারকুহি, রশিদ বিন আবিল কাসিম প্রমুখ।

এছাড়া ইজাজতের (অনুমতির) মাধ্যমে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন ফখর বিন আসাকির, শামস ইবনুশ শিরাজি, আল-কাজি আল-হাম্বলি সহ আরও একদল বিশিষ্ট আলেম।[3]

তাঁর রচনাবলি:

হজরত শায়খ শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দীর জীবনীকারদের প্রত্যেকেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। অনেকে সেগুলোকে অত্যন্ত ‘উপকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে যে গ্রন্থগুলো সারা বিশ্বে পরিচিত সেগুলো হলো—

১. আ’লামুল হুদা ওয়া আকিদাতু আরবাবিত তুকা: এটি আকিদা বা বিশ্বাস সংক্রান্ত একটি মৌলিক গ্রন্থ। এর পাণ্ডুলিপি মিশরের ‘দারুল কুতুব’সহ অন্যান্য স্থানে সংরক্ষিত আছে। এটি ১৯৬৪ সালে বৈরুতের ‘মাজাল্লাতুল মাশরিক’ এর ৫৮ তম বর্ষে প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি এটি মক্কায় অবস্থানকালে রচনা করেন এবং দশটি অধ্যায়ে সাজান। পরবর্তীকালে অনেক আলেম তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

২. আওয়ারিফুল মাআরিফ: এটি বিভিন্ন সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে। এর একটি সংস্করণ ইমাম গাজালীর ‘ইহিয়াউ উলুমিদ্দিন’ এর পার্শ্বটীকায় ছাপা হয়েছে। আবার ১৩৯৩ হিজরিতে মাহমুদ গানিম গায়েস কর্তৃক সংশোধিত একটি স্বতন্ত্র সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে। শায়খ সোহরাওয়ার্দীর বইগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিখ্যাত। এই বইটির মাধ্যমেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদাভাবে পরিচিতি পান, এমনকি তাঁকে ‘আওয়ারিফুল মাআরিফের লেখক সোহরাওয়ার্দী’ও বলা হয়।

বইটি মোট ৬৩টি অধ্যায়ে বিভক্ত। লেখক তাঁর উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে এই বইয়ের ৮ পৃষ্ঠায় বলেন— “এই (সুফি) সম্প্রদায়ের আদর্শের প্রতি আমার অনুরাগ, তাঁদের উচ্চমর্যাদা সম্পর্কে আমার জ্ঞান এবং কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে তাঁদের পথের সঠিকতা অনুধাবন করেই আমি তাঁদের প্রতি ভালোবাসা-স্বরূপ এই বইটি লিখেছি। এই ভালোবাসা ও অনুরাগের কারণেই আমি তাঁদের পক্ষ অবলম্বন করে হাকিকত ও আদব (শিষ্টাচার) সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।”

এই গ্রন্থে তিনি তাঁর চাচা এবং শিক্ষক আবু নাজিব সোহরাওয়ার্দীর সূত্রে প্রচুর হাদিস ও বর্ণনার সনদ উল্লেখ করেছেন।

৩. কাশফুল ফাদ্বায়িহ আল-ইউনানিয়া ওয়া রাশফুন নাসায়িহ আল-ঈমানিয়া: এই বইটির বেশকিছু পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান। এটি ১৪২০ হিজরিতে ড. আয়েশা আল-মান্নায়ির সম্পাদনায় ২৫৫ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে। লেখক এই বইটি তাঁদের খণ্ডন করার জন্য লিখেছিলেন, যারা গ্রিক দর্শনের অন্ধ অনুরাগী হয়ে পড়েছিল এবং শরিয়ত থেকে বিমুখ হয়ে কুরআন ও হাদিস থেকে উদ্ভূত জ্ঞানকে অবজ্ঞা করতে শুরু করেছিল। বইটির মূল বিষয় হলো গ্রিক দর্শনের মোকাবেলা করা এবং এর অসারতা উন্মোচন করা।

হজরত শায়খ শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী তাঁর মৃত্যুর ১১ বছর আগে (৬২১ হিজরি) এটি রচনা করেন এবং তাঁর একজন ছাত্রকে দিয়ে এটি লিপিবদ্ধ করান। এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায় ও সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিষয় রয়েছে।

আধ্যাত্মিক পদচারণা:

ইবনুদ্ দুবাইসী বলেন, একসময় হজরত শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বাগদাদে আগমন করেন। তাসাউফের পথে তাঁর ছিল সুদৃঢ় পদচারণা এবং স্পষ্টভাষী জিহ্বা। তিনি সুফিদের একাধিক রিবাত (খানকাহ)-এর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে দূত হিসেবেও প্রেরিত হয়েছেন।

ইবনুন নাজ্জার বলেন, শিহাবুদ্দীন ছিলেন তাঁর যুগের ‘ইলমুল হাকিকত এর সর্বশ্রেষ্ঠ শায়খ। মুরিদদের তরবিয়ত (আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ), মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান এবং তাসলিক (আধ্যাত্মিক দীক্ষা প্রদান) এর নেতৃত্ব তাঁর কাছেই এসে শেষ হয়েছিল।

