১. আবু বকর আল-মারওয়াজী বলেন, আমি বিশর (রহ.)-কে বলতে শুনেছি,“ক্ষুধা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, প্রবৃত্তিকে মেরে ফেলে এবং সূক্ষ্ম জ্ঞান দান করে।”

২. যে ব্যক্তি ক্ষুধার মধ্যে ধৈর্য ধারণ করে, সে যেন আল্লাহর পথে নিজ রক্তে লুটিয়ে পড়া মুজাহিদ।

৩. একজন চোর উদার হলে, সে আল্লাহর কাছে একজন কৃপণ সুফির চেয়েও প্রিয়।

৪. গতকাল (অতীত) তো মরে গেছে, আজ (বর্তমান) মৃত্যুযন্ত্রণার মধ্যে আছে, আর আগামীকাল (ভবিষ্যৎ) এখনো জন্ম নেয়নি।

৫. যে ব্যক্তি নারীদের উরু ও নরম জীবনের সান্নিধ্যে অভ্যস্ত, সে কখনোই সফল হতে পারে না।

৬. যখন কোনো কথা তোমার পছন্দ হয়, তখন চুপ থেকো। আর যখন চুপ থাকা তোমার কাছে ভালো লাগে, তখন কথা বলো।

৭. এক ব্যক্তি তাঁকে (বিশর রহ.) বলতে শুনল, “হে আল্লাহ, আপনি তো জানেন, অবমাননা আমার কাছে সম্মানের চেয়ে প্রিয়, দারিদ্র্য আমার কাছে সম্পদের চেয়ে প্রিয়, এবং মৃত্যু আমার কাছে জীবনের চেয়ে প্রিয়।”

৮. কখনও একজন মানুষ মৃত্যুর পরও রিয়াকারে পরিণত হয়। সে চায়, তার জানাযায় অনেক লোক উপস্থিত হোক।

৯. তুমি কখনোই ইবাদতের মিষ্টতা অনুভব করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি নিজের ও কামনা-বাসনার মাঝে এক প্রাচীর দাঁড় করাও।

১০. মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না বর্ণনা করেন, বিশর (রহ.) বলেছেন, “যে কেউ এই দুনিয়াকে ভালোবাসে, সে মৃত্যুকে ভালোবাসে না; আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি ত্যাগী, সে তার প্রভুর সাক্ষাৎকে ভালোবাসে।”

১১. যে ব্যক্তি খ্যাতি (মানুষের প্রশংসা) ভালোবাসে, সে আল্লাহকে ভয় করে না।

১২. কোনো কাজ এমনভাবে করো, যাতে তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়; নিজের সাফল্য বা প্রশংসা দেখানোর জন্য নয়। ভালো কাজ লুকিয়ে রাখো যেমন তুমি মন্দ কাজ লুকিয়ে রাখো।১

১৩. হাসান ইবনু আমর আস-সাবিই বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিস-কে বলতে শুনেছি,“এক সময় এমন আসবে, যখন জ্ঞানী মানুষের চোখে প্রশান্তি থাকবে না। আর এমন সময়ও আসবে, যখন বোকাদের উপরেই বুদ্ধিমানদের রাষ্ট্র ও ক্ষমতা ন্যস্ত হবে।”আর এই বর্ণনাসূত্র দিয়েই বলা হয়েছে যে, আমি বিশরকে বলতে শুনেছি,“মূর্খের দিকে তাকানো চোখের জন্য উষ্ণতা ও কষ্টের কারণ, আর কৃপণের দিকে তাকানো হৃদয়কে কঠোর করে দেয়।”একই ইসনাদে দিয়ে বর্ণিত, আমি বিশর-কে বলতে শুনেছি,“সুন্দর ধৈর্য হলো সেই ধৈর্য, যাতে মানুষের কাছে নিজের কষ্টের অভিযোগ করা হয় না।”তিনি আরও বলেন, আমি বিশর-কে বলতে শুনেছি,“তুমি তখনই পূর্ণাঙ্গ (মানুষ) হবে, যখন তোমার শত্রুও তোমার কাছ থেকে নিরাপদ থাকবে। তুমি কীভাবে ভালো হতে পারো, যখন তোমার বন্ধু পর্যন্ত তোমার থেকে নিরাপদ নয়?” তিনি আরও বলেন, আমি বিশর-কে বলতে শুনেছি,“দোয়া হলো গুনাহ ত্যাগ করা।”

১৪. ধরা যাক, তুমি ভয় পাও না; তবুও কি তুমি (আল্লাহর) সাক্ষাৎ কামনা করো না?”

১৫. কারি (কুরআন পাঠকারীদের) ধ্বংস হয়েছে এই দুই গুণের কারণে— গীবত (অপরের নিন্দা) ও আত্মগরিমা (নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবা)।

১৬. যে ব্যক্তি অপমান ও কষ্ট সহ্য করতে পারে না, সে কখনও নিজের কাঙ্ক্ষিত প্রিয় বিষয় লাভ করতে সক্ষম হয় না।

১৭. কতই না কুৎসিত ব্যাপার যে, একজন আলিমকে খুঁজতে গেলে বলা হয় ‘তিনি তো এখন আমিরের দরজায় আছেন।

১৮. আমি কোনো কিছু এমন লজ্জাজনক দেখি না, যা একজন বান্দাকে তার নিজের পেট (অতিরিক্ত ভোজন) দ্বারা লাঞ্ছিত করে।

১৯. তুমি এমন ব্যক্তির সঙ্গে বসো না, যে তোমাকে তোমার আখিরাতের কাজে সহায়তা করে না।

২০. মানুষের পরিচিতি লাভের আকাঙ্ক্ষা দুনিয়ার ভালোবাসার মূল শিকড়।

২১. ইব্রাহিম আল-হারবী বলেন, আমি বিশর ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি,“তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট প্রমাণ যে, এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা মৃত, কিন্তু তাঁদের স্মরণে হৃদয় জীবিত হয়ে যায়। আবার এমনও আছেন, যাঁরা জীবিত, কিন্তু তাঁদের দর্শনে হৃদয় কঠিন হয়ে যায়।”২