সুফি সাধনার পথে অন্তরে যে আধ্যাত্মিক ভাব অবতীর্ণ হয়, তাকে বলা হয় ওয়ারিদ। বান্দার নিজের কোনো কৃত্রিম চেষ্টা ছাড়াই এটি আসে। কখনো আনন্দ হয়ে, কখনো বিষাদ হয়ে, কখনো কবজ হয়ে, কখনো বাসত হয়ে। ওয়ারিদ খাওয়াতিরের চেয়ে ব্যাপক। কারণ খাওয়াতির কেবল নির্দিষ্ট চিন্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ওয়ারিদ পুরো আত্মিক অবস্থাকে আলোড়িত করতে পারে। ওয়ারিদ আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে, আধ্যাত্মিক জ্ঞানের আলো থেকে, বা ইলাহি নামসমূহের পক্ষ থেকে। ওয়ারিদ আসে, বার্তা পৌঁছে দেয়, তারপর চলে যায়; এটাই তার স্বভাব। এই বিদায়ের মধ্যে আছে পরের ওয়ারিদের জন্য অন্তরকে প্রস্তুত রাখার গভীর হিকমত।
ইমাম কুশাইরির ভাষ্য:
ইমাম কুশাইরি ওয়ারিদের সহজ কিন্তু মূল সংজ্ঞা দিয়েছেন। বান্দার নিজের কোনো কৃত্রিম চেষ্টা ছাড়াই অন্তরে যে প্রশংসনীয় ও সৎ চিন্তা অবতীর্ণ হয়, তাই ওয়ারিদ। তিনি দেখিয়েছেন ওয়ারিদ খাওয়াতিরের চেয়ে ব্যাপক, কারণ এটি শুধু চিন্তা নয়, পুরো আত্মিক অবস্থাকে স্পর্শ করতে পারে। ওয়ারিদ আল-হক বা ইলমের আলো থেকে আসতে পারে এবং আনন্দ, বিষাদ, কবজ, বাসত প্রভৃতি নানা রূপে অবতীর্ণ হয়।
তিনি বলেন, সুফি সাধকগণের কথাবার্তা ও আলোচনায় ওয়ারিদাত তথা অন্তরে অবতীর্ণ ভাবসমূহের কথা প্রায়ই উঠে আসে।
বান্দার নিজের কোনো কৃত্রিম চেষ্টা ছাড়াই অন্তরে যে-সকল প্রশংসনীয় ও সৎ চিন্তা অবতীর্ণ হয়, তা-ই ওয়ারিদ। সুফি পরিভাষায় অন্তরের এই সৎ চিন্তাগুলোকে খাওয়াতির বলা হয়।
আবার মানুষের অন্তরে জাগ্রত এমন কিছু ভাব বা অবস্থাও রয়েছে যা ঠিক সাধারণ চিন্তার পর্যায়ভুক্ত নয়, সেগুলোকেও ওয়ারিদ হিসেবেই গণ্য করা হয়।
অতঃপর, এই ওয়ারিদ কখনো আল-হাক তথা পরম সত্যের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়, আবার কখনো তা ইলম তথা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের আলো থেকে আসে।
এই গভীরতার কারণে ওয়ারিদাত তথা অন্তরে অবতীর্ণ ভাবসমূহ খাওয়াতির তথা সাধারণ চিন্তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক ও সার্বজনীন। কারণ খাওয়াতির কেবল নির্দিষ্ট কোনো সম্বোধন কিংবা কেবল চিন্তার অর্থের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে। পক্ষান্তরে ওয়ারিদাত মানুষের পুরো আত্মিক অবস্থাকে আলোড়িত করতে পারে। যেমন কখনো তা আনন্দের ওয়ারিদ হয়ে আসে, কখনো বিষাদের ওয়ারিদ হয়ে আসে, কখনো কবজ তথা অন্তরের সংকোচনের ওয়ারিদ হয়ে আসে, আবার কখনো বাসত তথা অন্তরের প্রসারণের ওয়ারিদ হয়ে আসে। এভাবে আরও নানাবিধ গভীর ও সূক্ষ্ম আত্মিক ভাবের রূপে তা অবতীর্ণ হতে পারে।[1]
