হজরত হাসান বসরি (রহ.)

হজরত হাসান বসরি (রহ.) ছিলেন একজন মহান তাবেয়ি। তিনি ১৩০ জন সাহাবির সান্নিধ্যে ইলম অর্জন করেন। তাফসির, হাদিস ও তাসাউফে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। গভীর আল্লাহভীতি, দুনিয়াবিমুখতা ও আত্মশুদ্ধি ছিল তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য। শাসকদের সামনেও তিনি সত্য বলতে দ্বিধা করতেন না। তিনি মানুষকে আখিরাতমুখী হওয়ার ও নিজের হিসাব নিজে নেওয়ার শিক্ষা দিতেন। ১১০ হিজরিতে তাঁর ইন্তেকাল হয়।

হজরত ওয়াইস আল-কারনি (রা.)

ওয়াইস ইবনে আমির আল-কারনি ছিলেন ‘খায়রুত তাবেয়িন’ উপাধিপ্রাপ্ত একজন মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। মায়ের সেবায় রত থাকার কারণে নবীজির সাক্ষাৎ পাননি, তবু নবীজি তাঁকে শ্রেষ্ঠ তাবেয়ি বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ, দানশীল ও ইবাদতগুজার। হজরত ওমর ও আলী (রা.) তাঁর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। সিফফিনের যুদ্ধে শহীদ হন বলে মত আছে। তাঁর জীবন ইমান ও আত্মত্যাগের অনন্য আদর্শ।

হজরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.)

হজরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) ছিলেন তাবেয়িদের শ্রেষ্ঠ ইমাম ও মদিনার সাত ফকিহর অন্যতম। সাহাবিদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করে তিনি হাদিস, ফিকহ ও স্বপ্ন ব্যাখ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। চল্লিশ বছর জামাতে নামাজ আদায়, পঞ্চাশ বছর প্রথম কাতারে দাঁড়ানো এবং চল্লিশ বার হজ তাঁর ইবাদতের নিদর্শন। জালিম শাসকদের প্রতি অনমনীয়, খলিফার দাওয়াত ও রাজকীয় ভাতা প্রত্যাখ্যান করে দরিদ্র দ্বীনদার ছাত্রের সাথে কন্যার বিয়ে দেওয়ার মতো নজির স্থাপন করেন। ৯৪ হিজরিতে তাঁর ওফাত হয়।