তিনি তাঁর চাচার সান্নিধ্যে ছিলেন এবং কঠোর রিয়াজত ও মুজাহাদার পথ অবলম্বন করেন। তিনি ফিকহ, খিলাফ (তুলনামূলক ফিকহ) ও আরবি ভাষা অধ্যয়ন করেন; হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর দীর্ঘদিন নির্জন সাধনা, জিকির ও রোজায় মগ্ন থাকেন।

বার্ধক্যে পৌঁছে তাঁর মনে উদয় হলো— মানুষের সামনে প্রকাশিত হয়ে কথা বলা দরকার। তখন তিনি তাঁর চাচার মাদরাসায় ওয়াজের মজলিস স্থাপন করেন। তিনি কোনো প্রকার কৃত্রিম অলংকার ছাড়া উপকারী কথা বলতেন। তাঁর মজলিসে বিপুল জনসমাগম হতো। বিশেষ ও সাধারণ সকলের নিকটেই তিনি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন। তাঁর নাম সুপরিচিত হয়ে ওঠে এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর কাছে ছুটে আসতে থাকে।

তাঁর পবিত্র সান্নিধ্যের বরকতে বহু গোনাহগার তাওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসেন। তাঁর মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছায়। তাঁর সঙ্গীরা নক্ষত্রসম উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন। তাঁকে একাধিকবার শাম অঞ্চলে এবং খোয়ারিজম শাহ সুলতানের নিকট দূত হিসেবে প্রেরণ করা হয়। তিনি এমন সম্মান ও মর্যাদা লাভ করেন, যা তাঁর পূর্বে কেউ লাভ করেনি।

অতঃপর তাঁকে রিবাত নাসিরি, রিবাত মামুনিয়া ও রিবাত বিস্তামির দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। তবুও তিনি নিয়মিত আওরাদ, জিকির, পালকিতে করে জুমার নামাজে উপস্থিত হওয়া এবং হজ আদায়— কোনোটাতেই শৈথিল্য দেখাননি। অবশেষে শতবর্ষে পদার্পণ করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন এবং লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান।

তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ উচ্চ নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী, মহান মানসিকতার অধিকারী। তাঁর কাছে সম্পদের কোনো মূল্য ছিল না। তাঁর নিকট বিপুল পরিমাণ অর্থ আসতো, কিন্তু তিনি কিছুই সঞ্চয় করতেন না। এমনকি তিনি ইন্তেকাল করেন এমন অবস্থায় যে, কাফনের কাপড়টুকুও রেখে যাননি।

তিনি ছিলেন বাহ্যিক সৌন্দর্য ও আচার-আচরণে মনোমুগ্ধকর, অত্যন্ত বিনয়ী এবং সব সুন্দর গুণে পরিপূর্ণ। আমি তাঁর নিকট বহু কিছু পাঠ করেছি এবং দীর্ঘদিন তাঁর সান্নিধ্যে থেকেছি। তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও সম্ভ্রান্ত।

তিনি তাসাউফ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যাতে তিনি সুফিগণের অবস্থা ও আধ্যাত্মিক স্তরসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বহুবার তা পাঠ ও বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থটি হলো ‘আওয়ারিফুল মা‘আরিফ’।[4]

তাঁর আধ্যাত্মিক অবস্থা:

একদিন তিনি মজলিসে এই কবিতাটি পাঠ করলেন—

لَا تَسْقِنِي وَحْدِي! فَمَا عَوَّدْتَنِي

أَنِّي أَشُحُّ بِهَا عَلَى جُلَّاسِي

أَنْتَ الْكَرِيمُ! وَلَا يَلِيقُ تَكَرُّمًا

أَنْ يَعْتَرِيَ النُّدَمَاءَ دَوْرُ الْكَأْسِ

শুধু আমাকে একা পান করাইয়ো না— এ অভ্যাস আমার নয় কখনো,

যা পাই তা সঙ্গীদের সাথে ভাগ করি, একলা পেয়ে কুক্ষিগত করি না।

তুমি যে উদার, দানশীল, মহান— তোমার মহত্ত্বের কি এটাই রীতি?

বন্ধুরা বসে আছে পাশাপাশি, আর পেয়ালা ঘুরবে না তাদের হাতে?[5]

একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ উত্তর:

“আধ্যাত্মিক অবস্থার বিষয়ে প্রায়ই তাঁর কাছে ফতোয়া বা সমাধান চাওয়া হতো। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে লিখে পাঠালেন, ‘হে আমার সাইয়্যিদ, আমি যদি নেক আমল ছেড়ে দিই তবে অলসতায় লিপ্ত হই, আর যদি আমল করি তবে আমার মাঝে আত্মতৃপ্তি বা অহংকার চলে আসে। এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি উত্তম?’

তিনি উত্তরে লিখে পাঠালেন, “তুমি আমল করতে থাকো এবং সেই আমলের কারণে সৃষ্ট অহংকারের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।”[6]

তাঁর ওফাত:

তিনি বাগদাদে ইন্তেকাল করেন—৬৩২ হিজরি সনের শুরুতেই, বছরের প্রথম রজনীতে। তাঁর বংশধারায় বহু ফজিলতপূর্ণ ও মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।[7]

বাগদাদের ‘জামে আল-কাসর’-এ তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং এরপর তাঁকে ‘ওয়ার্দিয়া’ গোরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই একটি মাজার প্রাঙ্গণে তাঁকে দাফন করা হয়।[8]