ইবনে আরাবি (রহ.)-এঁর ভাষ্য:
ইবনে আরাবি ওয়ারিদকে অনেক গভীরে নিয়ে গেছেন। তাঁর মতে ওয়ারিদ প্রতিটি ইলাহি নামের পক্ষ থেকে অন্তরে জাগ্রত হয়। ওয়ারিদ দুই ধরনের। কোনো নির্দিষ্ট উৎস থেকে আগত, আর সরাসরি চিরন্তন ওয়ারিদ। প্রতিটি ওয়ারিদ কোনো না কোনো উপকার নিয়েই আসে। আনন্দ বা কষ্ট ওয়ারিদের প্রকৃত প্রভাব নয়, জ্ঞান অর্জনই তার আসল ফল। ওয়ারিদ বার্তা পৌঁছে দিয়ে চলে যায়। এতে পরের ওয়ারিদের জন্য অন্তর খালি থাকে। নিশ্বাসই হলো নতুন সৃষ্ট ওয়ারিদের বাহক, আর ইলাহি নামসমূহের ভিন্নতার কারণেই ওয়ারিদের রূপ ভিন্ন হয়। কোনো ওয়ারিদ জ্ঞান নিয়ে আসে, কোনোটি কর্ম নিয়ে, কোনোটি হাল নিয়ে। আর সাহউ ও সুকরের ওয়ারিদ সবচেয়ে শক্তিশালী। যে ওয়ারিদ নতুন সৃষ্টি নয়, সেটি আল্লাহ ও বান্দার মাঝের সব পর্দা সরে যাওয়ার নাম। খুব কম অলির ভাগ্যে এটি ঘটে।
تَعَشَّقْتُ بِالصَّادِرِ الوَارِدِ تَعَشُّقَ شَفْعِي بِالوَاحِدِ
অবতীর্ণ ওয়ারিদের প্রেমে আমি এমনভাবে মগ্ন হয়েছি, যেভাবে জোড় সংখ্যা মগ্ন হয় এক-এর প্রেমে।
وَأَسْمَاؤُهُ كُلُّهَا وَارِدٌ سِرَاعاً لِتَخْفَى عَلَى الرَّاصِدِ
আর তাঁর প্রতিটি নামই অতি দ্রুত ধাবমান ওয়ারিদ, যেন তা পর্যবেক্ষণকারীর দৃষ্টির আড়ালে থাকে।
وَتُعْطِي بِآثَارِهَا هِمَّةً إِلَى كُلِّ قَلْبٍ لَهَا قَاصِدِ
এবং এগুলো নিজের প্রভাবের মাধ্যমে সেই প্রতিটি অন্তরে উচ্চসংকল্প এনে দেয়, যা তাকে পাওয়ার ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।
সুফি সাধকগণের মতে এবং আমাদের কাছে ওয়ারিদ হলো তা-ই, যা প্রতিটি ইলাহি নামের পক্ষ থেকে মানুষের অন্তরে জাগ্রত বা অবতীর্ণ হয়। তাই ওয়ারিদ নিয়ে আলোচনা করার সময় তার বর্তমান আগমনী অবস্থার দিকেই নজর দিতে হবে, অতীতে তা কীভাবে এসেছিল সেভাবে নয়।
কেননা কখনো তা সাহব তথা আত্মসচেতনতা, কখনো সুকর তথা আধ্যাত্মিক মত্ততা, কখনো কবজ তথা অন্তরের সংকোচন, কখনো বাসত তথা অন্তরের প্রসারণ, কখনো হাইবাত তথা আধ্যাত্মিক গাম্ভীর্য, আবার কখনো উনস তথা আধ্যাত্মিক প্রশান্তি সহ এমন অগণিত অবস্থার মাধ্যমে আসতে পারে; যার প্রতিটিই মূলত একেকটি ওয়ারিদাত। তবে সুফিরা পরিভাষাগতভাবে কেবল আমাদের উল্লেখ করা প্রশংসনীয় খাওয়াতির তথা অন্তরের সৎ চিন্তাসমূহকেই ওয়ারিদ নামে অভিহিত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
