হজরত আবু আলি দাক্কাক (রহ.) ছিলেন তাসাউফ তথা আত্মশুদ্ধির পথের এক উজ্জ্বল দিশারী, যাঁর হৃদয়গ্রাহী বয়ান ও গভীর আধ্যাত্মিকতা অসংখ্য মানুষের অন্তরকে আল্লাহমুখী করেছিল। তাঁর জীবন ছিল ইবাদত, মুজাহাদা ও ইখলাসে পরিপূর্ণ। তিনি মানুষকে বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি অন্তরের পরিশুদ্ধির শিক্ষা দিতেন। তাঁর সান্নিধ্যে বহু আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছে। বিশেষত ইমাম আবুল কাসিম আল-কুশাইরী (রহ.) তাঁর শিষ্য ও জামাতা হওয়ায় তাঁর আধ্যাত্মিক ধারার প্রভাব আরও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়।

প্রাথমিক পরিচিতি:

পূর্ণ নাম আবুল হাসান আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আদ-দাক্কাক (রহ.), যিনি ‘উস্তাদ আবু আলি আদ-দাক্কাক’ নামে সুবিদিত। তিনি ছিলেন ইমাম আবুল কাসিম আল-কুশাইরী (রহ.)-এর শ্রদ্ধেয় শায়েখ ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক।[1]

কাশফুল মাহজুবে তাঁর পরিচিতি এভাবে তুলে ধরা হয়েছে— “তিনি ছিলেন যুগের অতুলনীয় ইমাম; তাঁর সমকক্ষ ব্যক্তি সে সময়ে খুব কমই দেখা যেত। আল্লাহর পথে চলার রহস্য উদঘাটনে তাঁর ভাষ ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট, বর্ণনা ছিল হৃদয়গ্রাহী ও প্রাঞ্জল। তিনি বহু মাশায়েখের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং তাঁদের থেকে আধ্যাত্মিক ফয়েজ অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন নাসরাবাযী (রহ.)-এর মুরিদ। পাশাপাশি তিনি মানুষকে উপদেশ দিতেন ও সত্যের পথে আহ্বান করতেন।[2]

জ্ঞানার্জন:

আবদুল গাফির আল-ফারিসি (রহ.) আবু আলী আদ-দাক্কাক (রহ.) সম্পর্কে বলেন, “তিনি ছিলেন তাঁর যুগের ভাষাস্বর এবং সময়ের শ্রেষ্ঠ ইমাম।” শৈশব থেকেই জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। নিজ শহরেই তিনি আরবি ভাষা ও ইলমুল উসুল তথা ইসলামি মূলনীতিবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করেন। জ্ঞানের তৃষ্ণা তাঁকে নিশাপুর থেকে নিয়ে যায় মারভ নগরীতে। সেখানে তিনি খ্যাতিমান আলেম খুদরী (রহ.)-এর নিকট ফিকহশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ফিকহে অসাধারণ দক্ষতা ও প্রাজ্ঞতার পরিচয় দেন।

তাঁর মেধা ও গভীর অনুধাবনশক্তি এতটাই প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠে যে, শায়েখ আবু বকর আল-কাফফাল আল-মারওয়াযী (রহ.)-এর পক্ষ থেকে তিনি খুদরীর দরসে পুনরায় পাঠদানও করতেন। এটি ছিল তাঁর জ্ঞানগভীরতা ও শিক্ষাগত মর্যাদার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।

বাহ্যিক জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের পর তিনি উপলব্ধি করলেন কেবল জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং সেই জ্ঞানকে জীবনের আমল, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহমুখীতার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত সাফল্য। তাই তিনি নিজেকে আমল ও তাজকিয়ায় আত্মনিয়োগ করেন এবং তাসাউফের সুশোভিত পথে পদার্পণ করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি আবুল কাসিম আন-নাসরাবাযী (রহ.)-এর সোহবত গ্রহণ করেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে আত্মিক সাধনা ও সুলুকের পথ অতিক্রম করতে থাকেন।

