১. দুষ্কৃত লোকদের সাহচর্য গ্রহণ করো না, আর আল্লাহর স্মরণ থেকে তোমাকে যেন ভালো লোকদের সঙ্গও ব্যস্ত না করে ফেলে। ২৮
২. সেই ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত, যার দিনগুলো ‘পরে করব’ করতে করতে শেষ হয়ে যায়, এবং সেই ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত, যার অবস্থান (মর্যাদা) পাওয়ার জন্য সৎকর্মশীলরা আকাঙ্ক্ষা করে। (অর্থাৎ, মর্যাদার কারণে নিজেকে সংশোধন না করে গর্বিত হয়)। ২৯
৩. আকল হলো সেই জিনিস, যার দ্বারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধের দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ আকল হচ্ছে যা মানুষকে বুঝায় কোনটি আদেশ, কোনটি নিষেধ, কোনটি সঠিক ও কোনটি ভুল।
৪. যে নেয়ামতের কদর করে না, সে বুঝতেও পারে না— কখন সেই নেয়ামত তার হাত থেকে তুলে নেওয়া হলো।
৫. তিনি আরো বলেন,“যে ব্যক্তি বিপদ-আপদকে হালকা ভাবে এবং ধৈর্য ধরে; সে সেই বিপদের পূর্ণ সওয়াব লাভ করে।
৬. আদব হলো বুদ্ধির অনুবাদক। অর্থাৎ, সত্যিকার আদবই বুদ্ধি বা মনের সঠিক ব্যবহারকে প্রকাশ করে।
৭. অনেকেই গুণের বর্ণনা করে, কিন্তু খুব কম মানুষই তাদের কর্ম সেই গুণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে।
৮. সর্বোত্তম শক্তি হলো নিজের উপর জয় লাভ করা। যে ব্যক্তি নিজের মনকে শৃঙ্খলিত করতে ব্যর্থ, সে অন্যের প্রতি আদব শিখাতে আরও অক্ষম। আর যে ব্যক্তি নিজের ওপরের কর্তার আদেশ মানে, নিম্নস্তরেও সে আজ্ঞাবহ হয়। অর্থাৎ, তার আদেশও অন্যরা যথাযথভাবে পালন কর।
৯. তোমার জিহ্বা হলো হৃদয়ের অনুবাদক এবং তোমার মুখ হলো হৃদয়ের আয়না। যা হৃদয়ে লুকানো আছে, তা মুখে প্রকাশ পায়।
১০. যদি তুমি নিজের মাল–সম্পদের ক্ষয় নিয়ে দুঃখিত হও, তবে নিজের সময়ের ক্ষয় নিয়ে আরও বেশি কাঁদো।
১১. সত্যের অভাব থেকে জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা বেশি সৃষ্টি হয়।
১২. সুন্দর চরিত্র হলো— মানুষের ক্ষতি না করা এবং তাদের ক্ষতি নিন্দা বা প্রতিদান ছাড়াই ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করা।
১৩. ধীরেধীরে বিপথগমন বা সাবধানতা হারানোর লক্ষণ হলো নিজের আত্মার দোষ-ত্রুটি অজানা থাকা।
১৪. সবচেয়ে সাহসী বা দৃঢ় মানুষ হলো যে তার ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।”
১৫. যে ব্যক্তি অন্যকে দেখানোর জন্য যা নেই তা দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করে, সে আল্লাহর নজর থেকে বঞ্চিত হয়।
১৬. কোনো মানুষ ততক্ষণ পরিপূর্ণ হবে না যতক্ষণ সে তার ইমানকে তার কামনা থেকে উচ্চতর স্থানে রাখবে না, এবং কেউ ধ্বংস হবে না যতক্ষণ সে তার কামনার প্রতি অত্যধিক প্রভাবিত হয়ে তার দ্বীনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।৩০
১৭. হে যুবক দল, আমি তোমাদের জন্য একটি শিক্ষা। আমল করো, কারণ আমল তো কেবল যৌবনেই সম্ভব। মানুষের যখন অর্ধেক মারাও যায়, বাকি অর্ধেক তখনও সতর্ক হয় না। আর আমি নিজেকে তাদের বাইরের কেউ মনে করি না। মুমিনদের হৃদয় পূর্ববর্তী ফয়সালার (আস-সাওয়াবিক্ব) সাথে যুক্ত, আর নেককারদের হৃদয় পরিণতির (আল-খাওয়াতীম) সাথে যুক্ত। শেষের দলটি বলে, আমাদের পরিণতি কী দিয়ে হবে? আর প্রথম দলটি বলে, আল্লাহ আমাদের জন্য কী ফয়সালা করেছেন?
১৮. যে ব্যক্তি নিজের নফসের (প্রবৃত্তির) হিসাব নেয়, আল্লাহ তার হিসাব নেওয়া থেকে লজ্জাবোধ করেন।
১৯. যে ব্যক্তি জানে সে কী তালাশ করছে (অর্থাৎ, তার লক্ষ্য), তার কাছে তা পাওয়ার পথে যা কিছু বিলীন হয়, তা তুচ্ছ মনে হয়।
২০. আল্লাহ দুনিয়াকে তাঁর অলিদের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন, তাঁর মনোনীত বান্দাদের থেকে তা রক্ষা করেছেন এবং তা তাঁর সৎকর্মশীলদের হৃদয় থেকে বের করে দিয়েছেন, কারণ তিনি এটি তাদের জন্য পছন্দ করেননি।৩১