অতএব হে আমার ভাই, জেনে রাখুন যে, ওয়ারিদ তার নিজস্ব রূপের দিক থেকে নতুন সৃষ্টি কিংবা অনাদিত্বের কোনো গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা নিজের অনাদিত্ব সত্ত্বেও নিজেকে আগমন করার গুণে ভূষিত করেছেন, আর অবতীর্ণ হওয়াও তো এক ধরনের আগমনই।
আগমনের ক্ষেত্রে এই ওয়ারিদের নানাবিধ অবস্থা হতে পারে; কখনো তা হুজুম তথা আকস্মিক আধ্যাত্মিক আক্রমণ এবং বাওয়াদিহ তথা অন্তরে জেগে ওঠা অতর্কিত ভাবের মতো আচমকা অবতীর্ণ হতে পারে। আবার কখনো তা এভাবে আচমকা না এসে, যার ওপর ওয়ারিদ অবতীর্ণ হচ্ছে তার অনুভূতির মাধ্যমেও প্রকাশ পেতে পারে; যা এমন কিছু লক্ষণ এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, যা অন্তরের আধারের যোগ্যতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের আগমনকে নির্দেশ করে।
মনে রাখবেন, প্রতিটি ইলাহি ওয়ারিদ কোনো না কোনো আধ্যাত্মিক উপকার নিয়েই অবতীর্ণ হয়। তা জাগতিক হোক কিংবা অজাগতিক হোক; এমন কোনো ইলাহি ওয়ারিদ নেই যা উপকারহীন। আর প্রতিটি ওয়ারিদের মধ্যকার সার্বজনীন উপকারিতাটি হলো— এর অবতীর্ণ হওয়ার ফলে বান্দার অন্তরে যে জ্ঞান অর্জিত হয়। এর জন্য এমন কোনো বিষয় শর্ত নয়, যা তাকে আনন্দিত করবে কিংবা ব্যথিত করবে; কারণ আনন্দ বা কষ্ট দেওয়া তো ওয়ারিদের প্রকৃত প্রভাব নয়, বরং ওয়ারিদের প্রভাব তো তা-ই, যা জ্ঞান হিসেবে অর্জিত হয় এবং এর সাথে যুক্ত অন্যান্য বিষয়সমূহ। এটি মূলত যা অবতীর্ণ হচ্ছে তার গুণের ওপর নির্ভর করে, তার নিজস্ব সত্তার ওপর নয়। যেমন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা মানুষের মাঝে চূড়ান্ত ফয়সালা করার জন্য আগমন করবেন। তখন কোনো মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হবে সৌভাগের দিকে, আবার কারও ভাগ্য নির্ধারিত হবে দুর্ভাগের দিকে। যদিও আল্লাহর আগমন এবং তাঁর বিচার একটাই, কিন্তু মানুষের অবস্থা ভেদে এর প্রয়োগ ও ফলাফল ভিন্ন ভিন্ন হয়।
ওয়ারিদের আগমন দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত, তা কোনো নির্দিষ্ট উৎস থেকে আসতে পারে; তখন যে ব্যক্তি এটি লাভ করছেন তার সাপেক্ষে তা হলো ওয়ারিদ অর্থাৎ আগত ভাব, আর যে উৎস থেকে তা আসছে তার সাপেক্ষে তা হলো সাদির অর্থাৎ উৎসগত ভাব। দ্বিতীয়ত, তা যদি কোনো উৎস থেকে নির্গত না হয়ে সরাসরি আসে, তবে তা হবে একটি অনাদি বা চিরন্তন ওয়ারিদ। আসলে, অবতীর্ণ হওয়া বা প্রকাশ পাওয়া হলো একটি আত্মিক সম্পর্ক মাত্র, যা বান্দার অন্তরে ওয়ারিদ আসার মুহূর্তে তৈরি হয়। সুতরাং প্রথম প্রকারটি একই সাথে সাদির ও ওয়ারিদ, কিন্তু দ্বিতীয় প্রকারটি কেবলই ওয়ারিদ।