হাদিসশাস্ত্রেও তাঁর ছিল সুগভীর দখল। তিনি আবু আমর ইবনে হামদান, আবুল হাইসাম মুহাম্মদ ইবনে মাক্কি আল-কুশমাইহানি, আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে উমর আশ-শাবুয়ি প্রমুখ বিশিষ্ট মুহাদ্দিসের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। পরবর্তীতে তাঁর নিকট থেকেও বহু জ্ঞানপিপাসু ইলম ও হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন ইমাম আবুল কাসিম আল-কুশাইরী (রহ.), যিনি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিষ্য হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।[3]

আধ্যাত্মিক সিলসিলা:

হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক সিলসিলা ছিল তাসাউফের এক স্বর্ণালি ও সুপ্রাচীন ধারার অংশ। তিনি বলেন, আমি এই তরিকত গ্রহণ করেছি আমার শায়খ আবুল কাসিম আন-নাসরাবাযী থেকে, তিনি গ্রহণ করেছেন আশ-শিবলী থেকে, তিনি জুনাইদ বাগদাদি থেকে, তিনি সাররি সাকতি থেকে, তিনি মারুফ কারখী থেকে, আর তিনি তা গ্রহণ করেছেন তাবেইন রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর ধারাবাহিক বরকতময় সিলসিলা থেকে।

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার শায়খ আবুল কাসিম আন-নাসরাবাযীর নিকট যেতাম না, যতক্ষণ না পূর্ণরূপে গোসল করে পবিত্র হতাম। এটি ছিল তাঁর প্রতি আমার গভীর আদব, সম্মান ও হৃদয়ের ভক্তির প্রকাশ।”[4]

আধ্যাত্মিক অবস্থা:

হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক জীবনে এক গভীর পরিবর্তন ও বিস্ময়কর অবস্থার কথা বর্ণিত আছে। তিনি দীর্ঘকাল বিভিন্ন সফর ও হজে গমন করেন এবং কঠোর আত্মশুদ্ধি ও রিয়াজতের মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহমুখী করেন।

এক পর্যায়ে তিনি এমন অবস্থায় ‘রাই’ শহরে প্রবেশ করেন যে, তাঁর বাহ্যিক বেশ ছিল অত্যন্ত সাধারণ। শুধু সতর আবৃত ছিল। সেখানে তিনি একটি খানকায় অবস্থান নেন। পরে কেউ তাঁকে চিনে ফেললে লোকজন বুঝতে পারে, ইনি সেই প্রসিদ্ধ সাধক হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক। তখন উপস্থিত জনতা তাঁর জন্য দোয়া করতে থাকে এবং পুনরায় দরস ও ওয়াজের জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু তিনি প্রথমে তা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে তিনি মিম্বারে আরোহণ করে এক গভীর আধ্যাত্মিক অবস্থায় ওয়াজ শুরু করেন। তিনি ডান দিকে ইশারা করে বলেন, “আল্লাহু আকবার।” সোজাসুজি তাকিয়ে ইশারা করে তিলাওয়াত করেন وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ – আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বাপেক্ষা মহান নিয়ামত।” (সুরা আত-তাওবা: ৭২)। বাম দিকে ইশারা করে বলেন وَاللَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقَى – আর আল্লাহই সর্বোত্তম এবং চিরস্থায়ী।

তাঁর এই বয়ানে উপস্থিত সবাই এমন গভীরভাবে প্রভাবিত হয় যে, অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং কেউ কেউ আবেগের তীব্রতায় প্রায় অচেতন অবস্থায় পৌঁছে যায়। এরপর হঠাৎ তিনি মিম্বার থেকে নেমে যান এবং জনতার অজান্তে সেখান থেকে চলে যান। পরবর্তীতে তাঁকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।[5]

মুজাহাদা:

