হজরত খাজা গরিব নাওয়াজ (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি হাকিকতের উচ্চতর মাকামে পৌঁছাতে চায়, তার জন্যও দশটি বিষয় অপরিহার্য। এগুলো ছাড়া এই পথে পূর্ণতা আসে না।
১. মারিফাতের পূর্ণতা শুধু আল্লাহকে জানাই যথেষ্ট নয়, তাঁর সঙ্গে গভীর সখ্যতা ও নৈকট্য অর্জন করতে হবে। এই চেনাজানা যত গভীর হবে, মারিফাতের আলো তত উজ্জ্বল হবে।
২. আন্তরিকতা ও শান্তি নিজেকে কষ্ট না দেওয়া, অন্যকে কষ্ট না দেওয়া এবং কারও প্রতি বুকের ভেতরে কষ্টদায়ক কোনো মনোভাব না রাখা। মন যখন সবার প্রতি পরিষ্কার ও নির্মল, তখনই হাকিকতের দরজা খোলে।
৩. সৎ উপদেশ মানুষকে আল্লাহর পথ দেখানো এবং এমন কথা বলা যা দুনিয়া ও আখিরাত — উভয় জীবনেই কাজে লাগে। শুধু নিজে পথে থাকলেই চলবে না, অন্যকেও পথ দেখানোর দায়িত্ব নিতে হবে।
৪. নম্রতা অহংকার হলো আধ্যাত্মিক উন্নতির সবচেয়ে বড়ো শত্রু। যত উঁচু মাকামেই পৌঁছাক না কেন, মনে সর্বদা নম্রতা ও বিনয় ধরে রাখতে হবে।
৫. নির্জনতা লোকের ভিড়ে থাকলেও অন্তর যেন সর্বদা আল্লাহর দিকেই মুখ করে থাকে। বাইরে মানুষের সাথে, ভেতরে একা — শুধু আল্লাহর সাথে।
৬. সম্মান ও ভক্তি প্রত্যেক মানুষকে সম্মানের চোখে দেখতে হবে এবং নিজেকে সবার চেয়ে ছোটো মনে করতে হবে। যে নিজেকে বড়ো ভাবে, সে আসলে ছোটো হয়ে যায়।
৭. স্বীকারোক্তি ও সন্তুষ্টি আল্লাহর প্রতিটি নেয়ামতে কৃতজ্ঞ থাকতে হবে এবং তাঁর প্রতিটি ফয়সালায় মন থেকে রাজি থাকতে হবে। অভিযোগ নয়, কৃতজ্ঞতাই এই পথের ভাষা।
৮. ধৈর্য ও সহনশীলতা কষ্ট আসবে, পরীক্ষা আসবে — কিন্তু থামা যাবে না। সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়াই হাকিকতের পথের দাবি।
৯. বিনয়াবনত প্রার্থনা অন্তরকে আল্লাহর ভয়ে সর্বদা নরম রাখতে হবে। কান্না ও আর্তনাদসহ তাঁর দরবারে হাত তুলতে হবে। যে হৃদয় গলে না, সে হৃদয়ে আলো পৌঁছায় না।
১০. তৃপ্তি ও সংযম যা আছে তাতেই তুষ্ট থাকা এবং প্রবৃত্তির লাগাম টেনে ধরার নামই সংযম। লোভ ও অতৃপ্তি মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, আর তৃপ্তি তাঁর কাছে নিয়ে যায়।