মনে রাখা প্রয়োজন, আল্লাহর ইলাহি নামসমূহ ছাড়া অন্য কোনো অনাদি বিষয় অন্তরে অবতীর্ণ হয় না। এখন এই নামগুলো যদি সরাসরি তাদের মূল সত্তার দিক থেকে অন্তরে প্রকাশ পায়, তবে অবতীর্ণ হওয়ার ধরনে কোনো তফাত থাকে না। কিন্তু নামগুলো যখন তাদের নিজ নিজ প্রভাব বা কর্মের দিক থেকে প্রকাশ পায়, তখন সেই প্রভাবের ভিন্নতার কারণে ওয়ারিদের রূপও বদলে যায়। কারণ প্রতিটি নামের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আলাদা, যদিও সব নামই মূলত এক আল্লাহকেই নির্দেশ করে।
ওয়ারিদ অনাদি হোক কিংবা নতুন সৃষ্টি হোক; তা অন্তরে যা কিছু নিয়ে আসে, তা অবশ্যই নতুন রূপেই আসে। আর সেটিই মূলত বান্দার কাছে স্থায়ী বা অবশিষ্ট থাকে। এরপর ওয়ারিদ বিদায় নেয় এবং তার বিদায় নেওয়াটাই স্বাভাবিক নিয়ম। এর মূল কারণ হলো ওয়ারিদের মর্যাদা রক্ষা করা; কেননা এর পরপরই অন্য আরেকটি ওয়ারিদ সেই অন্তরে অবতীর্ণ হবে। তখন বান্দার জন্য নতুন ওয়ারিদটিকে গ্রহণ করা এবং আগের ভাবটি থেকে মন সরিয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। এতে প্রথম ওয়ারিদের প্রতি অবহেলা বা অসম্মান প্রকাশ পেতে পারে। এই কারণেই প্রথম ওয়ারিদটি নিজের বার্তা বা দান অর্পণ করার পরেই বিদায় নেয়। পরবর্তীতে যখন দ্বিতীয় ওয়ারিদটি আসে, তখন সে মানুষের অন্তরকে সম্পূর্ণ খালি পায় এবং অন্তরও তাকে সাদরে স্বাগত জানায়। সেখানে এমন কোনো চিন্তা বা খেয়াল অবশিষ্ট থাকে না, যা নতুন ওয়ারিদকে বাধা দেবে বা দূরে সরিয়ে রাখবে। ফলে প্রতিটি ওয়ারিদই নিজের পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে বিদায় নেয় এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁর দরবারে সেই বান্দার আধ্যাত্মিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। আর এই প্রশংসাই বান্দার জন্য প্রকৃত সৌভাগ্য বয়ে আনে।
প্রকৃতপক্ষে, ওয়ারিদাতসমূহ যদি নতুন সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে তা নিশ্বাসসমূহেরই বিভিন্ন রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। আর এই নিশ্বাসের মাধ্যমে যে-সকল আত্মিক অবস্থা ও বিধান অবতীর্ণ হয়, সুফি সাধকগণ সেগুলোকে ওয়ারিদাত নামে চেনেন। কারণ এই নিশ্বাসই হলো ওয়ারিদাতসমূহের বাহ্যিক রূপের বাহক। অতএব, নতুন সৃষ্ট ওয়ারিদাতসমূহ কোনো স্বাধীন বা আলাদা সত্তা নয়; বরং তা নিশ্বাসেরই ভিন্ন ভিন্ন রূপ। ইলাহি নামসমূহের প্রভাবের ভিন্নতার কারণেই এই রূপগুলোও আলাদা দেখায়।