ইমাম কুশাইরি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.) কখনো কোনো কিছুর উপর হেলান দিতেন না। যেন তিনি নিজের নফসকে আরাম-আয়েশ থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখতেন।” একবার মজলিসে আমি তাঁর পেছনে বালিশ রাখার চেষ্টা করলাম, কারণ তিনি কোনো কিছুর উপর হেলান দিচ্ছিলেন না। কিন্তু তিনি সামান্য সরে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, হয়তো কাপড় বা আসনের কারণে তিনি বালিশ গ্রহণ করছেন না। পরে তিনি স্পষ্টভাবে বললেন, “আমি কোনো কিছুর উপর হেলান দিতে চাই না।” পরে আমি তাঁর অবস্থার গভীরতা উপলব্ধি করলাম, তিনি সত্যিই সর্বদা নির্ভরতা ও আরামের ভাব থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন, সম্পূর্ণরূপে আত্মসংযম ও মুজাহাদার জীবন যাপন করতেন।[6]

সুফি আবুল হাসান আল-বারনউজি (রহ.) ও হজরত আবু আলি দাক্কাক (রহ.) এর মধ্যকার একটি ঘটনা:

একদিন আবুল হাসান আল-বারনউজি (রহ.) হজরত আবু আলি দাক্কাক (রহ.)-এর নিকট আগমন করেন। তখন তাঁর পরনে ছিল পুরোনো ও ছেঁড়া এক পশমি পোশাক, আর শায়খ পরিধান করেছিলেন নতুন পোশাক। শায়খ হালকা রসিকতার সুরে বললেন, “হে আবুল হাসান, এই পশমি পোশাকটি তুমি কত দামে ক্রয় করেছ?”

তিনি এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “হে আবু আলি, হালকা করে কথা বলবেন না, আমি এটি দুনিয়া ও তার সবকিছুর বিনিময়ে অর্জন করেছি, আর জান্নাত ও তার সকল নিয়ামতের বিনিময়েও আমি এটি বিক্রি করব না।”

তাঁর এ কথা শুনে শায়খ আবু আলি (রহ.) নীরব হয়ে মাথা নত করে ফেলেন।[7]

আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনে বান্দার যোগ্যতা:

একদিন হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে মানুষের বিভিন্ন দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করছিলেন। তিনি বললেন, “মানুষ হিংসা করে, আত্মগর্বে মত্ত হয়, অহংকারে লিপ্ত থাকে এবং এ ধরনের বহু নিন্দনীয় দোষ তাদের মধ্যে বিদ্যমান।”

তখন একজন লোক জিজ্ঞেস করল, “হে শায়েখ, মানুষের মধ্যে এতসব খারাপ গুণ থাকা সত্ত্বেও কি তার মধ্যে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্যতা আছে?”

তিনি উত্তরে বললেন, “তুমি কি আল্লাহর বাণী শোনোনি, যেখানে তিনি বলেছেন يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ –  আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, আর তারাও তাঁকে ভালোবাসে। (সুরা আল-মায়িদা: ৫৪)।

অর্থাৎ, বান্দার মধ্যে ত্রুটি ও দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও যদি সে তাওবা, ইখলাস ও আল্লাহমুখী হৃদয় ধারণ করে, তবে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বিশেষ রহমত ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাকে গ্রহণ করেন।[8]

তাওয়াক্কুলের শিক্ষা:

একজন শায়েখ বর্ণনা করেন, “একদিন আমি হজরত আবু আলি দাক্কাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির মজলিসে গেলাম। মনে মনে ইচ্ছা করেছিলাম, তাঁকে ‘তাওয়াক্কুল’-এর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব। সে সময় তাঁর মাথায় ছিল একটি সুন্দর তাবারিস্তানি পাগড়ি। পাগড়িটি দেখে আমার মন তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ল। আমি বললাম, ‘হে শায়েখ, তাওয়াক্কুল কী?’

