ফুজাইল ইবনে ইয়াজ (রহ.) এক সময় দস্যু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি আবীবর্দ ও সারখাস-এর মধ্যবর্তী পথে ডাকাতি করতেন। তাঁর জীবনে পরিবর্তনের সূচনা ঘটে এক দাসীকে কেন্দ্র করে। ঐ দাসীর প্রতি আকর্ষণের কারণে তিনি তাওবা করতে প্ররোচিত হন। একবার তিনি প্রিয় দাসীর কাছে পৌঁছানোর জন্য দেয়াল টপকানোর চেষ্টা করছিলেন।
সেই সময় তিনি শুনলেন কেউ কুরআন তিলাওয়াত করছেন। তিলাওয়াতরত আয়াতটি ছিল— أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ “হে ঈমানদারগণ, এখনও কি সেই সময় আসেনি যে, তোমাদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে নম্র হবে?” (সুরা হাদিদ, আয়াত:১৬)। ফুজাইল (রহ.) এই আয়াত শুনে মনে মনে বললেন, ‘হ্যাঁ, হে আমার রব, সময় সত্যিই এসেছে।’ কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রা করতে করতে এক ধ্বংসস্তূপের কাছে পৌঁছলেন, যেখানে কিছু মুসাফির অবস্থান করছিল। কেউ বললেন, “আমরা রওনা হই।” অন্যরা বলল, “ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করি, কারণ ফুজাইল পথে ডাকাতি করতে পারে।”
ফুজাইল (রহ.) চিন্তা করলেন, “আমি রাতজুড়ে পাপের কাজে লিপ্ত থাকি, আর কিছু মুসলিম আমার ভয় থেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। আল্লাহ আমাকে এখানে পৌঁছে দিয়েছেন যেন আমি সংযত হই।” অতঃপর তিনি আল্লাহর নিকট তাওবা করলেন এবং সত্যিকারের তাওবা সম্পন্ন করলেন। তাঁর জীবন এই মুহূর্ত থেকে নতুন দিশায় পরিবর্তিত হলো।
ইমাম শামসুদ্দিন যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা: ৮/৪২৩, মুয়াসসাতুল রিসালা, বৈরুত, লেবানন, ১৯৮২