আধ্যাত্মিক দর্শনে ‘মাকাম’ একটি কেন্দ্রীয় ধারণা। এটি সাধকের আল্লাহমুখী যাত্রার বিভিন্ন স্তর বা পদমর্যাদাকে নির্দেশ করে। ইমাম কুশাইরি, দাতা গঞ্জবখশ এবং ইবনুল আরাবি-সহ অনেক সুফি-সাধক স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিতে মাকামের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, মাকাম অর্জন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি কঠোর সাধনা, রিয়াজত ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের ফল। নিচে তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে মাকামের আলোচনা করা হলো।

ইমাম কুশাইরি (রহ.)-এঁর ভাষ্য:

‘মাকাম’ হলো সেই মর্যাদা, যা বান্দা আল্লাহ তায়ালার দরবারে অর্জন করে। এই মর্যাদায় পৌঁছাতে তাকে অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনা করতে হয়। যেখানে সে পৌঁছায়, সেটাই তার মাকাম এবং সেখানেই তার অবস্থান হয়। প্রতিটি মাকামের নিজস্ব শর্ত আছে। যতক্ষণ সেই শর্ত পূরণ না হয়, ততক্ষণ সেই মাকামের হুকুম অর্জন করা সম্ভব নয়। এক মাকাম থেকে অন্য মাকামে যাওয়াও সম্ভব হয় না। কারণ যে তওবা করেনি, তার পক্ষে আল্লাহর দিকে পূর্ণভাবে ফিরে আসা সম্ভব নয়। আর যে পূর্ণভাবে ফিরে আসেনি, তার পক্ষে পূর্ণ তাওয়াক্কুল সম্ভব নয়। এভাবে প্রতিটি মাকাম আগের মাকামের ওপর নির্ভরশীল।

‘মাকাম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো, কোথাও স্থির হয়ে থাকা। এর মধ্যে প্রবেশ করা, ভেতরে থাকা এবং বের হওয়া, এই তিনটি অর্থও আসে। কেউ কোনো মাকামে পৌঁছেছেন কি না, তা বোঝা যায় যখন তাঁর অন্তরে এই বিশ্বাস দৃঢ় হয়ে যায় যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে এই মাকামে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এটি তাঁর জন্য একটি মজবুত ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে গেছে।

উস্তাদ আবু আলি দাক্কাক (রহ.) একটি ঘটনা বর্ণনা করতেন। হজরত ওয়াসিতি (রহ.) যখন নিশাপুরে এলেন, তখন সেখানকার মুরিদরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনাদের শায়খ আপনাদের কী হুকুম দিতেন?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘তোমাদের মুর্শিদ তোমাদের ইবাদতে লেগে থাকতে বলেন এবং তোমরা তাঁর কথামতো চলো, এটুকুই দেখাচ্ছ। কিন্তু তোমরা নফসের দিকে তাকাও না কেন? বরং নফসকে যিনি তৈরি করেছেন তাঁর দিকে তাকাও।’

হজরত ওয়াসিতি (রহ.) এই কথা বলেছিলেন শুধু তাদের অহংকার থেকে বাঁচাতে, যাতে তারা নিজেদের মাকাম নিয়ে গর্বিত না হয়ে পড়েন। এর বাইরে কাউকে অসম্মান করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।[1]

দাতা গঞ্জে বখশ লাহোরি (রহ.)-এঁর ভাষ্য:

আল্লাহর অন্বেষণকারীর সত্যনিষ্ঠ নিয়ত, রিয়াজত ও সাধনার মাধ্যমে হক তায়ালার হকসমূহ আদায়ের ওপর অটল থাকার নামই হলো ‘মাকাম’। প্রতিটি সত্যকামী ব্যক্তির এক একটি মাকাম রয়েছে, যা অন্বেষণের সময় থেকে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের শুরু পর্যন্ত তার অর্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। যখনই কোনো অন্বেষণকারী কোনো একটি মাকাম অতিক্রম করে এবং আগের মাকাম ছেড়ে দেয়, তখন সে অনিবার্যভাবে পরবর্তী কোনো একটি মাকামে স্থিত হয়, যা মূলত তার অন্তরে আগত আধ্যাত্মিক বিষয়াদির স্থান। এটি একটি যৌগিক এবং সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত বিষয়; এটি সুলুক (আধ্যাত্মিক পথচলা) বা মুয়ামালার (পারস্পরিক লেনদেন/আচরণ) অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয় নয়। যেমন পবিত্র কুরআনে এসেছে وَمَا مِنَّا إِلَّا لَهُ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ – আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার জন্য একটি নির্দিষ্ট মাকাম নেই। (সুরা আস-সাফফাত: ১৬৪)।