তিনি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন, ‘মানুষের পাগড়ির প্রতিও যেন তোমার লোভ না থাকে, এটাই তাওয়াক্কুল।’ এ কথা বলেই তিনি আমার অন্তরের সেই গোপন আকর্ষণের দিকেই ইঙ্গিত করলেন।”[9]

আল্লাহর সত্তার অনুধাবন ও তাসাউফের রহস্য:

একদিন হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.) মিম্বারে দাঁড়িয়ে বারবার বলতে থাকলেন, “আল্লাহ, আল্লাহ।”

তখন একজন ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করল, “হে শায়খ, আল্লাহ কী?”

তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে উত্তর দিলেন, “আমি জানি না।”

লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল, “আপনি যাঁকে জানেন না, তাঁর নাম কেন উচ্চারণ করছেন?”

তিনি বললেন, “যদি আমি ‘আল্লাহ’ না বলি, তবে আমি কী বলব?”

এই কথার মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করলেন যে, আল্লাহ তায়ালার প্রকৃত সত্তা ও তাঁর স্বরূপ কোনো সৃষ্টির পক্ষে পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, “আল্লাহর সন্ধান অন্য সবকিছুর সন্ধানের মতো নয়। মানুষ সাধারণত কোনোকিছুর সন্ধানে ব্যর্থ হলে তা ছেড়ে দেয়, কিন্তু আল্লাহর তালাশ যতই অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা অনুভব করুক না কেন, ততই তা বৃদ্ধি পায় এবং হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা আরও গভীর ও তীব্র হয়ে ওঠে।”[10]

নফসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই তরিকতের দীক্ষা:

এক ব্যক্তি হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.)-এর নিকট এসে বলল, “হে শায়খ, আমি অনেক দূর পথ অতিক্রম করে আপনার কাছে এসেছি। আপনি যেন অন্যদের তুলনায় আমার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করেন।”

তখন শায়খ বললেন, “এই উদ্দেশ্য কেবল দূরত্ব অতিক্রম করার মাধ্যমেই অর্জিত হয় না। নিকট ও দূর উভয়ই সমান। বরং তুমি যদি নিজের নফসের বিরুদ্ধে একটি মাত্র পদক্ষেপ গ্রহণ কর, তাহলেই তুমি তোমার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে।”[11]

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার উপায়:

এক ব্যক্তি হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.)-এর নিকট এসে শয়তানের কুমন্ত্রণার অভিযোগ করল।

তখন শায়খ বললেন, “তুমি তোমার অন্তরের ভূমি থেকে প্রবৃত্তির বৃক্ষ কেটে ফেলো, যাতে সেখানে শয়তানের কুমন্ত্রণার পাখিরা আর আশ্রয় নিতে না পারে, তাহলেই তুমি প্রকৃত শান্তি লাভ করবে। কারণ, যদি সেই বৃক্ষটি দাঁড়িয়ে থাকে, তবে তুমি যতবারই পাখিগুলোকে তাড়াও না কেন, তারা আবার ফিরে আসবে। কিন্তু যদি মূল থেকে গাছটি কেটে ফেলা হয়, তবে পাখিরা ছড়িয়ে পড়বে এবং তুমি স্থায়ী প্রশান্তি লাভ করবে।”[12]

ফরজের অগ্রাধিকার ও ইবাদতের ভারসাম্য:

খুশকো নামের এক ব্যবসায়ী ছিলেন হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.)-এর প্রতিবেশী। একবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে শায়খ তাঁকে দেখতে যান এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বললেন, “আমি রাতে উঠে তাহাজ্জুদের জন্য অজু করার নিয়ত করেছিলাম, কিন্তু তখন হঠাৎ আমার পিঠে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, এরপর জ্বরও এসে পড়ে।”

তখন শায়খ বললেন, “তুমি তো একজন ব্যবসায়ী; দুনিয়ার হক আদায়ে যত্নবান হও। তাহলে রাতের নামাজে এত কঠোরতার কী প্রয়োজন? তুমি কি জানো না, যে ব্যক্তি এমন কাজে ব্যস্ত হয় যা তার জন্য আবশ্যক নয়, আর যা তার উপর ফরজ তা ছেড়ে দেয়, তার পরিণতি এমনই হয়ে থাকে?”

