লাহোরের রংমহল এলাকার কাছে সেদিন বিকেলের আলো পড়ে এসেছিল। ‘রাবি’ মন্দিরের সামনে ভক্তদের ভিড়, ধূপের ধোঁয়া বাতাসে ভাসছে। এক ভক্ত দুই হাতে গমের রুটির নৈবেদ্য নিয়ে মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে।
সেই মুহূর্তে হজরত দাতা গঞ্জে বখশ রহমাতুল্লাহি আলাইহি সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি থামলেন। তারপর শান্ত ও গভীর কণ্ঠে সেই পাথরের মূর্তিকে বললেন, “আল্লাহর হুকুমে এই খাবার গ্রহণ করো।”
মূর্তি খাবার গ্রহণ করল। উপস্থিত মানুষের চোখ স্থির হয়ে গেল। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোহিত এই দৃশ্যে আনন্দিত হলেন না, বরং ক্রোধে জ্বলে উঠলেন। তিনি সেই ভক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করলেন, যার হাতে নৈবেদ্য ছিল। রায় দিলেন, এই লোক সমাজচ্যুত।
সেই ভক্ত কিছুদিন পর হজরতের কাছে এলেন মাথা নত করে। বললেন, কেউ তাঁর কথা বিশ্বাস করছে না, আপনজনেরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
হজরত বললেন, সবাইকে একসাথে নিয়ে এসো। নির্ধারিত দিনে মন্দির প্রাঙ্গণে লোকজন জমা হলো। হজরত এলেন, নীরবে। একবার মূর্তির দিকে তাকালেন, তারপর বললেন, “এই খাবারটি গ্রহণ করো।”
মূর্তি আবার গ্রহণ করল। ভিড়ের মধ্যে নিঃশ্বাস থেমে গেল। তখন হজরত জনতার দিকে ফিরে বললেন, “আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তাঁর হুকুমে পাথরও সাড়া দেয়। তাহলে এই নির্জীব মূর্তির কাছে কী চাইছো তোমরা? ফিরে এসো সেই সত্তার দিকে, যাঁর ইশারায় পাথর জীবন পায়।”
সেই কথা বুকে গিয়ে বিঁধল। সেদিন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকে কালিমা পড়লেন এবং ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নিলেন। আর সেই ভক্ত বুঝলেন, যে পথ দিয়ে তিনি একা হয়ে গিয়েছিলেন, সেই পথই তাঁকে সত্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।