সুতরাং, নিশ্বাসের ক্ষেত্রে এই রূপের সম্পর্কটি ঠিক জওহর তথা মূল উপাদানের অনুগামী হওয়া আরদ তথা আকস্মিক গুণের মতো। কারণ জওহর-ই স্থান দখল করে, আরদ নিজে একা স্থান নিতে পারে না। ঠিক একইভাবে, নিশ্বাসই হলো আসল ওয়ারিদ, তার রূপটি নয়।
আর এই রূপের ভেতরের আধ্যাত্মিক উপকারিতা হলো রসুলের কাছে আসা রিসালাত তথা ঐশী বার্তার মতো। অতএব, কোনো ওয়ারিদ আসে জ্ঞান নিয়ে, কোনোটি আসে কর্ম নিয়ে, কোনোটি আবার এই দুই শক্তিকেই একসাথে মিলিয়ে আনে। কোনো ওয়ারিদ আসে হাল তথা উচ্চ আধ্যাত্মিক অবস্থা নিয়ে, কোনোটি আসে জ্ঞান ও অবস্থা নিয়ে, কোনোটি আসে কর্ম ও অবস্থা নিয়ে, আর কোনো কোনো ওয়ারিদ জ্ঞান, কর্ম ও অবস্থা এই তিনটিকেই একসাথে নিয়ে অবতীর্ণ হয়। যেমন সাহউ তথা আত্মসচেতনতা এবং সুকর তথা আধ্যাত্মিক মত্ততার ওয়ারিদ; যা সমস্ত ওয়ারিদাতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী।
আর ওয়ারিদ যদি নতুন সৃষ্টি না হয়, তবে তাকে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর বান্দার মাঝখানের সমস্ত মাধ্যম বা পর্দা দূর হয়ে যাওয়া বলে গণ্য করা হয়। এটি এমন এক তাজাল্লি, যা প্রতিটি সৃষ্টির জন্য নির্ধারিত বিশেষ আধ্যাত্মিক দিকের সাথে সরাসরি যুক্ত। এর মাধ্যমে বান্দা কী লাভ করে এবং তা বান্দাকে কী দান করে, তা জাগতিক ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। আল্লাহর অলিদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকেরই এমন মহাসৌভাগ্য অর্জিত হয় এবং সমস্ত ওয়ারিদাতসমূহের মধ্যে এর কোনো তুলনা নেই। আর আল্লাহ তায়ালা সত্য কথাই বলেন এবং তিনিই সরল পথ প্রদর্শন করেন।[2]
দুই মনীষীর আলোচনা একসাথে পড়লে ওয়ারিদের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে ওঠে। কুশাইরি মূলগত সংজ্ঞা ও স্তর নির্ধারণ করেছেন সহজ ভাষায়। ইবনে আরাবি সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ওয়ারিদের গভীর রহস্য উন্মোচন করেছেন— উৎস, প্রভাব, আগমনের ধরন এবং সর্বোচ্চ ওয়ারিদের স্বরূপ পর্যন্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো ওয়ারিদ আসে এবং যায়, এটাই তার স্বভাব। সাধকের কাজ হলো প্রতিটি ওয়ারিদকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করা, তার বার্তা অন্তরে ধারণ করা এবং পরের ওয়ারিদের জন্য অন্তরকে পরিষ্কার রাখা। যে ব্যক্তি এই আদব রক্ষা করতে পারেন, তাঁর আধ্যাত্মিক অগ্রগতি আল্লাহর দরবারে প্রশংসিত হয়। আর এটাই প্রকৃত সৌভাগ্য।