তিনি আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, “কারও মাথাব্যথা হলে কি পায়ে ওষুধ লাগালে উপকার হয়? কিংবা কারও হাত অপবিত্র হলে কি শুধু কাপড় ধুয়ে তা পবিত্র হবে?”

এর মাধ্যমে তিনি বুঝালেন, নফল ইবাদত যতই ফজিলতপূর্ণ হোক না কেন, ফরজ দায়িত্বসমূহ তার চেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য। যেমন জাকাত প্রদান, পরিবারের ভরণপোষণ, ঋণ পরিশোধ এবং অন্যান্য ফরজ দায়িত্ব আগে আদায় করা জরুরি। এগুলো ছেড়ে নফল ইবাদতে ব্যস্ত হওয়া দ্বীনের দুর্বলতার পরিচয় বহন করে।

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, দান-সদকা, ক্ষুধার্তকে আহার করানো, অসহায়কে সাহায্য করা; এসবও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। আর যদি কেউ ফরজ দায়িত্বের পাশাপাশি নফল ইবাদতও সমন্বয় করতে পারে, তবে তা “নুরের উপর নুর”। যেমন কুরআনে ইরশাদ হয়েছে نُورٌ عَلَىٰ نُورٍ (সুরা আন-নুর: ৩৫)[13]

মুর্শিদের এক দোয়ায় উদ্দেশ্য হাসিল:

একবার এক মুরিদ হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.)-এর মজলিসে হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলল। তখন শায়খ (রহ.) তাঁকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন)।”

এ কথা শুনে সেই মুরিদ সঙ্গে সঙ্গে নিজের জিনিসপত্র নিয়ে উঠে চলে গেল। উপস্থিত লোকেরা এর কারণ জানতে চাইলে সে বলল, “শায়খ যখন আমার জন্য রহমতের দোয়া করলেন, তখনই আমার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে গেছে; তাই আর দেরি করিনি।”[14]

তাঁর আধ্যাত্মিক আকুতি:

হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.)-এর মোনাজাতগুলোতে গভীর আত্মসমর্পণ ও বিনয়ের অনন্য প্রকাশ পাওয়া যায়। তিনি অত্যন্ত বিনম্রভাবে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেন, “হে আল্লাহ, আমাকে একটি পিঁপড়ার মতো, একটি তৃণখণ্ডের মতো, এমনকি ক্ষুদ্র কণার মতো করে দাও।”

তিনি আরও আকুলভাবে মিনতি করতেন, “হে আল্লাহ, আমাকে লজ্জিত বা অপমানিত করো না। আমি তো বহুবার তোমার বান্দাদের সামনে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বড়ো বড়ো কথা বলেছি। যদি তুমি আমাকে লজ্জিত করতেই চাও, তবে এমনভাবে করো না, যাতে তা পরিচিত লোকদের সামনে প্রকাশ পায়।”

“হে আল্লাহ, যদি তুমি আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাও, তবে আমাকে সুফিদের পোশাক পরিধান করেই সেখানে রাখো। এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে পানির পাত্র। তারপর আমাকে জাহান্নামের কোনো উপত্যকায় ঘুরিয়ে দাও, যাতে আমি সেখানে তোমার বিচ্ছেদের শোকে চিরকাল বিলাপ করতে পারি; কারণ আমি সুফিদের এই পরিচয় ও অবস্থাকে গভীরভাবে ভালোবাসি।”

“হে আল্লাহ, যদি তুমি আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাও, তবে কিয়ামতের দিন কাফিররা বলবে ‘আমাদের আর তোমাদের মধ্যে পার্থক্য কী? আমরা তো শিরক করেছি ও মূর্তিপূজা করেছি, আর তোমরা তো এক আল্লাহকে বিশ্বাস করেছ এবং তাঁর ইবাদত করেছ; তবুও আমরা সবাই জাহান্নামে।’ তখন আমি তাদের কী জবাব দেব?”