যেমন, হজরত আদম আলাইহিস সালামের মাকাম ছিল ‘তওবা’র, হজরত নুহ আলাইহিস সালামের মাকাম ছিল ‘জুহদ’ এর; হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মাকাম ছিল ‘তাসলিম ও রেজা’ (আত্মসমর্পণ ও তুষ্টি); হজরত মুসা আলাইহিস সালামের মাকাম ছিল ‘ইনাবত’ (আল্লাহ অভিমুখী হওয়া); হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের মাকাম ছিল ‘হযন ও মালাল’ (দুঃখ ও অনুশোচনা); হজরত ইসা আলাইহিস সালামের মাকাম ছিল ‘উমিদ ও রজা’ (আশা ও প্রত্যাশা); হজরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের মাকাম ছিল ‘খওফ ও খশিয়ত’ (ভয় ও ভীতি); এবং আমাদের নেতা বিশ্বজাহানের সরওয়ার নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাকাম ছিল ‘জিকির’ এর মকাম। প্রত্যেক ব্যক্তি প্রতিটি মাকামে যতই পারদর্শী হোক না কেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে তাকে তার মূল মাকামের দিকেই ফিরে আসতে হয়।[2]

একই কিতাবে অন্য জায়গায় তিনি বলেন, “স্পষ্ট হোক যে, মিমের ওপর পেশ দিয়ে ‘মুকাম’ বান্দার কিয়াম (দাঁড়ানো) অর্থে এবং মিমের ওপর জবর দিয়ে ‘মাকাম’ বান্দার অবস্থানের অর্থে ব্যবহৃত হয়। ‘মাকাম’ শব্দের অর্থ এবং এর বিস্তারিত বিবরণের জন্য আরবি ভাষার ব্যাকরণ বিবেচনা ও লক্ষ্য করা ভুল ও বিভ্রান্তিকর। আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী ‘মুকাম’ শব্দটিতে ইকামত (অবস্থান) ও ‘কিয়ামের জায়গা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। আল্লাহর পথে বান্দার অবস্থানের অর্থ এতে নেই। একইভাবে ‘মাকাম’ কিয়াম অর্থে ব্যবহৃত হয়। আল্লাহর পথে বান্দার কিয়ামের অর্থ এতে নেই। আর বান্দার কাজ হলো সেই মাকামের হক আদায় করা এবং তার প্রতি লক্ষ্য রাখা, যাতে যে পর্যন্ত তার সামর্থ্য রয়েছে, সে এর পূর্ণতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অবশ্য এটি সম্ভব নয় যে, মাকামের হক আদায় করা ছাড়া সে এই মাকাম অতিক্রম করে চলে যাবে। যেমন: প্রথম মাকাম হলো তওবা, এর পরে ইনাবত, তারপর জুহদ, এরপর তাওয়াক্কুল ইত্যাদি।

এর মানে হলো এটি জায়েজ নয় যে, তওবা করা ছাড়াই কেউ ইনাবত-এ পৌঁছে যাবে, অথবা ইনাবত ছাড়া জুহদ হাসিল করবে, অথবা জুহদ ছাড়া তাওয়াক্কুল পেয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জিবরাইল আলাইহিস সালামের বাণীর মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন যে, وَمَا مِنَّا إِلَّا لَهُ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ অর্থাৎ, আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাকাম নেই।[3]

ইবনুল আরাবি (রহ.)-এঁর ভাষ্য:

