১. দুনিয়া ও আখেরাত: গাজ্জালি (রহ.) এভাবে লিখেছেন, দুনিয়া হলো আখেরাতের শস্যক্ষেত্র। এটি হেদায়েতের পথে একটি ধাপমাত্র। একে ‘দুনিয়া’ বলা হয়েছে, কারণ এটি আখেরাতের তুলনায় অতি নিকটবর্তী ও নিকৃষ্ট।
২. ইবাদতে আত্মপ্রশংসা: কখনো মানুষ ইবাদতের মাঝে নিজের অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করে এবং মনে করে, তার কারণে অন্যরাও উপকৃত হচ্ছে। অথচ সে জানে না, এই আত্মগর্বই যদি আল্লাহর নিকট অপছন্দ হয়, তবে সে ধ্বংসের যোগ্য হয়ে পড়ে।
৩. ইলমের আলো ও অন্তরের অন্ধকার: ইলমের আলো কোনো অভাবের কারণে অন্তর থেকে উঠে যায় না; বরং অন্তরের গুনাহ, অশুদ্ধতা ও দুনিয়ার আসক্তির কারণে তা ঢেকে যায়। অন্তর হলো পাত্রের মতো, যদি তা অন্য কিছুতে পূর্ণ থাকে, তবে সেখানে আল্লাহর নুর প্রবেশ করতে পারে না।
৪. সর্বোত্তম জ্ঞান: আল্লাহ তায়ালা, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞানই হলো সর্বোত্তম জ্ঞান। এই জ্ঞানের মধ্যেই মানুষের প্রকৃত পূর্ণতা ও চূড়ান্ত সৌভাগ্য নিহিত।
৫. যিকর ও আধ্যাত্মিক উন্মোচন: জিকির অন্তর ও দৃষ্টিকে আলোকিত করে। এটি মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্য। তাকওয়া হলো জিকিরের পথ, জিকির হলো কাশফের পথ, আর কাশফ হলো মহা সাফল্যের দরজা।
৬. আকল ও শরিয়তের সম্পর্ক: যারা মনে করে আকল (যুক্তি) ও শরিয়ত পরস্পর বিরোধী, তারা ভুলের মধ্যে আছে। প্রকৃতপক্ষে উভয়ই সত্যের ভিন্ন প্রকাশমাত্র। একটিকে বাদ দিলে অপরটি পূর্ণতা পায় না।
৭. প্রকৃত তাকওয়া: পরহেজগারী চেহারার কঠোরতা বা বাহ্যিক ভঙ্গিমায় নয়; বরং অন্তরের পবিত্রতায়। যে ব্যক্তি ইলম নিয়ে অহংকার করে, সে প্রকৃত মুত্তাকি নয়।
৮. ইলমে লাদুন্নি: ইলমে লাদুন্নি এমন এক জ্ঞান, যা কোনো বাহ্যিক মাধ্যম ছাড়াই আল্লাহ তায়ালা সরাসরি বান্দার অন্তরে দান করেন।
৯. আলেমদের হিংসা: যখন আলেমদের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায়, তখন বুঝতে হবে তারা আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়াকে বেছে নিয়েছে।
১০. আমলের অনুসরণ: যে ব্যক্তি কোনো ইমামের অনুসারী বলে দাবি করে, কিন্তু তার আমল ও আদর্শ অনুসরণ করে না, কিয়ামতের দিন সেই ইমাম তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
১১. আত্মগর্বের অজ্ঞতা: সবচেয়ে বড় অজ্ঞ ব্যক্তি সে, যে নিজের বুদ্ধি ও জ্ঞান নিয়ে অহংকার করে। আর সবচেয়ে জ্ঞানী সে, যে সর্বদা নিজের নফসকে সন্দেহের চোখে দেখে।
১২. কুধারণার লক্ষণ: যে ব্যক্তি মানুষের দোষ অনুসন্ধান করে এবং সবার প্রতি কুধারণা পোষণ করে, তার অন্তরই মূলত কলুষিত। কারণ, মুমিনের হৃদয় সবসময় সবার প্রতি সৎ ও পরিষ্কার ধারণায় পূর্ণ থাকে।
১৩. নফস নিয়ন্ত্রণ: সুখের ভিত্তি হলো নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা। আর চূড়ান্ত বিপর্যয় হলো নফসের দাসে পরিণত হওয়া।
১৪. শয়তানের ধোঁকা: যে ব্যক্তি শয়তানের কৌশল ও নফসের প্রতারণা সম্পর্কে অজ্ঞ, তার অধিকাংশ ইবাদতই ব্যর্থতায় পরিণত হয়। সে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই হারায়।