“হে আল্লাহ, আমি আমার আমলের পৃষ্ঠা গুনাহের কারণে অন্ধকার করে ফেলেছি, আর তুমি সময়ের প্রবাহে দিন-রাতের মাধ্যমে আমাকে বাহ্যিকভাবে শুভ্রতা দান করেছ। হে সাদা ও কালোর স্রষ্টা, তোমার বরকতে আমার সেই কালিমা ক্ষমা করে দাও, আর তোমার দয়া ও করুণায় এই বাহ্যিক শুভ্রতাকে কবুল করে নাও।”

“হে সেই মহান সত্তা, যাকে অন্বেষণকারী খোঁজার সময় দেখতে পায় না, তবুও সে নিরন্তর তাঁকেই অনুসন্ধান করে চলে।”

“হে আল্লাহ, যদি তুমি আমাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ স্তরে প্রবেশ করাও, তবুও আমার কী লাভ হবে? কারণ আমি তো এর চেয়েও উত্তম আমল করার সক্ষমতা ছিল, কিন্তু আমি তা অবহেলা ও অলসতায় নষ্ট করেছি।”[15]

বাণী-অমৃত:

১. ইমাম আবুল কাসিম আল-কুশাইরী (রহ.) বর্ণনা করেন, তিনি আবু আলী আদ-দাক্কাক (রহ.)-কে বলতে শুনেছেন, “যে ব্যক্তি ইসলামের আদবসমূহের কোনো একটি আদবকে তুচ্ছজ্ঞান করে, তাকে সুন্নতের বরকত থেকে বঞ্চিত করা হয়। আর যে ব্যক্তি সুন্নতকে পরিত্যাগ করে, তাকে ফরজ আদায়ের তাওফিক থেকেও বঞ্চিত করা হয়। এরপর যে ব্যক্তি ফরজকেও হালকা মনে করে, আল্লাহ তার উপর এমন এক বিদআতিকে প্রভাবশালী করে দেন, যে তার সামনে বাতিল কথা উপস্থাপন করে এবং তার অন্তরে সন্দেহের বীজ বপন করে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, রসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ বাণী “যে ব্যক্তি কোনো ধনীকে তার ধন-সম্পদের কারণে সম্মান করে, তার দ্বীনের দুই-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যায়।” এর ব্যাখ্যা হলো, মানুষ মূলত তিনটি বিষয়ের সমষ্টি। অন্তর, জিহ্বা ও নফস। যখন কেউ কোনো ধনীর সামনে কেবল তার সম্পদের কারণে নিজের জিহ্বা ও নফসকে অবনত করে, তখন তার দ্বীনের দুই-তৃতীয়াংশ বিনষ্ট হয়ে যায়। আর যদি সে অন্তর থেকেও তাকে শ্রেষ্ঠ মনে করে, যেমন বাহ্যিকভাবে তার সামনে বিনয় প্রকাশ করেছে, তবে তার সমগ্র দ্বীনই বিপন্ন হয়ে যায়।

তিনি আরও বলতেন, “মানুষ দারিদ্র্য ও সম্পদ এ দু’টির মধ্যে কোনটি উত্তম, তা নিয়ে অনেক আলোচনা করেছে। কিন্তু আমার নিকট উত্তম হলো এই যে, একজন মানুষকে তার প্রয়োজন পরিমাণ রিজিক দান করা হবে, অতঃপর তাকে সেই অবস্থায় নিরাপদ ও সংযত রাখা হবে।”[16]

২. যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের সাথে অন্তরঙ্গতা গড়ে তোলে, তার আধ্যাত্মিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে কথা না বলে নিজের নফসের তাড়নায় কথা বলে, তার বক্তব্য মিথ্যায় পরিণত হয়। কারণ, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতি আসক্তি মূলত অজ্ঞতা ও সত্য না চেনার চূড়ান্ত নিদর্শন। আর আল্লাহর সাথে যার অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি হয়, তার কাছে অন্য সবকিছু অপরিচিত ও নির্জীব মনে হয়। যে ব্যক্তি সৃষ্টির প্রতি নিরাসক্ত হয়ে যায়, সে কখনো সৃষ্টির খেয়ালখুশি অনুযায়ী কথা বলে না।[17]