ইবনুল আরাবি (রহ.) একটি কবিতার মাধ্যমে মাকামের আলোচনা শুরু করেছেন।

إِنَّ المَقَامَ مِن الأَعْمَالِ يُكْتَسَبُ  *  لَه التَّعَمُّلُ في التَّحصِيلِ وَالطَّلَبُ

নিশ্চয়ই ‘মাকাম’ আমলের মাধ্যমেই অর্জিত হয়; এটি অর্জন ও অন্বেষণের জন্য প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

بِه يَكونُ كَمالُ العَارِفِينَ وَمَا  *  يَرُدُّهُم عَنهُ لا سِتْرٌ ولا حُجُبُ

এর মাধ্যমেই আরিফদের পূর্ণতা অর্জিত হয়; কোনো আবরণ বা পর্দা তাদের এটি থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে না।

لهُ الدَّوامُ وما في الغَيْبِ من عَجَبٍ  *  الحكمُ فيه له والفَضْلُ والنَّدَبُ

এর স্থায়িত্ব রয়েছে এবং অদৃশ্যের মাঝে যা রয়েছে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই; ফয়সালা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং আহ্বান সবই এতে নিহিত।

هو النـهايـةُ والأحـوالُ تـابـعـةٌ  *  وما يُـجَـلّـيـه إلا الكَـدُّ والنَّصَبُ

এটাই হলো শেষ সীমা এবং ‘হাল’ (ক্ষণস্থায়ী আধ্যাত্মিক অবস্থা) এর অনুগামী; কঠোর পরিশ্রম ও ক্লান্তি ছাড়া এটি প্রকাশিত হয় না।

إن الرسولَ مِن أجلِ الشُّكرِ قد وَرِمَتْ  *  أقدامُه وَعَلَاهُ الجَهْدُ والتَّعبُ

নিশ্চয়ই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদযুগল কৃতজ্ঞতা-স্বরূপ ইবাদত করতে করতে ফুলে গিয়েছিল এবং কঠোর শ্রম ও ক্লান্তি তাঁকে আচ্ছন্ন করেছিল।

জেনে রাখুন, মাকামসমূহ অর্জনযোগ্য বিষয়। আর তা হলো শরিয়ত নির্ধারিত হকসমূহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করা। যখন বান্দা নির্দিষ্ট সময়ে তার উপর অর্পিত কার্যাবলি, মুজাহাদা (সাধনা) এবং রিয়াজত (আধ্যাত্মিক অনুশীলন)-এর মাধ্যমে যথাযথভাবে স্থির হয়ে যায়, যা শরিয়ত-প্রণেতা তাকে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর গুণাবলি, সময়সীমা, পূর্ণতার শর্তাবলি ও এর বিশুদ্ধতার জন্য যা যা আবশ্যক তা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তখনই সে একজন ‘মাকাম’-এর অধিকারী (সাহেবে মাকাম) হিসেবে গণ্য হয়। যেহেতু সে এর প্রতিকৃতি (আমলের বাহ্যিক রূপ) সেভাবেই তৈরি করেছে, যেমনটি তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ  – তোমরা নামাজ কায়েম করো। অতঃপর তারা যখন এর পূর্ণ অবয়ব বা ইবাদতের রুহানি সুরত প্রতিষ্ঠিত করল, তখন তা থেকে একটি উড়ন্ত ফেরেশতা ও পবিত্র রুহ বের হয়ে এলো। ফলে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোথাও তার স্থির হওয়ার জায়গা থাকল না। এরপর বান্দা অন্য একটি মাকামে স্থানান্তরিত হয়, যাতে সেখানেও সে একইভাবে নিজের প্রতিকৃতি (আমলের আধ্যাত্মিক রূপ) গঠন করতে পারে। আর এভাবেই বান্দা অগ্রসর হতে থাকে।

