হজরত খাজা গরিব নাওয়াজ (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি তরিকতের পথে পা বাড়াতে চায়, তাকে দশটি বিষয় অবশ্যই আঁকড়ে ধরতে হবে। এগুলো ছাড়া এই পথে চলা সম্ভব নয়।

১. হকের অনুসন্ধান সবকিছুর আগে চাই আল্লাহকে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। যার বুকে এই তৃষ্ণা নেই, সে এই পথে এক পাও এগোতে পারবে না।

২. সত্যিকারের মুর্শিদের সন্ধান অন্ধকার পথে আলো দেখাতে পারেন একমাত্র সত্যিকারের পথপ্রদর্শক। তাই যোগ্য মুর্শিদ খোঁজা এই পথের দ্বিতীয় শর্ত।

৩. আদব আদব হলো তরিকতের প্রাণ। পীর, বুজুর্গ ও সকলের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিনয় না থাকলে এই পথের দরজাই খোলে না।

৪. রেজা আল্লাহ যা দেন, যেভাবে রাখেন — সবকিছুতেই মনের গভীর থেকে সন্তুষ্ট থাকার নাম রেজা। সুখে হোক বা কষ্টে, তাঁর ফয়সালায় কোনো অভিযোগ নেই।

৫. মহব্বত ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় বর্জন আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা যত গভীর হবে, দুনিয়ার মোহ তত কমে আসবে। যা হৃদয়কে তাঁর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তা নির্দ্বিধায় ছেড়ে দিতে হবে।

৬. তাকওয়া প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগিয়ে রাখতে হবে। হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং সন্দেহজনক বিষয় এড়িয়ে চলাই তাকওয়ার মূল কথা।

৭. শরিয়তের উপর দৃঢ়তা তরিকত কখনো শরিয়তের বাইরে যায় না। শরিয়তের পথ থেকে সামান্য বিচ্যুত হলেই তরিকতের পথ হারিয়ে যায়। তাই শরিয়ত মেনে চলা এখানে অলঙ্ঘনীয় শর্ত।

৮. কম খাওয়া ও কম ঘুমানো পেট ভরা থাকলে আত্মা ভারী হয়ে যায়, আর অতিরিক্ত ঘুম হৃদয়কে গাফেল করে দেয়। তাই খাওয়া ও ঘুমে সংযম রাখা আধ্যাত্মিক উন্নতির অন্যতম চাবিকাঠি।

৯. মানুষ থেকে নির্জনতা অবলম্বন অহেতুক আড্ডা আর মেলামেশা মনকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রয়োজনের বাইরে ভিড় থেকে সরে এসে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর স্মরণে ডুবে থাকাই এই পথের দাবি।

১০. নামাজ ও রোজায় নিয়মিত থাকা নামাজ হলো আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি মোলাকাত, আর রোজা হলো নফসকে বশে আনার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। এই দুটি ইবাদত ছাড়া তরিকতের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।