৩. যে ব্যক্তি নিজের শায়খের বিরোধিতা করার ইচ্ছা রাখে, সে পথ চললেও প্রকৃত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না; এমনকি একই স্থানে অবস্থান করলেও তাদের মধ্যে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

৪. যে ব্যক্তি কোনো শায়খের সঙ্গ গ্রহণ করে, কিন্তু অন্তরে তার প্রতি আপত্তি ও বিরোধিতা লালন করে, সে আসলে নিজের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।

৫. দুর্ব্যবহার ও অসদাচরণ মানুষকে তাড়িয়ে দেয়।

৬. যে ব্যক্তি আদবের ক্ষেত্রে দস্তরখানে (মজলিসে) অসভ্যতা করে, তাকে দরজা পর্যন্ত ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আর যে দরজায় অসভ্যতা করে, তাকে পশুদের দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত করা হয়।

৭. যে ব্যক্তি শুরুতেই খেদমতের দরজায় দাঁড়ায়নি, সে কীভাবে শেষ পর্যায়ে নৈকট্যের দস্তরখানে বসতে পারে?

৯. যে ব্যক্তি মুজাহাদায় (সাধনায়) অটল থাকে, সে মুশাহাদার (আধ্যাত্মিক দর্শনের) আসনে পৌঁছে যায়।

১০. আল্লাহর পথে অনুসন্ধানের আনন্দ, প্রাপ্তির আনন্দের চেয়েও বেশি; কারণ প্রাপ্তিতে বিচ্ছেদের দুঃখ থাকে, কিন্তু অনুসন্ধানে থাকে মিলনের আশা।

১১. ভালোবাসা থাকা আবশ্যক। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ – আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, আর তারাও তাঁকে ভালোবাসে।” (সুরা আল-মায়িদা: ৫৪)।

১১. যে ব্যক্তি হারাম পরিত্যাগ করে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়। যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় পরিত্যাগ করে, সে জান্নাতে পৌঁছে যায়। আর যে ব্যক্তি এ দুটির পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিষয়ও পরিত্যাগ করে, সে আল্লাহ তায়ালার নিকট পৌঁছে যায়। অর্থাৎ, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করে।

১২. তিনি আরও বলেন, ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা তাঁকে বিক্রি করেছে, এটা আশ্চর্যজনক নয়; সবচেয়ে বড়ো আশ্চর্য হলো যে ব্যক্তি নিজের আখিরাতকে দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করে।

১৩. যে ব্যক্তি সত্য কথা বলা থেকে নীরব থাকে, সে এক ‘বোবা শয়তান’।

১৪. তোমরা শাসকদের সঙ্গ থেকে দূরে থাকো; কারণ তাদের মতামত শিশুর মতো অস্থির এবং তাদের শক্তি নেকড়ে বাঘের মতো ভয়ঙ্কর।

১৫. ধনীদের জন্য দরিদ্রদের প্রতি বিনয় প্রদর্শন হলো দ্বীনের অংশ; কিন্তু দরিদ্রদের জন্য ধনীদের প্রতি বিনয় প্রদর্শন হলো বিশ্বাসঘাতকতা।[18]

ওফাতের পূর্বের আধ্যাত্মিক অবস্থা:

হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.)-এর জীবনের শেষ পর্যায়ে তাঁর আধ্যাত্মিক অবস্থায় গভীর পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। তখন তাঁর উপর দুঃখ, চিন্তা ও আত্মনিমগ্নতার প্রভাব এত প্রবল হয়ে যায় যে, তাঁর মজলিসে অল্প কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ মানুষই তাঁর বক্তব্যের গভীর অর্থ অনুধাবন করতে পারতো না। ফলে তাঁর দরস ও মজলিস ধীরে ধীরে জনশূন্য হয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে হজরত আবদুল্লাহ আনসারী (রহ.) বলেন, “যখন আবু আলি দাক্কাক (রহ.) আধ্যাত্মিক উচ্চতার শীর্ষে পৌঁছলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মজলিস মানুষের ভিড় থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছিল।”[19]