সৃষ্টিগতভাবে এটিই হলো মাকামের অর্থ। আল্লাহওয়ালাদের মধ্যে কেউ-ই এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেননি যে, মাকাম হলো একটি স্থায়ী বিষয়, যা বিলুপ্ত হয় না, যেভাবে তারা ‘হাল’ নিয়ে মতভেদ করেছেন। তবে আমাদের নিকট বিষয়টি সরাসরি শর্তহীনভাবে গ্রহণীয় নয়; বরং এক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, মাকামসমূহের হাকিকত (মূল তত্ত্ব) ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে এবং সেগুলো একই প্রকৃতির নয়।

মাকামসমূহের মধ্যে কিছু আছে যা কোনো নির্দিষ্ট শর্তের সাথে যুক্ত; ফলে যখন সেই শর্তটি অপসারিত হয়, তখন সেই মাকামটিও চলে যায়। যেমন, ওয়ারা (পরহেজগারি তথা হারাম বা সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকা)। এটি কেবল নিষিদ্ধ অথবা অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) বিষয়ের উপস্থিতিতেই কার্যকর হয়। সুতরাং, যদি এই দুটি বিষয় (নিষিদ্ধ ও অস্পষ্ট) না থাকে, তবে সেখানে আর ‘ওয়ারা’ থাকে না। একইভাবে খওফ (ভয়) এবং রজা’র (আশা) ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

আবার তাজরিদ (সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া), যার অর্থ হলো জাগতিক উপায়-উপকরণ (আসবাব) বর্জন করা, যা সাধারণ মানুষের নিকট বাহ্যিক তাওয়াক্কুল হিসেবে পরিচিত।

মাকামসমূহের মধ্যে এমন কিছু আছে, যা মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী থাকে এবং এরপর তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন: তওবা এবং শরিয়ত নির্ধারিত দায়িত্বসমূহ পালন করা। আবার কিছু মাকাম এমন আছে, যা পরকালেও জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত বান্দার সাথে থাকে। যেমন: ভয় ও আশার সাথে সম্পৃক্ত কিছু মাকাম।

এমন কিছু মাকাম আছে, যা জান্নাতেও বান্দার সাথে প্রবেশ করবে; যেমন: উন্স (আল্লাহর সাথে অন্তরঙ্গতা), বস্ত (আধ্যাত্মিক প্রসন্নতা) এবং আল্লাহর সৌন্দর্যমণ্ডিত গুণাবলিতে (সিফাত আল-জামাল) অবগাহন করা।

মূলত মাকাম হলো যা বান্দার জন্য স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তা লাভ করে এবং তা তার নিকট থেকে দূরীভূত হয় না। যদি তা শর্তযুক্ত হয় এবং শর্তটি উপস্থিত থাকে, তবে সে সময় সেই মাকামটি প্রকাশিত হয়। এই কারণেই বলা হয়েছে যে, মাকাম চিরস্থায়ী, কারণ এটি যে কোনো সময় ব্যবহৃত হতে পারে। বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করা জরুরি।[4]

নির্যাস:

সার্বিক বিবেচনায় মাকাম হলো সুফি সাধনার পথে বান্দার অর্জিত আধ্যাত্মিক পদমর্যাদা। ইমাম কুশাইরি (রহ.) বলেন, প্রতিটি মাকামের নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে এবং পূর্ববর্তী মাকাম পূর্ণ না হলে পরবর্তী মাকামে পৌঁছানো সম্ভব নয়। দাতা গঞ্জবখশ বিভিন্ন নবীর উদাহরণ দিয়ে বোঝান যে, প্রতিটি নবীর একটি নির্দিষ্ট মাকাম ছিল। যেমন আদম (আ.)-এর তওবা, ইব্রাহিম (আ.)-এর তাসলিম ও রেজা, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জিকির ইত্যাদি। ইবনুল আরাবি কবিতার মাধ্যমে বলেন, মাকাম কঠোর পরিশ্রম ও মুজাহাদার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। তিনি আরও বিশ্লেষণ করেন যে, কিছু মাকাম সাময়িক, কিছু মৃত্যু পর্যন্ত এবং কিছু জান্নাতেও বান্দার সাথে থাকে। সামগ্রিকভাবে মাকাম হলো স্থায়ী, দৃঢ় এবং শরিয়তসম্মত আমলের ফসল।