ইন্তেকাল:

তিনি ৪০৫ হিজরির জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন বলে প্রসিদ্ধ মত রয়েছে।[20]

এক ব্যক্তি তাঁর ওফাতের পর স্বপ্নে তাঁকে কাঁদতে ও অস্থির অবস্থায় দেখল। সে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কি আবার দুনিয়ায় ফিরে যেতে চান?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তবে দুনিয়ার ভালোবাসার জন্য নয়; বরং এজন্য যে, আমি তখন আমার বাহুতে শক্তি থাকবে, হাতে লাঠি নিয়ে মানুষের মাঝে ঘুরে তাদের উপদেশ দেব, সত্যের দিকে আহ্বান করব। কারণ মানুষ গাফেল; তারা জানে না তারা কী হারিয়েছে এবং কী থেকে অমনোযোগী হয়ে আছে।”

আরও বর্ণিত আছে, অন্য একজন স্বপ্নে তাঁকে দেখে জিজ্ঞেস করল, “আল্লাহ আপনার সঙ্গে কী আচরণ করেছেন?” তিনি বললেন, “তিনি আমার প্রতিটি গুনাহ ও ভুলকে একটি একটি করে গণনা করলেন, তারপর পাহাড়সম ক্ষমা করে দিলেন।”

আরও বর্ণিত আছে, আরেক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে, তিনি পুলসিরাতের উপর দিয়ে যাচ্ছেন। সেই সিরাতের প্রস্থ প্রায় পাঁচশ বছরের পথের সমান হয়ে গিয়েছিল। তিনি বিস্ময়ে বললেন, “আশ্চর্য, আমরা তো শুনতাম পুলসিরাত চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম; এখন দেখি তা এত প্রশস্ত!”

তখন শায়খ বললেন, “যেমন শুনেছো, বাস্তবও তেমনই; তবে এটি তাদের জন্য প্রশস্ত করা হয়, যারা দুনিয়াতে অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সরল পথে চলেছে। আর যারা দুনিয়াতে প্রশস্ত ও ভোগবিলাসের পথে চলেছে, তাদের জন্য এটি সংকীর্ণ হয়ে যায়।”

হজরত আবু বকর আস-সাইরাফী (রহ.), যিনি হজরত আবু আলি আদ-দাক্কাক (রহ.)-এর শিষ্যদের একজন ছিলেন। তিনি প্রায় এক বছর ধরে প্রতি জুমার নামাজের পর শায়খের মাজার জিয়ারত করতেন। তিনি বলেন, “একদিন আমি কবরের পাশে ছিলাম, তখন হঠাৎ মনে হলো কবরটি ফেটে গেল এবং শায়খ বের হয়ে এলেন। তিনি যেন উড়তে চাইছিলেন।”

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায় যাচ্ছেন?” তিনি বললেন, “আমি ‘আলিমুল মালাকুত (ফেরেশতাদের জগত)’-এর দিকে যাচ্ছি, কারণ সেখানে আমার জন্য মঞ্চ ও সম্মানের আসন প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপর তিনি উড়ে চলে গেলেন।”

শায়খ ইমাম আবুল কাসিম আল-কুশাইরী (রহ.) বলেন, একজন যুবক কান্নাকাটি করতে করতে তাঁর কাছে এলো। তিনি তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, “আমি গত রাতে স্বপ্নে দেখলাম, কিয়ামত কায়েম হয়েছে এবং আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি বলছিলাম, আমাকে জাহান্নামে নিও না; আমি তো হজরত আবু আলি দাক্কাক (রহ.)-এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম।”

তখন বলা হলো, “তুমি কি তাঁর মজলিসে উপস্থিত ছিলে?”

সে বলল, “হ্যাঁ।”

তখন ঘোষণা করা হলো, “তাহলে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও।”[21]